ঈশ্বরদীতে রেলওয়ের তেল চুরির ঘটনায় গার্ড ও চালকদের অবৈধ্যভাবে বরখাস্থের অভিযোগ

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতাঃ ঈশ্বরদীতে ট্রেন চালক নাজমুল হোসেন, সহকারী ট্রেন চালক খাইরুল ইসলাম ও ট্রেন পরিচালক রোকনুজ্জামানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। যেটিকে তারা অবৈধ বলে দাবী করেছে।

ঈশ্বরদী লোকসেড সূত্র জানায়, রবিবার রাতে রেলওয়ে পাকশী বিভাগের একটি খালি মালগাড়ি (নম্বর-আরএইচকে সিক্সডাউন, ইঞ্জিন নম্বর-৬৪০৩) নিয়ে এএলএম, এলএম, গার্ড ও নিরাপত্তাকর্মী সহ রাজশাহী থেকে ঈশ্বরদীতে আসার পথে হরিয়ানে শানটিং এর সময় সিভিল ড্রেসে দু’জন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহীর সদস্য মালগাড়িতে উঠে গার্ডরুমে অবস্থান করে।

হরিয়ান থেকে পুনরায় যাত্রা শুরু করলে পথিমধ্যে ঐ দু’জন আরএনবি’র সদস্য (যারা দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত নয়) ইঞ্জিনে প্রবেশের চেষ্টা করলে এএলএম ও এলএম তাদের ভিতরে প্রবেশ করতে বাধা প্রদান করে এবং গার্ডকে ফোন করে জিজ্ঞেসা করলে গার্ড জানায় আরএনবি’র সদস্যরা (দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত) গার্ড রুমেই আছে।

তখন এলএম বিষয়টি ট্রেন কন্ট্রোল বিভাগ (পিএনএল) কে অবহিত করে।

পিএনএল তাদের জানায়, তারা পিছনে গার্ড রুমে আছে থাক ইঞ্জিনে প্রবেশ করতে দেবেন না।

এরপর তারা নিজেরাই কোন বিষয়ে ধস্তাধস্তি করে নিজেদের জামাকাপড় ছিড়ে ফেলে এবং ঈশ্বরদীতে এসে আমাদের বিরূদ্ধে তেল চুরির অভিযোগ করে।

কোনপ্রকার তদন্ত ছাড়াই শুধু এ অভিযোগের উপর ভিত্তি করে আমাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

ঘটনার পরই নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত চীফ কমান্ডেন্ট, পাকশীর ডিএমই(লোকো) ও অন্যান্য কর্মকর্তারা লোকোসেডে উপস্থিত হয়ে ইঞ্জিন পরিদর্শন ও ইঞ্জিনের ট্যাংকির তেল পরিমাপ করে ২৬’শ লিটার তেল রিজার্ভ পাওয়া যায়। যেখানে শর্টেজের চেয়ে বরং ৮৭ লিটার তেল বাড়তি পাওয়া যায়।

তারা আরও জানায়, আইন অনুযায়ী ট্রেনের ইঞ্জিনে প্রবেশের অধিকার আরএনবি’ নেই শুধুমাত্র ডিএমই ও সিএমই স্যার ইঞ্জিনে প্রবেশের অধিকার রাখেন। তার উপর তারা এই মালগাড়ির নিরাপত্তায় দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল না।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, রাজশাহী থেকে ঈশ্বরদীতে আসার পথে লোকমানপুর স্টেশন এলাকায় চারজন তেল চোর ট্রেন চালকদের সহযোগিতায় ইঞ্জিনে ওঠে।

এ সময় উক্ত ইঞ্জিনে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা কর্তব্যরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আবুল হোসেন ও আব্দুল আওয়াল তেল চোরদের আাটক করার চেষ্টা করে। কিন্তু দু’চালকসহ চার তেলচোররা মিলে নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়িত্বপালনে বাধার সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে ধবস্তাধবস্তি হয়। এতে উভয়ের জামাকাপড় ছিড়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চালকরা ট্রেনের গতি কমিয়ে দিলে চোররা ইঞ্জিন থেকে পালিয়ে যায়।

এসময় চালকরা চোরদের তেল চুরির কাজে ব্যবহৃত পলিথিনের বস্তা জানালা দিয়ে ফেলে দেয়। পাকশী কন্ট্রোল অফিসের অনুমতি ছাড়াই ট্রেনটিকে এক পর্যায়ে রহস্যজনকভাবে ও সমপূর্ণ অনিয়ম করে আজিমনগর স্টেশনে থামিয়ে দেয়। প্রায় ৩/৪ মিনিট পরে ট্রেনটি চালিয়ে রাত ১০ টায় ঈশ্বরদী স্টেশন ইয়ার্ডে প্রবেশ করার পর ইঞ্জিন কেটে লোকোসেডে নিয়ে যায়।

রেল শ্রমিক লীগ নেতা জাহাঙ্গির হোসেন জানান, পোশাক বিহীন রেল নিরাপত্তা বাহিনীর ২ জন সদস্য ইঞ্জিনে উঠতে চাইলে দায়িত্বরত চালকরা নিয়ম অনুযায়ী বাধা প্রদান করে। এতে উভয়ের মধ্যে বাক-বিতন্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর ওই সদস্যরা তেল চুরির প্রচেষ্টার অভিযোগ করেন। কিন্তু ট্রেনটি ঈশ্বরদীতে আসার পর উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তেল পরিমাপ করা হলে চুরির কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

ডিএমইস(লোকো) আশিষ কুমার পাল জানান, ঘটনার প্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিকভাবে ট্রেন চালক নাজমুল হোসেন, সহকারী ট্রেন চালক খাইরুল ইসলাম ও ট্রেন পরিচালক রোকনুজ্জামানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলেও তেল চুরির অভিযোগের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তেল চুরির অভিযোগ ছাড়াও রেল নিরাপত্তা বাহিনীর আরো কিছু ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। সেগুলে তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন