চেক জালিয়াতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী পালাতক

ইউ এন এসঃ চেক জালিয়াতি মামলায় একজনের সাজা দিয়েছে আদালত। সাজাপ্রাপ্ত আসামী হলেন পাবনা সদর থানার দাপুনিয়া ইউনিয়নের ৭ মাইল যশোদল সাহাপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মুন্সির ছেলে কাজী মো. কামাল বাসার।

মামলা সূত্রে জানা যায় পাবনা শহরের শালগাড়ীয়া হাসপাতাল সড়কের বাসিন্দা মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আব্দুর রহমান টুকুর নিকট থেকে আসামী কামাল বাসার ব্যবসায়ী প্রয়োজনে ১ লক্ষ টাকা কর্জ করে। টুকুর প্রয়োজনে আসামী কামাল বাসারের নিকট টাকা ফেরৎ চাইলে কামাল টুকুকে ৯ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে পূবালী ব্যাংক মালিগাছা শাখার নিজ নামীয় চলতি হিসাব নং-২২৩৯৯০১০০৭৪২৬ এর চেক নং-৬৯১৪৩৫৭, এক লক্ষ টাকার চেকটি প্রদান করলে চেকটি টুকু নগদায়নের জন্য ১৯ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে অপর্যাপ্তর কারণে চেকটি ডিজঅনার হয়।

টুকু ১৫ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে আইনজীবীর মাধ্যমে বাসার বরাবর লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করলে ১৭ নভেম্বরে নোটিশ প্রাপ্ত হন। বাসার জেনে-শুনে- বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে পাওনা টাকা প্রতারণামূলক ভাবে আত্মস্যাত করার উদ্দেশে তার হিসাব নম্বরে টাকা না থাকা সত্ত্বেও চেক প্রদান করে The Negotiable Instruments Act, 1881 এর ১৩৮ ধারার অপরাধ করেছে।

আসামী টাকা দিতে অস্বীকার করায় টুকু যুগ্ন দায়রা জজ, ১ম আদালত পাবনা বাসারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

সমস্ত যুক্তি, তর্ক, সাক্ষ প্রমানাদির বিশ্লেষণে সিদ্ধাতে উপনীত হওয়ায়, আসামী চেকটি ডিজঅনারের বিষয়টি জানা সত্বেও টাকা পরিশোধ না করায় আইনানুযায়ী অপরাধ করেছে।

রাষ্ট্রপক্ষ আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমান করতে সমর্থ হওয়ায় পাবনা যুগ্ন দায়রা জজ, ১ম আাদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ লুৎফর রহমান শিশির ২৪ অক্টোবর ২০১৯ সালে রায় ঘোষনা করেন রায়ের আদেশে বিজ্ঞ বিচারক বলেন মামলার পালাতক আসামী কাজী মো. কামাল বাশার এর বিরুদ্ধে The Negotiable Instruments Act 1881 এর ১৩৮ (১) ধারার অপরাধ যুক্তিসঙ্গত সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং ১ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

তিনি আরো জানান আসামীর অত্র মামলায় ইতোপূর্বের হাজতবাস সাজার মেয়াদ হতে বাদ যাবে, বাদীর দাবী পরিশোধ করে বাকী টাকা রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা হবে, আসামী আত্ম সমর্পনের বা আটকের তারিখ হতে সাজা কার্যকর হবে, আসামীর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়।

জানা যায় রায়, ঘোষনা দিন আাসামী হাজির ছিলেন না। আরো জানা যায় টুকুর স্ত্রী মোছা. শিরিন রহমানের কাছ থেকে ৭ লক্ষ ৩০ হাজার হাওলাত নিয়ে তাকেও পূবালী ব্যাংকের চেক দিলে সেই চেক ডিজঅনার হয়। এবং শিরিন রহমান বাসারের বিরুদ্ধে মামলা করলে সে মামলা এখন চলমান।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন