পাবনার ঈশ্বরদীতে নিষিদ্ধ পলিথিনের রমরমা উৎপাদন ও বাণিজ্য চলছে

নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ পাবনার ঈশ্বরদী শহরের আবাসিক এলাকার মধ্যেই গজিয়ে উঠেছে দুটি পলিথিন কারখানা এবং সেখানে অবাধে তৈরি করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত অবৈধ পলিথিন।

শুধু তাই নয় এসব নিষিদ্ধ ঘোষিত অবৈধ পলিথিন ব্র্যান্ডিং করে বাজারজাত করে বিক্রয়ও করছে উৎপাদনকারীরা। সরকারী নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অবাধে উৎপাদন ও বাজারজাত হচ্ছে এসব নিষিদ্ধ ঘোষিত অবৈধ পলিথিন। ঈশ্বরদী বাজারে তাদের পলিথিন বিক্রয়ের দোকানও র্যেছে। সেখানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত অবৈধ পলিথিন।

এই পলিথিন কারখানা দুটির একটি মধ্য অরণকোলায় অবস্থিত মেসার্স লতিফ ট্রেডার্সের মালিক মোঃ আমিরুল ইসলামের। যিনি “লতিফ প্রিন্টিং এ্যান্ড প্যাকেজিং” নামে ব্র্যান্ডিং করে নিষিদ্ধ ঘোষিত অবৈধ পলিথিন বাজারজাত করছেন।

অপরটি পলিথিন কারখানাটি শহরের শৈলপাড়ায় অবস্থিত। পলিথিন কারখানাটির মালিক মোঃ শিপন আহমেদ “শিপন সুপার ১নং স্পেশাল কোয়ালিটি” নামে ব্র্যান্ডিং করে নিষিদ্ধ ঘোষিত অবৈধ পলিথিন বাজারজাত করছেন।

এদিকে আমাদের একটি বিশ্বস্ত সুত্র জানিয়েছেন গত ১১ আগষ্ট ২০২০ তারিখে ঈশ্বরদী পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড শৈলপাড়া এলাকায় জনৈক শিপন নামক এক অবৈধ পলিথিন ফ্যাক্টরির মালিক কে আটক করা হয়েছিল।

অপরদিকে এই অবৈধ পলিথিন ফ্যাক্টরী শৈলপাড়া এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, এই পলিথিন ফ্যাক্টরীতৈ যে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে তা কতটুকু বৈধতা রয়েছে তা তদন্ত হওয়া দরকার বলে তারা দাবী তুলেছে। এমন কি এই অবৈধ পলিথিন ফ্যাক্টরীতে উৎপাদিত পণ্যের সরকারী ভ্যাট দেয়া হয় কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে অনেকেই জানান।

তাছাড়া অবৈধ পলিথিন কারখানাটির পরিবেশ ছাড়পত্র আছে কিনা তাও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে পরিবেশ বিষয়ক কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ঐ এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ। কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ দুষনের ফলে মানুষের নানা বিধ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে ভূক্তভোগিরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ৮ এপ্রিলে ২০০২ সালে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষন আইন ১৯৯৫ (১৯৯৫ এর ১ নং আইন) এর ৬ক (সংশোধিত ২০০২) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সকল বা যে কোন প্রকার পলিথিন শপিং ব্যাগ অর্থাৎ পলিইথাইলিন, পলিপ্রোপাইলিন বা উহার যে কোন যৌগ বা মিশ্রন –এর তৈরী কোন ব্যাগ, ঠোংগা বা অন্য কোন ধারক যাহা কোন সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় বা কোন কিছু রাখার কাজে বা বহনের কাজে ব্যবহার করা যায় উহাদের উত্পাদন, আমদানী, বাজারজাতকরন, বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরন, বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন বা বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ হতে সমগ্র দেশে সম্পূর্নভাবে বন্ধ করা হলো।

কিন্তু পলিথিনের নানাবিধ ব্যবহারের বিকল্প না থাকায় ১১ আগষ্ট ২০০২ সালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন না করা পর্যন্ত ১৩/১৪ টি পণ্যে সাময়িক ভাবে পলিথিন মোড়ক হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেয়। ঐ সাময়িক অনুমতির ক্ষেত্রে পুরুত্ব নির্ধারন করে দেয়া হয় ১০০ মাইক্রন।

এই সাময়িক বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ নিয়েই অবৈধ পলিথিন ব্যবসায়ীরা অবাধে ১০০ মাইক্রনের কম পুরুত্বের পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাত করে চলেছেন।

অত্যান্ত দুঃখের বিষয় হল, বাংলাদেশই প্রথম বিশ্বে পলিথিনের অপকারীতা সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সচেতন করে, ২০০২ সালে সুন্দর কিছু আইনও তৈরি করে এবং পলিথিনের বিকল্প ব্যবহারের প্রচেষ্টা শুরু করে। পৃথীবির অনেক দেশ পলিথিনের ব্যবহার সন্তষজনক হারে কমাতে সক্ষম হলেও খোদ বাংলাদেশই এক্ষেত্রে সব থেকে পিছিয়ে আছে।

বিগত দুই দশকেও পলিথিনের কোন বিকল্প অনুসন্ধান এবং পলিথিনের ব্যবহার রোধ করতে সক্ষম হয়নি। বরং ঈশ্বরদীর মত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠছে অবৈধ এসব পলিথিন কারখানা।

গবেষকদের মতে, বর্তমান হারে পলিথিন দূষনের মাত্রা বজায় থাকলে ২০৫০ নাগাদ সাগরে মাছের চাইতে পলিথিনের খন্ডিত অংশের সংখ্যা বেশী হবে।

২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট এর প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায় উত্তর মেরুর পাখির ডিমে মাইক্রো প্লাষ্টিকের উপস্থিতির প্রমান মিলেছে। এতে খাদ্য চক্র যে দূষিত হচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নাই। পলিথিনের কারনে মাটির উর্বরতা নষ্ট ও পয়ঃনিষ্কাশনের সমস্যার কথাতো সকলেরই জানা।

এতকিছুর পরও কি বন্ধ হবে না পলিথিন? বের হবে না এর কোন বিকল্প? দুই দশক তো গেল আর কত সময় লাগবে? আর এসব অসাধু পলিথিন ব্যবসায়ীদেরই বা কি হবে?

আরও পড়ুনঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে আইন শৃংখলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন