ঢাকা ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশের জেলা উপোজেলা পর্যায়ে দৈনিক স্বতঃকণ্ঠে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে । আগ্রহী প্রার্থীগন জীবন বৃত্তান্ত ইমেইল করুন shatakantha.info@gmail.com

আশ সংগ্রহে ঝুঁকছেন মাছ ব্যবাসায়ীরা
প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই মণ অঁাশ সংগ্রহ

ফুলবাড়ি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত সময় ০২:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ নভেম্বর ২০২২
  • / 85


ফেলে দেয়া মাছের অঁাশ থেকে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার মাছ ব্যবসায়ীরা। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই মণ মাছের ভেজা অঁাশ সংগ্রহ করাসহ শুখিয়ে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
জানা যায়, বড় মাছ কেনার সময় ঝুটঝামেলা থেকে রেহাই পেতে বেশিরভাগ ক্রেতাই কেটে নেন মাছ। ইতোপূর্বে বড় মাছ কাটার সময় মাছের অঁাশ চেষে ফেলে দিতেন ব্যবসায়ীরা। তবে সেই অঁাশও যে টাকায় বিক্রি হয় তা জানতেন না কেউ-ই। বর্তমানে সেই অঁাশ-ই বাড়তি আয়ের পথ হয়ে দঁাড়িয়েছে। উপজেলার ৪৫-৫০ জন ব্যবসায়ী রোজ অঁাশ সংগ্রহ করছেন। বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই মণ মাছের ভেজা অঁাশ সংগ্রহ হচ্ছে। যা মাছ ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে রোদে শুখিয়ে নিচ্ছেন। পরে সেই শুখনো অঁাশ ব্যবসায়ীদের থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন সৈয়দপুর, নওগঁা ও রাজশাহী থেকে আসা অঁাশ ব্যবসায়ীরা। সেই অঁাশ থেকে জাপান, চীন, ইন্দোনেশীয়া, কোরিয়া ও থাইল্যাণ্ডসহ বিভিন্ন দেশে তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের প্রসাধনীসামগ্রী, ফুড সাপ্লিমেন্ট, ক্যাপসুলের ক্যাপসহ অন্যান্য সামগ্রী।
মাছ ব্যবসায়ীরা বলেছেন, এ অঁাশ জাপান, চীন ও ইন্দোনেশীয়া রপ্তানি হয়। তবে আমাদের সরাসরি রপ্তানি করার সুযোগ নেই, মাধ্যম দিয়ে রপ্তানি করাতে হয়। যদি সরাসরি রপ্তানির সুযোগ থাকতো তবে আরো ভালো দাম পাওয়া যেতো। ফেলে দেয়া এই অঁাশে সম্ভাবনাময় স্বপ্ন দেখছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাছ ব্যবসায়ীরা। তবে অঁাশ ব্যবসার প্রসার ঘটাতে সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা আশা করছেন তারা।
প্রথম দিকে পৌর মাছ বাজারের পাইকার ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার আলী অন্যান্য মাছ ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করতেন। যাতে কেউ মাছের অঁাশগুলো না ফেলেন। মাছ কাটার পর সেগুলো যত্নসহকারে জমিয়ে রাখতে পরামর্শ দেন।
আব্দুল জব্বার আলী বলেন, কেবল সৈয়দপুর, নওগঁা, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রামেই নয়, এখন ফুলবাড়ীতেও মাছের অঁাশ কেনাবেচার ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। অন্তত অর্ধশত মাছ ব্যবসায়ী অঁাশ সংগ্রহ করছেন। শুরুতে অঁাশ প্রতি কেজি ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি হলেও, করোনা মহামারীর পর ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে দিতে হচ্ছে। এটি বিদেশে রপ্তানি করলে দেশে অর্থনৈতিক ভূমিকা রাখবে এ অঁাশ। তাই এতে সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।
অঁাশ সংগ্রহকারী মাছ ব্যবসায়ী মো. সমবারু, রেজাউল আলম ও মোজাফফর হোসেন বলেন, অঁাশ সংগ্রহের পর শুখিয়ে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। একসাথে ৪ থেকে ৫ মণ অঁাশ সংগ্রহ হলে তা কিনে নিয়ে যান বিভিন্নস্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীরা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশেদা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নেই। তবে বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

এই রকম আরও টপিক

আশ সংগ্রহে ঝুঁকছেন মাছ ব্যবাসায়ীরা
প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই মণ অঁাশ সংগ্রহ

প্রকাশিত সময় ০২:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ নভেম্বর ২০২২


ফেলে দেয়া মাছের অঁাশ থেকে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার মাছ ব্যবসায়ীরা। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই মণ মাছের ভেজা অঁাশ সংগ্রহ করাসহ শুখিয়ে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
জানা যায়, বড় মাছ কেনার সময় ঝুটঝামেলা থেকে রেহাই পেতে বেশিরভাগ ক্রেতাই কেটে নেন মাছ। ইতোপূর্বে বড় মাছ কাটার সময় মাছের অঁাশ চেষে ফেলে দিতেন ব্যবসায়ীরা। তবে সেই অঁাশও যে টাকায় বিক্রি হয় তা জানতেন না কেউ-ই। বর্তমানে সেই অঁাশ-ই বাড়তি আয়ের পথ হয়ে দঁাড়িয়েছে। উপজেলার ৪৫-৫০ জন ব্যবসায়ী রোজ অঁাশ সংগ্রহ করছেন। বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই মণ মাছের ভেজা অঁাশ সংগ্রহ হচ্ছে। যা মাছ ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে রোদে শুখিয়ে নিচ্ছেন। পরে সেই শুখনো অঁাশ ব্যবসায়ীদের থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন সৈয়দপুর, নওগঁা ও রাজশাহী থেকে আসা অঁাশ ব্যবসায়ীরা। সেই অঁাশ থেকে জাপান, চীন, ইন্দোনেশীয়া, কোরিয়া ও থাইল্যাণ্ডসহ বিভিন্ন দেশে তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের প্রসাধনীসামগ্রী, ফুড সাপ্লিমেন্ট, ক্যাপসুলের ক্যাপসহ অন্যান্য সামগ্রী।
মাছ ব্যবসায়ীরা বলেছেন, এ অঁাশ জাপান, চীন ও ইন্দোনেশীয়া রপ্তানি হয়। তবে আমাদের সরাসরি রপ্তানি করার সুযোগ নেই, মাধ্যম দিয়ে রপ্তানি করাতে হয়। যদি সরাসরি রপ্তানির সুযোগ থাকতো তবে আরো ভালো দাম পাওয়া যেতো। ফেলে দেয়া এই অঁাশে সম্ভাবনাময় স্বপ্ন দেখছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাছ ব্যবসায়ীরা। তবে অঁাশ ব্যবসার প্রসার ঘটাতে সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা আশা করছেন তারা।
প্রথম দিকে পৌর মাছ বাজারের পাইকার ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার আলী অন্যান্য মাছ ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করতেন। যাতে কেউ মাছের অঁাশগুলো না ফেলেন। মাছ কাটার পর সেগুলো যত্নসহকারে জমিয়ে রাখতে পরামর্শ দেন।
আব্দুল জব্বার আলী বলেন, কেবল সৈয়দপুর, নওগঁা, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রামেই নয়, এখন ফুলবাড়ীতেও মাছের অঁাশ কেনাবেচার ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। অন্তত অর্ধশত মাছ ব্যবসায়ী অঁাশ সংগ্রহ করছেন। শুরুতে অঁাশ প্রতি কেজি ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি হলেও, করোনা মহামারীর পর ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে দিতে হচ্ছে। এটি বিদেশে রপ্তানি করলে দেশে অর্থনৈতিক ভূমিকা রাখবে এ অঁাশ। তাই এতে সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।
অঁাশ সংগ্রহকারী মাছ ব্যবসায়ী মো. সমবারু, রেজাউল আলম ও মোজাফফর হোসেন বলেন, অঁাশ সংগ্রহের পর শুখিয়ে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। একসাথে ৪ থেকে ৫ মণ অঁাশ সংগ্রহ হলে তা কিনে নিয়ে যান বিভিন্নস্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীরা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশেদা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নেই। তবে বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে।