ঢাকার পল্লবী থানার ওসি’র বিরুদ্ধে ডিএমপি হেড কোয়ার্টারে সাক্ষী দিতে জনতার ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক: পল্লবী থানার বর্তমান ওসি পারভেজ ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। অসংখ্য মানুষ তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মানববন্ধনও করেছে।

পল্লবী থানার ওসি’র বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে সাপ্তাহিক নতুন বার্তা’র সম্পাদক ইউসুফ আহমেদ তুহিন গত ১১ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুলিশের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ জমা দেয়।

তুহিন অভিযোগ করে, এই সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে মিথ্যা চাঁদাবাজীর মামলায় পল্লবী থানার ওসি আটক করে রিমান্ডে নেয় এবং চাঁদাবাজী মামলার সাথে সম্পর্কিত নয়, এমন পরীক্ষা ডোপটেষ্ট করায়। যদিও, ডোপটেষ্ট শুধু মাত্র হয়রানীর জন্যই করা
হয়।

কেননা, ডোপটেষ্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসাই এক্ষেত্রে প্রমাণ হয়, পুলিশ শুধুমাত্র হয়রানী করার উদ্দেশ্যে এই ডোপটেষ্ট করায়। তুহিন জানায়, নভেম্বরে করা অভিযোগের স্বাক্ষী হাজির করার জন্য গত ১২ জানুয়ারী তারিখে ডিএমপি’র আইএডি শাখার এডিসি মোঃ আসাদুজ্জামান এক নোটিশ ইস্যু করে।

নোটিশে ৪টি বিষয়ে স্বাক্ষী হাজির করতে বলা হয়। যার মাঝে রয়েছে ১. পল্লবী থানার ওসি থানা এলাকায় নিরীহ মানুষকে মারধর পূর্বক টাকা আদায় করেন, ২. মাদক মামলা দিয়ে আদালতে চালান করেন, ৩. অনেকের পর ভেঙ্গে দিয়েছেন এবং ৪. পল্লবী থানা পুলিশ অনেকের জায়গা দখলে সহযোগীতা করেছে।

নোটিশে বলা হয়,উপরোল্লিখিত অভিযোগ গুলোর স্বাক্ষ, প্রমাণ ও ভিকটিম নিয়ে ১৮ জানুয়ারী সকাল ১১টায় ডিএমপি হেডকোয়ার্টারে উপস্থিত হতে। তুহিন জানায়, নোটিশ পেয়ে যোগাযোগ করা হলে, পল্লবী থানার বর্তমান ওসি কর্তৃক নির্যাতিত অসংখ্য মানুষ স্বাক্ষ্য দিয়ে আসার আগ্রহ প্রকাশ করে। যারা এসেছে তাদের কারণেই এই জনস্রোত সৃষ্টি হয়েছে।

সকলে আসলে এই এলাকা জনসম্রুদ্র হয়ে যেত। যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো না এবং স্বাক্ষ্য গ্রহণও সম্ভব হত না। কিন্তু, যারা এসেছে, তাতেই এই এলাকায় জনতার ঢল নেমেছে। সকলের স্বাক্ষ্য গ্রহণও সম্ভব নয়।

এই বিষয়ে স্বাক্ষ্য দিতে উপস্থিত মোঃ পারভেজ জানায়, পল্লবী থানার বর্তমান ওসি পল্লবী এলাকার সকলের অপ্রিয়। মাত্র ৭ মাস সময়ে পল্লবী এলাকার মানুষের উপর অত্যাচার নির্যাতনের সকল সীমা অতিক্রম করেছেন।

তাই ওসি’র বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ার কথা শুনে নিজ উৎসাহে আমার উপর হওয়া নির্যাতনের বিবরণ দিতে হাজির হলাম।
স্বাক্ষ্যদান শেষে স্বাক্ষ্যদাতারা জানান, এতো লোকের স্বাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব নয় বিধায়, মাত্র ৪ জনের স্বাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই ৪ জন্যই যথেষ্ট বলে তাদের জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ঢাকাতে বিয়ের তথ্য গোপন ও নৈতিক স্খলনের জন্য এস আই নাসির চাকুরিচ্যুত।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন