ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশের জেলা উপোজেলা পর্যায়ে দৈনিক স্বতঃকণ্ঠে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে । আগ্রহী প্রার্থীগন জীবন বৃত্তান্ত ইমেইল করুন shatakantha.info@gmail.com

পাবনায় নিপা ভাইরাসে শিশুর মৃত্যু

নিজেস্ব প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত সময় ১০:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৩
  • / 61

পাবনায় নিপা ভাইরাসে শিশুর মৃত্যু

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় নিপাহ ভাইরাস বা এনকেফালাইটিসে (মস্তিষ্কের প্রদাহ) আক্রান্ত হয়ে মো. সোয়াত নামের ৭ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভয়াবহ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পাবনা জেলায় এটিই প্রথম মৃত্যু।

সোমবার ২৩ জানুয়ারি ভোরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত শিশু সোয়াত ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিঘা গ্রামের মো. সানোয়ার হোসেনের ছেলে এবং দীঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী। তার মৃত্যুতে এলাকার শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সোয়াতের বাবা মো. সানোয়ার হোসেন বলেন, শুক্রবার ২০ জানুয়ারি সকালে সোয়াতের নানা মো. রজব আলী তার নিজ হাতে লাগানো খেজুর গাছের রস নিয়ে মেয়ের বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেই রস খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে সোয়াত। প্রাথমিকভাবে তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোয়াতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এবিষয়ে পাবনা সিভিল সার্জন মনিসর চৌধুরী বলেন, আমাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এর আগে পাবনায় নিপা ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হয়নি। এটিই প্রথম আক্রান্ত ও প্রথম মৃত্যু। শিশুটি‌ ঠিক কিভাবে কখন আক্রান্ত হলো আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এবিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।

এনিয়ে চলতি বছরে দ্বিতীয় জনের মৃত্যু হলো নিপা ভাইরাসে। এর আগে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীতে এক নারীর মৃত্যু হয়েছিল। এ পর্যন্ত দেশে ৩২৭ জন নিপা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা গেছে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ২৩২ জন।

দেশে প্রথম এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে ২০০১ সালে। পরে ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরীক্ষার মাধ্যমে একে নিপা ভাইরাস বলে সনাক্ত করা হয়। মালয়েশিয়ায় ১৯৯৮ সালে প্রথম এ ভাইরাসটির সংক্রমণের কথা জানা যায়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

ভয়াল এই ভাইরাস যেসব এলাকায় খেঁজুর গাছ রয়েছে কেবল সেসব এলাকাতেই এর সংক্রমণ ঘটে। এটি নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সংক্রমিত হয় এবং কেন নতুন জায়গায় ছড়ায় সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

পাবনায় নিপা ভাইরাসে শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত সময় ১০:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৩

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় নিপাহ ভাইরাস বা এনকেফালাইটিসে (মস্তিষ্কের প্রদাহ) আক্রান্ত হয়ে মো. সোয়াত নামের ৭ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভয়াবহ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পাবনা জেলায় এটিই প্রথম মৃত্যু।

সোমবার ২৩ জানুয়ারি ভোরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত শিশু সোয়াত ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিঘা গ্রামের মো. সানোয়ার হোসেনের ছেলে এবং দীঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী। তার মৃত্যুতে এলাকার শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সোয়াতের বাবা মো. সানোয়ার হোসেন বলেন, শুক্রবার ২০ জানুয়ারি সকালে সোয়াতের নানা মো. রজব আলী তার নিজ হাতে লাগানো খেজুর গাছের রস নিয়ে মেয়ের বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেই রস খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে সোয়াত। প্রাথমিকভাবে তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোয়াতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এবিষয়ে পাবনা সিভিল সার্জন মনিসর চৌধুরী বলেন, আমাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এর আগে পাবনায় নিপা ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হয়নি। এটিই প্রথম আক্রান্ত ও প্রথম মৃত্যু। শিশুটি‌ ঠিক কিভাবে কখন আক্রান্ত হলো আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এবিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।

এনিয়ে চলতি বছরে দ্বিতীয় জনের মৃত্যু হলো নিপা ভাইরাসে। এর আগে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীতে এক নারীর মৃত্যু হয়েছিল। এ পর্যন্ত দেশে ৩২৭ জন নিপা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা গেছে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ২৩২ জন।

দেশে প্রথম এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে ২০০১ সালে। পরে ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরীক্ষার মাধ্যমে একে নিপা ভাইরাস বলে সনাক্ত করা হয়। মালয়েশিয়ায় ১৯৯৮ সালে প্রথম এ ভাইরাসটির সংক্রমণের কথা জানা যায়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

ভয়াল এই ভাইরাস যেসব এলাকায় খেঁজুর গাছ রয়েছে কেবল সেসব এলাকাতেই এর সংক্রমণ ঘটে। এটি নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সংক্রমিত হয় এবং কেন নতুন জায়গায় ছড়ায় সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।