ঈশ্বরদীতে যুবলীগ নেতা গুলিবিদ্ধের ঘটনায় হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন


ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতাঃ ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের ৯নং ওয়ার্ড শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন ওরফে রুটি শাহীন এর উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের আলহাজ্ব মোড় বাঁশের হাটে শাহীনকে তিনটি গুলি করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এসময় শাহীনের বুকে দুটি এবং হাতে একটি গুলিবিদ্ধ হয়। শাহীন বর্তমানে ঢাকা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত শাহীন ঈশ্বরদী পৌরসভার ইস্তা এলাকার আব্দুর রশীদের ছেলে।

জানা গেছে, শাহীন বাঁশের হাটে ইজারার খাজনা আদায়কারী। বাঁশের হাটে রমজানের গাড়ি সার্ভিসিং এর পাশে হেলমেট ও মূখে মাস্ক পড়া এক ব্যক্তি পর পর তিনটি গুলি ছোঁড়ে। গুলির শব্দ ও শাহিনের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে দূর্বৃত্ত দৌড়ে আলহাজ্ব মিলের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারের পেছন দিয়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে এঘটনার প্রতিবাদে রবিবার ১৭ অক্টোবর ঈশ্বরদী আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে উপজেলা ও পৌর যুবলীগ সংবাদ সম্মেলন করে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমাল বলেন, ২০১৫ সালের পর থেকেই ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজমান ছিল। গুলি, হাতকাটা ও বাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ছিল না। কিন্তু সুশৃঙ্খল পরিবেশকে নষ্ট করতেই আবারো এধরনের কার্যকলাপ শুরু করেছে একটি কুচক্রী মহল। শাহীনকে তিনটি গুলি করা হয়েছে। গুলিবদ্ধ শাহীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্পষ্টভাবেই উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাসকে গুলি করার জন্য দায়ী করেছেন।

তমাল আরও বলেন, আমরা ঢালাও ভাবে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করতে চাই না। আমরা প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। আমি জাতীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব বলেন, হঠাৎ করেই ঈশ্বরদীর শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে একটি কুচক্রী মহল। আমি দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই, ঈশ্বরদীতে যুবলীগ অত্যন্ত শক্তিশালী সংগঠন। কেউ যুবলীগকে নিয়ে ষড়যন্ত্র ও বিশৃংখলার চেষ্টা করলে তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে। শাহীনের উপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাসের কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ঈশ্বরদীতে উপজেলা ও পৌর যুবলীগের মেয়াদ উর্ত্তীণ কমিটির সম্মেলন দাবি করেছি। বর্তমানে যারা ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর যুবলীগের দলীয় পদে রয়েছে তারা নিজেদের আসন ধরে রাখতে এবং পাকাপোক্ত করতে পরিকল্পিতভাবে আমাকে এ ঘটনায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এ ঘটনার সাথে আমি কোনভাবেই জড়িত নই। আমিও এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষিদের গ্রেফতারের দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম লিটন, যুবলীগ নেতা মিলন চৌধুরী, তুষার মন্ডল, স্বপন হোসেন, আব্দুল কুদ্দুস, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রনি, সাধারণ সম্পাদক সুমন দাসসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রতিমা বিসর্জন দিতে গিয়ে নদীতে পড়ে এক যুবক নিখোঁজ

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন