পদ্মায় ডুবে যাওয়া থেকে ৩৫ জনকে রক্ষা করল ঈশ্বরদীর পুলিশ

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতাঃ শ্যালোর ইঞ্জিনচালিত ট্রলার যোগে পদ্মা নদী ভ্রমণ করে পিকনিক থেকে ফেরা ৩৫ জনকে নদীতে ডুবে যাওয়া থেকে রা করল ঈশ্বরদী থানা ও লক্ষীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সাহসী পুলিশ সদস্যরা।

রবিবার (২২ আগস্ট) রাতে ঈশ্বরদীর সাঁড়া ঘাট থেকে পিকনিক শেষে নিজ বাড়ি উপজেলার লক্ষীকুন্ডায় ফেরার পথে পদ্মা নদীর প্রবল স্রোতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এই দুর্ঘটনায় কারো প্রাণহানি ছাড়াই সবাইকে সুস্থ শরীরে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির।

প্রত্যক্ষদর্শী জেলেদের সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে ৩৫ সদস্যের পিকনিক দলটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলারযোগে ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর সাঁড়া থেকে লক্ষীকুন্ডায় ফিরছিলেন। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কিছুটা উজানে হঠাৎ করে তাঁদের বহনকৃত ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়।

মাঝি ট্রলারটিকে মাঝ নদীতেই নোঙর ফেলে আটকানোর চেষ্টা করেন। পদ্মায় বর্তমানে প্রবল স্রোতের কারণে সে প্রচেষ্টা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে যাত্রীরা চরম আতঙ্কিত হয়ে প্রাণহানির আশংকায় চিৎকার শুরু করেন।

খবর পেয়ে আশেপাশের লোকজন এসে অবস্থা বেগতিক দেখে থানায় খবর দেয়। পুলিশ তাৎক্ষণিক এসে প্রাণহানি থেকে ৩৫ জনকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করে আনেন।

লক্ষীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল হান্নান জানান, ৩৫ জন ট্রলার যোগে পিকনিক করতে সাঁড়া ঘাটে গিয়েছিলেন। ৩৫ জনই জীবিত উদ্ধার হয়েছে। সবাই সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেন এই কর্মকর্তা।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির বলেন, সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও নৌ- পুলিশের সাহসী সদস্যদের নিয়ে পদ্মা নদীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ সদস্যরা নৌকা ও ট্রলার নিয়ে দ্রুত পদ্মা নদীর প্রবল স্রোত থেকে স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় পিকনিক দলের সকল সদস্যকে নিরাপদে পাড়ে নিয়ে আসা হয়।

ভরা পদ্মা নদীর প্রবল স্রোতের মধ্যে এভাবে চলাচলসহ পিকনিকে না যাওয়ার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছেন এই মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুনঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে মাদক বিরোধী অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৩ জন আটক

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন