ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশের জেলা উপোজেলা পর্যায়ে দৈনিক স্বতঃকণ্ঠে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে । আগ্রহী প্রার্থীগন জীবন বৃত্তান্ত ইমেইল করুন shatakantha.info@gmail.com

অনাহারে দিন কাটছে পদ্মার মাঝি পরিবারে

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত সময় ১২:১৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২০
  • / 11

তারেক মাহমুদ, রাজশাহীঃ ‘না প্যারছি বুলতে না পারছি কারো কাছে হাত পাততে! পদ্মায় গত মাসে বিয়ের নৌকা ডুবির পরে প্রশাসনের নির্দেশে তিনটি নৌকায় ৬০ টি লাইফ জ্যাকেট কিনি লোনের টাকা দিয়ে। এখন হাতে কোনো টাকা নেই। তিনটা নৌকা আর কর্মচারি আছে চারজন।

গত মাসের ১৫ তারিখে পদ্মায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়েছে। এই ২৭ দিন থেকে কারো কোনেরা কাজ নেই। কর্মচারিদের পরিবারগুলোকে কিছু বাজার করে দিয়েছি কয়েক দিন আগে। এখন নিজের সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। এভাবেই বলছিলেন নগরীর লালহ শাহ পার্ক এলাকার নৌকার মাঝি সাগর শেখ।

করোনার প্রভাবে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে মাস খানিক থেকে নৌকা চলাচল বন্ধ। নৌকার মালিকরা এখন তাদের মাঝিদের বেতন দিতে পারছে না। এখন স্বয়ং নৌকা মালিকদের পরিবার চালাতে হিমসিম অবস্থা। তাদের পরিবারেও খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) পদ্মা নদীতে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা গার্ডেন, লালন শাহ পার্ক ও টি-বাঁধ এলাকার মাঝিরা অলস সময় অতিবাহিত করছেন। তারা জানাচ্ছেন, এখন তাদের কাজ নেই। সরকারি-বে-সরকারি ত্রাণের অপেক্ষায় আছেন তারা। মাঝিদের সাথে কথা বলে জানা মাঝিরাএখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ সহযোগিতা পান নি।

মাঝি শাকিব জানান, কয়েক দিন আগে মালিক কিছু বাজার করে দিয়েছিলেনÑ এখন মালিকেরও খারাপ অবস্থা। তিনি লাইফ জ্যাকেট কিনে এখন তার হাতে কোনো টাকা নেই। তাই তাকেও কিছু বলতে পারছি না। এতোদিন কোনো মতে সংসার চললেও এখন আমাদের নাভিঃশ্বাস অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরেক মাঝি রাজিব জানান, কয়েক দিন থেকে পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। পরিবারের সদস্যদের মুখের দিকে তাকাতে পারছি না। এই মুহূর্তে যদি কারো সহযোগিতা না পাই তবে কী হবে জানি না!

টি-বাঁধ এলাকার মাঝি রুবেল জানান, আমার দুইটা নৌকা আছে। কয়েক সপ্তাহ থেকে শহরে লোকজন নেই। করোনায় এখন সব বন্ধ। এখন কোনো ভাড়া নেই। এর মাঝে প্রায় ৪০ টি লাইফ জ্যাকেট কিনেছি লোন করে। যা টাকা ছিলো সব শেষ। দুইজন কর্মচারিÑ তাদেরও সহযোগিতা করতে পারছি না।

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক জানান, পদ্মার মাঝিদের লিস্ট করে যে পরিবারগুলো সিটি করপোরেশনের মাঝে পড়ে এবং যেসব পরিবার পবার মাঝে পড়ে তাদের সবাইকে দরখাস্ত দিতে হবে।

অনাহারে দিন কাটছে পদ্মার মাঝি পরিবারে

প্রকাশিত সময় ১২:১৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২০

তারেক মাহমুদ, রাজশাহীঃ ‘না প্যারছি বুলতে না পারছি কারো কাছে হাত পাততে! পদ্মায় গত মাসে বিয়ের নৌকা ডুবির পরে প্রশাসনের নির্দেশে তিনটি নৌকায় ৬০ টি লাইফ জ্যাকেট কিনি লোনের টাকা দিয়ে। এখন হাতে কোনো টাকা নেই। তিনটা নৌকা আর কর্মচারি আছে চারজন।

গত মাসের ১৫ তারিখে পদ্মায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়েছে। এই ২৭ দিন থেকে কারো কোনেরা কাজ নেই। কর্মচারিদের পরিবারগুলোকে কিছু বাজার করে দিয়েছি কয়েক দিন আগে। এখন নিজের সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। এভাবেই বলছিলেন নগরীর লালহ শাহ পার্ক এলাকার নৌকার মাঝি সাগর শেখ।

করোনার প্রভাবে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে মাস খানিক থেকে নৌকা চলাচল বন্ধ। নৌকার মালিকরা এখন তাদের মাঝিদের বেতন দিতে পারছে না। এখন স্বয়ং নৌকা মালিকদের পরিবার চালাতে হিমসিম অবস্থা। তাদের পরিবারেও খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) পদ্মা নদীতে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা গার্ডেন, লালন শাহ পার্ক ও টি-বাঁধ এলাকার মাঝিরা অলস সময় অতিবাহিত করছেন। তারা জানাচ্ছেন, এখন তাদের কাজ নেই। সরকারি-বে-সরকারি ত্রাণের অপেক্ষায় আছেন তারা। মাঝিদের সাথে কথা বলে জানা মাঝিরাএখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ সহযোগিতা পান নি।

মাঝি শাকিব জানান, কয়েক দিন আগে মালিক কিছু বাজার করে দিয়েছিলেনÑ এখন মালিকেরও খারাপ অবস্থা। তিনি লাইফ জ্যাকেট কিনে এখন তার হাতে কোনো টাকা নেই। তাই তাকেও কিছু বলতে পারছি না। এতোদিন কোনো মতে সংসার চললেও এখন আমাদের নাভিঃশ্বাস অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরেক মাঝি রাজিব জানান, কয়েক দিন থেকে পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। পরিবারের সদস্যদের মুখের দিকে তাকাতে পারছি না। এই মুহূর্তে যদি কারো সহযোগিতা না পাই তবে কী হবে জানি না!

টি-বাঁধ এলাকার মাঝি রুবেল জানান, আমার দুইটা নৌকা আছে। কয়েক সপ্তাহ থেকে শহরে লোকজন নেই। করোনায় এখন সব বন্ধ। এখন কোনো ভাড়া নেই। এর মাঝে প্রায় ৪০ টি লাইফ জ্যাকেট কিনেছি লোন করে। যা টাকা ছিলো সব শেষ। দুইজন কর্মচারিÑ তাদেরও সহযোগিতা করতে পারছি না।

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক জানান, পদ্মার মাঝিদের লিস্ট করে যে পরিবারগুলো সিটি করপোরেশনের মাঝে পড়ে এবং যেসব পরিবার পবার মাঝে পড়ে তাদের সবাইকে দরখাস্ত দিতে হবে।