দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে যাত্রী সেবার মান নিম্নমূখী

নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন নতুনভাবে সংস্করণ করা হলেও যাত্রী সেবার মান ঊর্ধ্বমূখী না হয়ে নিম্নমুখী হচ্ছে।

শনিবার ৮ জানুয়ারি ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য গেলে এমনি চিত্র উঠে আসে।

সরজমিনে স্টেশন মাস্টারের কক্ষে গিয়ে দেখা যায় স্টেশন মাস্টার কক্ষে নেই, অল্প বয়সী একটি ছেলে বসে মোবাইলে গেম খেলছে। তাকে স্টেশন মাস্টার কোথায় জিজ্ঞেস করলে সে বলে, কি জানতে চান বলেন। পরে স্টেশন মাস্টারকেই দরকার জনালে সে বলে বাইরে আছেন। বাহিরে আশেপাশে খোঁজ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট মোঃ মহিউল ইসলাম কে স্টেশনের পানির কল, বৈদ্যুতিক ফ্যান এবং জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য গনসৌচাগার সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, স্টেশনের ১ ও ২ নং প্লাটফর্মে একটি নতুন আধুনিক গনসৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে কিন্তু সেটি এখনো চালু হয়নি, তবে শীঘ্রই চালু হবে। আর ওভারব্রীজ সংলগ্ন গনসৌচাগারটি ঈশ্বরদী পৌরসভা ও ওয়াটার এইড এর সমন্বয়ে শীঘ্রই নির্মাণ করা হবে, যার ভিত্তিপ্রস্তরেন উদ্বোধন মাননীয় রেলওয়ে সচিব মহোদয় করে গেছেন। কিন্তু এর কাজ এখনও শুরু হয়নি। এর কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি তা বলতে পারবো না, সেটা ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ বলতে পারবে।

পানির কল সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বিলেন, পানির কলের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে, অনুমোদন হলে পানির কল লাগানো হবে। তবে এর অগ্রগতির সম্পর্কে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ভালো বলতে পারবে। তবে স্টেশনে বেসরকারিভাবে সুপেয় পানির কল লাগানো আছে।

কবে নাগাদ বৈদ্যুতিক ফ্যান স্টেশনে লাগানো হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক ফ্যানের জন্যও চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে, কবে লাগানো হবে তা বলতে পারবো না, বিস্তারিত রেলওয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ বলতে পারবে।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনের একজন স্ন্যাকস এ্যান্ড কনফেকশনারি ব্যবসায়ী জানান, ৫-৬ মাস যাবত পানির কলটি নষ্ট হয়ে আছে। আর সরকারীভাবে স্টেশনে খাওয়ার পানির ব্যবস্থা নেই। শুধু স্টেশনের উত্তর দিকে মসজিদ সংলগ্ন স্থানে একটি পানির ট্যাপ আছে।

সরজমিনে ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন একটি গনসৌচাগার নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে, স্টেশনে কোন পানির কল নেই, আগে দুটি ছিল সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে, সেখানে কলের মুখ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আর রেলওয়ে মসজিদ সংলগ্ন একটি পানির ট্যাপ আছে।

এছাড়া বেসরকারিভাবে স্টেশনে নবনির্মিত ছাউনি ফুটো করে দুটি পানি বিশুদ্ধকরন যন্ত্র লাগিয়ে সুপেয় পানির ট্যাপ লাগানো হয়েছে। তাও সেগুলো যথেষ্ট স্বাস্থ্যকর পরিবেশে নেই এবং দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য কোন দিক নির্দেশনারও ব্যবস্থা নেই। স্টেশনে বৈদ্যুতিক ফ্যান থাকার কথা থাকলেও নেই কোন বৈদ্যুতিক ফ্যান।

এছাড়াও টিকিট কাউন্টারের সামনের বসার স্থান ও ট্রেনের সময়সূচির সাইনবোর্ড ধুলোয় ধূসরিত, ধুলোয় লেখা ঢেকে গেছে। এবং ট্রেনের জন্য পানির সরবরাহ লাইন ছিদ্র হয়ে আছে সেখান থেকে পানি পড়ে স্টেশনের ইয়ার্ডের কিছু অংশ ভিজে যাচ্ছে।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন নতুনভাবে সংস্করণ করে ঝকঝকে করলেও এর যাত্রীসেবার মান বাড়ছে না। যেন চকচক করলেই সোনা হয় না এমন অবস্থা।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন