জাতির পিতার সঠিক ইতিহাস জানতে মুজিবর্ষ তরুণ প্রজন্মের কাছে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ

আতিক সিদ্দিকী
কবি, সাংবাদিক।

মুজিববর্ষ হল বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনের জন্য ঘোষিত বর্ষ। বাংলাদেশ সরকার ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত এ বর্ষ উদযাপন করতে যাচ্ছে। এই বর্ষ উদযাপনে মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের নানা ডকুমেন্টরি তুলে ধরা হবে।

বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে ভুল তথ্য ও ইতিহাস স্বাধীনতা বিরাধী চক্র এতোদিন ধরে জাতিকে দেখিয়েছে জানিয়েছে মুজিবর্ষ তার অবসান ঘটাবে এ প্রত্যাশা সকলের। এ কারনে জাতির পিতার সঠিক ইতিহাস জানার জন্য মুজিববর্ষ তরুণ প্রজন্মের কাছে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। হাজারো অজানাকে জাতি জানতে পারবে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। এ বর্ষেই লেখা হবে মহানায়কের মহাকাব্য।

বছরজুড়ে উচ্ছাস আর মহাউৎসবে মুজিববর্ষ উদযাপনের কথা তাকলেও করোনা ভাইরাস স্মরণকালের মহামারি হিসেবে দেখা দেয়ায় উৎসব আয়োজনে আসে পূর্ণবিন্যাস। এ জন্য জনসমাগম এড়িয়ে মুজিববর্ষের উদ্বোধনি আয়োজন থেকে তৈরী করা হবে দেড় থেকে দুই ঘন্টার একটি টিভি প্রোগ্রাম। সেটা দেশে এবং সারা পৃথিবীতে পরবর্তীতে সম্প্রচার করা হবে। জাতীয় সঙ্গীত, রাষ্ট্রপতির বাণী ও প্রধানমন্ত্রি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিবেন।

এদিন প্রধানমন্ত্রির ছোটবোন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন। সারাদেশে একটি নির্দিষ্ট সময়ে উদ্বোধনি অনুষ্ঠান করা হবে। আর এসব অনুষ্ঠান টেলিভিশনের মাধ্যমে ও সোস্যাল মিডিয়াগুলো ব্যবহার করে সম্প্রচার করা হবে। মহানায়কের জন্মক্ষণ রাত ৮টায় হওয়ায় এসময় আতশবাজি এবং আনন্দ আয়োজনমূলক প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উদ্বোধনি অনুষ্ঠান।

সাংস্কৃতিক উপকমিটি, অ্যাটকো এবং বিটিভিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উৎসব আয়োজনে কাজ করছেন অনেক আগে থেকেই। এদিন জাতীয় শিশু দিবসে শত শিশুর কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত ও মুজিববর্ষের থিম সং পরিবেশিত হবে।

মহান এ নেতার কর্মময় জীবন, ত্যাগ ও অবদানের উপর ভিত্তি করে শিল্পকলা একাডেমি চিত্রপটে দৃশ্যকাব্যে বঙ্গবন্ধু নামে একটি থিয়েট্রিক্যাল কোরিওগ্রাফি পরিবেশন করবে। দুঃখি ও পীড়িত মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী করোনাভাইরাসের মহামারিতে পুনবিন্যাস হবে সেটাই স্বাভাবিক। দেশের জনগনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনাকরেই জনবান্ধব সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বর্তমান বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ মঙ্গলবার রাত ৮টায় জন্মগ্রহণ করেন। কাকতালীয়ভাবে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বার পরেছে মঙ্গলবার।

আবার ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীনতার অর্ধশত বার্ষিকীতে পা রাখবে। জাতির জনকের জন্ম শতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার অর্ধশত বার্ষিকী’র জন্য মুজিববর্ষ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে চলেছে।

ইংরেজি ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ অভিজাত এক বংশে শেখ লুৎফর রহমান ও শেখ সায়েরা খাতুনের ঘরে জন্ম নেয় এক ফুটফুটে শিশু। বাবা-মা আদর করে নাম রাখলেন ‘খোকা’। শেখ হামিদের একমাত্র ছেলে শেখ লুৎফর রহমান একজন সজ্জন ব্যক্তি। বঙ্গবন্ধুর বাবা শেখ লুৎফর রহমান আদালতে চাকরি করতেন। তার মা সায়েরা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। খোকা বড় হয়ে আইনজীবী হবেন এমন স্বপ্ন ছিল বাবামায়ের।

শেখ বাড়ির কাছারি ঘরে মাস্টার, পন্ডিত ও মৌলভিদের কাছে ছোট্ট মুজিবের হাতেখড়ি। একটু বড় হয়ে গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু হয় খোকার। এরপর বাবার কর্মস্থল মাদারীপুরের ইসলামিয়া হাইস্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে কিছুদিন লেখাপড়া করেছেন মুজিব। বাবা শেখ লুৎফর রহমান বদলি হয়ে গোপালগঞ্জে যোগদান করলে তিনি গোপালগঞ্জ মিশন হাইস্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন।

আবহমান বাংলার আলো-বাতাসে মাটির সোদাগন্ধে বড় হয়েছেন তিনি। পাখি আর জীবজন্তুর প্রতি ছিল গভীর মমতা তার। ফুটবল ছিল কিশোরমুজিবের প্রিয় খেলা। ধুলোবালি আর কাদাপানিতে একাকার ছিল তার শৈশব। গ্রামের মাটি মানুষ তাকে প্রবলভাবে কাছে টেনেছে। বঙ্গবন্ধু ভালোবাসতেন শিশুদের। কচিকাঁচার মেলা ও খেলাঘর পছন্দের সংগঠন ছিল তার। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৈশোরে কচিকাঁচার আসরে ভর্তি করেছিলেন তিনি। তার জন্মদিনটিকে আমরা আমরা জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করি। শিশুদের কাছে এদিনটি দিনটি খুশিরদিন।

তার স্মরণে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ঢাকা। এর আগে যার ছিল জিন্নাহ এভিনিউ। মুুুুজিব সড়ক, ফরিদপুর, বঙ্গবন্ধু সড়ক, সাভার, শেখ মুজিব সড়ক, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম, শেখ মুজিব রোড, সিরাজগঞ্জ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সড়ক, বান্দরবান, বঙ্গবন্ধু সড়ক, নারায়ণগঞ্জ, মুজিব সড়ক, যশোর, শেখ মুজিব ওয়ে, শিকাগো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরণি, কলকাতা, ভারত।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সড়ক, নয়া দিল্লি, ভারত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বুলবার্ড, তুর্কী, আঙ্কারা, তুরস্ক। সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান সমূহ হলো বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার, কুর্মিটোলা, ঢাকা।

বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি, গাজীপুর, ঢাকা। সামরিক স্থাপনা সমূহ হলো বঙ্গবন্ধু সেনানিবাস (যমুনা সেনানিবাস), টাঙ্গাইল, বানৌজা বঙ্গবন্ধু, ক্ষেপণাস্ত্র ফ্রিগেট, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বঙ্গবন্ধু, ঢাকা।

যান সমূহ হলো বঙ্গবন্ধু-১, নভো-উপগ্রহ।

স্মারক পদ সমূহ হলো বঙ্গবন্ধু চেয়ার, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেতু সমূহ হলো বঙ্গবন্ধু সেতু, যমুনা নদী, সিরাজগঞ্জ-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু। স্টেডিয়াম সমূহ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা।

দ্বীপ, বঙ্গবন্ধু দ্বীপ, ভবন সমূহ বঙ্গবন্ধু ভবন, ঢাকা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা এর আগের নাম ছিল চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, ঢাকা। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল জাদুঘর, ধানমন্ডি, ঢাকা। বঙ্গবন্ধু চত্বর স্মৃতিস্তম্ভ, ঢাকা। বঙ্গবন্ধু টাওয়ার, ঢাকা। বঙ্গবন্ধু স্কয়্যার, ফারিদপুর।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা এর আগে প্রতিষ্ঠাণটির নাম ছিল আইপিজিএমআর সংক্ষেপে যাকে পিজি হাতপাতাল বলা হতো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।

বিশ্ববিদ্যালয় হল সমূহ হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল হল, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,টাঙ্গাইল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধু হল, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধু হল, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধু হল, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, টাঙ্গাইল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, ঢাকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর। কলেজ সমূহ, বঙ্গবন্ধু ল কলেজ, মাদারীপুর , জতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজ, ঢাকা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কলেজ, গাজীপুর, ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ, ফরিদগঞ্জ উপজেলা, চাঁদপুর, বঙ্গবন্ধু কলেজ, কুমিল্লা জেলা, বঙ্গবন্ধু কলেজ, খুলনা, বঙ্গবন্ধু ল কলেজ, মাদারীপুর, বঙ্গবন্ধু কলেজ, ঢাকা, বঙ্গবন্ধু মহিলা ডিগ্রি কলেজ, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ, বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ, কলারোয়া, বঙ্গবন্ধু ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী, শিমুলবাড়ী বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ, নীলফামারী, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ, গোপালগঞ্জ, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ, জামালপুর, বিদ্যালয়, আম্বরি বঙ্গবন্ধু বিদ্যালয়, নীলফামারী, সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক বিদ্যালয়, লন্ডন, কৈবল্যধাম হাউজিং এসেস্ট বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, ক্রীড়া টুর্নামেন্ট, বঙ্গবন্ধু কাপ, আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট ভূসংস্থানিক বৈশিষ্ট্য, গাজীপুর জেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, কক্সবাজার জেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, মুজিব উদ্যান, ফরিদপুর।

এমনি অনেক প্রতিষ্ঠান দেশ এবং দেশের বাইরে শেখ মুজিবের নামে স্থাপন করা হয়েছে।

ইউনেস্কো ‘২০২০-২১ সালের জন্য ৫৯টি বার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তাব গ্রহন করেছে তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন। বঙ্গবন্ধুকে একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে ইউনেস্কো এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর অবিচল সংগ্রাম, ত্যাগ ও অবদানের কথা ইউনেস্কো বিশেষভাবে বিবেচনা নিয়েছে।

ঢাকাসহ সারাদেশে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি মধ্যদিয়ে পালিত হবে মুজিববর্ষ। তবে জনসমাগম এড়িয়ে নানা কর্মসুচি আয়োজনে মোটেও কমতি রাখা হবে না।

বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোও অনুষ্ঠান আয়োজন করবে। এছাড়া বিশ্বের বেশক’টি দেশে বঙ্গবন্ধুর ওপর মিডিয়া কনফারেন্স হবে।

ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন এবং বিশ্বভারতীসহ বিদেশী আরো পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার স্থাপন করা হবে।

লন্ডনে মাদাম তুসো মিউজিয়ামে, ইউনিভার্সিটি অব ক্যেমব্রিজ বঙ্গবন্ধু সেন্টারে ও জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর নামে বঙ্গবন্ধু পুরস্কার প্রবর্তন করা হবে।

বঙ্গবন্ধুর ওপর ভিডিও চিত্র নির্মাণ করা হবে। সাতটি ওয়েব সিরিজ, ১২টি স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচিত্র ও ৬টি শিশুতোষ এনিমেটেড চলচিত্র নির্মাণ করা হবে।

‘মুজিববর্ষের প্যানবুক অনলাইনে দেয়া হবে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দেশে ১০টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার শক্তিশালী নেতৃত্বে। পৃথিবীর কক্ষপথে আবর্তিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প। বাস্তবায়িত হচ্ছে কর্ণফুলী নদীগর্ভে ৩ দশমিক ৬৬ কিলোমিটার টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ মেগা প্রকল্প।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে মুজিববর্ষে ১০০ টি সার্ভিস অনলাইনে নিয়ে আসা হবে। এ থেকে ১০ কোটি মানুষ সেবাসুবিধা ভোগ করতে পারবে।

বঙ্গবন্ধুর নির্বাচিত ভাষণ ইংরেজি ছাড়াও ১২টি ভাষায় যেমন হিন্দি, উর্দু, ফরাসি, জার্মান, চাইনিজ, আরবি, ফার্সি, স্প্যানিশ, রুশ, ইটালিয়ান, কোরিয়ান ও জাপানি ভাষায় অনুবাদ করা হবে।

বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক ১০০ প্রকাশনা মুজিববর্ষে উপস্থাপন করা হবে।

মুজিববর্ষে ভুটানের রাজা জিগমে খেশার ন্যামগেল ওয়াংচুক, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, ভারতের কংগ্রেস দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স জায়েদ আল নাহিয়ান, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মাদ, ওআইসি সেক্রেটারি জেনারেল, আরব লীগের সাবেক কর্মকর্তা আমির মূসা, ইউনেস্কোর সাবেক প্রধান নির্বাহী ইরিনা বুকোভাসহ সে সব দেশের বরেণ্য ব্যক্তি ও নেতাতের অনেককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এসব আমন্ত্রিত অতিথিদের সবাই আসতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে করোনা দূর্যোগ মুজিববর্ষের জমকালো আয়োজন পুনর্বিন্যানে বাধ্য করেছে। লোক সমাগম এড়াতে অনেক আয়োজন সংক্ষিপ্ত এবং নিয়ন্ত্রন করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

বঙ্গবন্ধু জীবনের যৌবনের মূল্যবান সময় কেটেছে জেলহাজতে। শেখ মুজিব চেয়েছিল তৎকালীন পূর্ববাংলার জন্য একটি আলাদা পতাকা। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টির পর থেকেই তিনি এ ভাবনা হৃদয়ে লালন করেছিলেন; তখনই তাঁর মনে হয়েছিল, ‘বাংলাদেশ’ নামে একটি দেশ হতেই হবে। সে দেশের জনগন বাঙ্গালী এবং বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ আর অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারক বাহক হবে।

বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্বপ্নদ্রষ্টা লৌহমানব শেখ মুজিব ধীরে ধীরে বুনন করে দিলেন সে স্বপ্ন সব বাঙালির হৃদয়ে। স্বাধীন বাংলাদেশের শিকড় প্রথিত হলো পূর্ববাংলার মাটিতে। সময়ের বিবর্তনে খোকা নামের রাখাল বালক থেকে শেখ মুজিব হয়ে উঠলেন ‘বঙ্গবন্ধু’। একাত্তরের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে মুক্তির কথা বললেন, বললেন স্বাধীনতার কথা।

তার এই স্বাধীনতার ঘোষণায় পাকিস্তানি সামরিক জান্তা এবং তাদের দোশরদের ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলেছিল। তারা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তাদের অতর্কিত হামলা হয় নিরীহ জনতার ওপর। অমানবিক বর্বরোচিত এ আক্রমণের মুখে মুজিবের স্বাধীনতার ঘোষণা দেশের মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গ্রহন করে।

এ দিন বন্দি হওয়ার আগে নির্ভীক মহাবীর স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিব বললেন আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।

স্বাধীনতার ঘোষক মুজিবের আহবানে সমগ্রজাতি ঝাঁপিয়ে পড়ল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তির সংগ্রমে। এ কথা সবার জানা আছে, ২৫ মার্চের কালো রাত থেকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধু এবং বালাদেশ এক অভিন্ন সত্বার অমর কাব্যগ্রন্থ। সঠিক কাব্যের আড়ালে থাকা গল্পগুলো আড়ালেই থেকেছে ১৫ আগস্ট পরবর্তী স্বাধনতা বিরোধী সরকারের সক্রিয় তৎপরতায়।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরকারে থাকতে পালিত হচ্ছে মুজিববর্ষ। যে কারনে দেশবাসীর প্রত্যাশা অনেক। জাতি তার জাতিরপিতার সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। মুজিববর্ষে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে রচিত মহাকাব্য পাঠে উঠে আসবে মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংদেশের সঠিক ইতিহাস। আর এই ইতিহাস জেনে বিভ্রান্তি দুরে ঠেলে তরুণ প্রজন্ম নিজেকে গড়বে, গড়বে প্রিয়দেশকে।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন