করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দেওয়ায় ১৪ দিনের হোম কোয়ারান্টাইনে থাকলেন ডাঃ তুহিন”

সুজানগর (পাবনা) প্রতিনিধিঃ সুজানগর উপজেলার আমিনপুর থানাধীন দূর্গাপুর ঘোষপাড়া গ্রামের বহুল আলোচিত সমালোচিত করোনা ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত মোঃ সোহরাব খন্দকারের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর (৩০) গত-৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে পালিয়ে বাড়ি এসে দুপুর ৩ ঘটিকার সময় দুলাই বাজারে মাতৃছায়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ডাঃ তুহিন খাঁনের চেম্বারে যায়।

ডাঃ তুহিন উক্ত রোগীর ঠান্ডা, কাশি ও জ্বরের তীব্রতা দেখে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরিক্ষা করতে বলেন তখন তারা নিরুপায় হয়ে তড়িৎগতিতে ঢাকা কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে করোনার নমুনা পরিক্ষা করলে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই এ খবর পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকা’সহ ফেসবুক ও সংবাদ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকগণ এসে উক্ত বাড়িটি লকডাউন ও ঐ বাড়িতে থাকা আরও ৫ জন সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করেন এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান দুলাই বাজারে গিয়ে করোনা আক্রান্ত উক্ত রোগীর চিকিৎসা প্রদান করায় ডাঃ তুহিন খাঁনকেও ১৪ দিনের হোম কোয়ারান্টাইনে থাকতে বলেন।

এদিকে ডাক্তারকে নিয়েও চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন রকম গুজব।বিভিন্ন জনের বিভিন্ন রকম আলোচনা সমালোচনার মধ্য দিয়ে ১৪ দিনের হোম কোয়ারান্টাইন শেষে ডাঃ তুহিন বলেন, আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহর রহমতে তিনি সম্পূর্ণরুপে সুস্থ ও সুন্দর আছেন এবং আজ ২৬ এপ্রিল রবিবার থেকে নিয়মিত রোগী দেখছেন বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে দেশের অনেক ডাঃ চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখলেও অসুস্থ মানুষের সেবা দেবার জন্য আমি সব সময় প্রস্তুত কারণ যেদিন থেকে ডাক্তারী বিদ্যা অর্জন করেছি সেদিন থেকে মানবসেবা আমার একমাত্র লক্ষ্য হিসাবে মনে করেছি।

তরুণ এই ডাক্তারের আত্মবিশ্বাস, মহানুভবতা ও চিকিৎসা সেবায় মুগ্ধ হয়ে অত্রএলাকার সাধারণ মানুষ এখন তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন