পাবনার ঈশ্বরদীতে অপহরণের তিনদিন পর যুবকের লাশ উদ্ধার

নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে অপহরণের তিনদিন পর ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করা অপহৃত যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ।

সোমবার ১৩ ডিসেম্বর রাত সাড়ে নয়টার দিকে দাশুড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া থেকে অপহৃত যুবকের লাশটি উদ্ধার হয়।

নিহত যুবক হৃদয় হোসেন (৪০) উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের নতুন রুপপুর (ফুটবল মাঠ) এলাকার মজনু আলীর ছেলে।

শুক্রবার ১০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রুপপুর তিনবটতলা এলাকা থেকে নিহত হৃদয় হোসেন অপহৃত হয়।

জানা যায়, শুক্রবার ১০ ডিসেম্বর প্রকাশ্যে মাইক্রোবাসে তুলে তাকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা ওই যুবকের মোবাইল ফোন থেকে কল দিয়ে তার স্বজনদের কাছে ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণও দাবি করে।

হৃদয়ের ভাই জীবন হোসেন জানান, সকালে দোকানে আসার পরপরই একটি সাদা মাইক্রোবাস থামে, সেখানে উপস্থিত লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন হৃদয়কে মাইক্রো বাসে তুলে নিয়ে পাবনার দিকে চলে যায়। ঘটনার পরপরই ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অপহৃত হৃদয়ের বাবা মজনু আলী বলেন, অপহরণের পর শুক্রবার বিকেলে একবার আমার ছেলের মোবাইল ফোন থেকে আমাকে কল করে ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অপহরণের দিনে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। আজ ৩ তিনদিন পর তার লাশ পেলাম।

পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের পর থেকে উদ্ধারের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। আজ সোমবার রাতে মুক্তিপণের দাবীকৃত টাকা নিতে আসা অপহরণকারীর চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দাশুড়িয়া লালন শাহ সেতুর মহাসড়কের নওদাপাড়া দোতলা মসজিদ সংলগ্ন চাঁদ আলী নামক এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে হৃদয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটি ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান মুক্তিপণ দাবী করা অপহৃত যুবকের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অপহরণকারীরা হয়তো অপহরণের পরেই হৃদয়কে মেরে ফেলেছে। লাশ দিয়ে গন্ধ ছড়িয়েছে। একজন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন