আটঘরিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দূর্ণীতি ও বদলীর দাবিতে অভিভাবক এলাকাবাসির বিক্ষাভ মিছিল

আটঘরিয়া (পাবনা) প্রতিনিধিঃ পাবনার আটঘরিয়ার রতিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা খাতুনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দূর্ণীতি, বদলির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল মানববন্ধন করেছে অভিভাবক ও এলাকাবাসি। এঘটনায় গতকাল শনিবার বিদ্যালয়ের সামনে চাঁদভা-খিদিরপুর সড়কে দুই পাশে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহন করেন অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকার হাজার হাজার সাধারন মানুষ।

এলাকাবাসি ও অভিভাবক জানান, দীর্ঘ দিন ধরে প্রধান শিক্ষক মোছাঃ সেলিনা খাতুন বিদ্যালয়ের সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ ও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে সার্টিফিকেট বাবদ টাকা লেনদেন সহ নানা অনিয়ম ও দূর্ণীতি বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মঞ্জুর রহমান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২৪ ফেব্রæয়ারি তারিখে প্রধান শিক্ষকের এই অনিয়ম ও দূর্ণীরি বিষয়ে তদন্ত অনুষ্ঠিত হর্বে জেনে প্রধান শিক্ষক আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে পালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতূভাষা দিবস উপলক্ষে শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রোদ্ধা নিবেদনের জন্য স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আব্দুল বারীকে আমন্ত্রণ করা হয়। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাআব্দুল বারীর আসা একটু দেরী হওয়ায় প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ ও অপমান করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসি,অভিভাবক ও শিক্ষকবৃৃন্দ এর প্রতিবাদ করলে প্রধান শিক্ষক সেলিনা খাতুনের স্বামী অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক সিরাজুল ইসলামকে ডেকে এনে মুক্তিযোদ্ধাকে বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ অপমানিত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসি, অভিভাবকদের সাথে প্রধান শিক্ষক সেলিনা খাতুনের সাথে কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এসময় প্রধান শিক্ষক সেলিনা খাতুন থানায় অভিযোগ দিয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ২১শে ফেব্রুয়ারি বিকালে থানা পুলিশ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ মঞ্জুর রহমানকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

অভিভাবক ও এলাকাবাসি জানান, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মঞ্জুর রহমানকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা থেকে মুক্তি না দিলে আমাদের ছেলে মেয়েদেরকে স্কুলে পাঠাবো না। এই দূর্ণীনিবাজ প্রধান শিক্ষক সেলিনা খাতুনকে অন্যত্রে বদলী করা না হলে শিক্ষারমান ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জুবায়দা খাতুন বলেন, দূর্ণীতিবাজ প্রধান শিক্ষক সেলিনা খাতুনের অপসারন চাই। তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ প্রতিনিয়তই আতœসাৎ করে আসছেন। বিদ্যালয়ের টয়লেট নিজে একাই ব্যবহার করেন। ছাত্রছাত্রীদেরকে ব্যবহার করতে দেন না। জোর করে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য ছাত্র-ছাত্রীদেরকে চাপ সৃষ্টি করেন তিনি।

বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আব্দুল বারী জানান, আমাকে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রোদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রধান শিক্ষক আমন্ত্রণ করেন্। আমার আসা একটু দেরি হওয়া সে নিজেই শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং উক্ত প্রধান শিক্ষক ও তার স্বামী সিরাজুল ইসলামকে দিয়ে তখন আমাকে দেখে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান অপদস্থ্য করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম কামাল জানান, একজন প্রধান শিক্ষক বারবার দূর্ণীতি করে পার পেয়ে যাবে এটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা গ্রহন করা দরকার। একজন প্রধান শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করেছে এটা সহ্য করা হবে না। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার আহবান জানান তিনি।

শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুম মনিরা বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়্যাাম্যান তানভীর ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক সেলিনা খাতুনের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সত্যতা প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি আরও বলেন একজন মুক্তিযোদ্ধাকে চরম অপমান করা হয়েছে। জাতি কলঙ্কিত্, অপমান হয়েছে এর কঠোর বিচার হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন