পাবনার চাটমোহরে নতুন নামে ”করোনা” ঢাউস ঘুড়ি

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধিঃ কর্মব্যস্ত এই ডিজিটাল যুগে মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সোনালী শৈশবের রঙিন ঘুড়ি। তেমনি কতটা সৌখিন হলে এভাবে ঘুড়ি উড়াতে পারে তা না দেখলে বোঝা খুবই কঠিন।

ঘুড়ির সাথে পরিচিত না এমন মানুষ পাওয়া বড়ই ভার। বিশেষ করে পাবনার চাটমোহরের গ্রামাঞ্চল ও মফস্বল শহরের শিশু কিশোরদের জীবনের একটি বড় অংশ কেটে যায় এই ঘুড়ির সাথে। নানা রং বেরং এর রঙিন ঘুড়ি উড়াতে কার না ভাল লাগে।

নানা ডিজাইনের ঘুড়ি দেখতে পাওয়া যায় উপজেলার চাটমোহরেও। কত রকম নামের ঘুড়ি আছে। তার আবার কোনটার নাম ডাক ঘুড়ি, মানুষ ঘুড়ি, বেতের ঘুড়ি, প্রজাপতি ঘুড়ি,ঈগল ঘুড়ি, সাপ ঘুড়ি সহ কত না নাম।

এবার চাটমোহরে নতুন নামে নাম করন করলো করোনা ঘুড়ি। এ ঘুড়ি তৈরি করেছেন নারিকেল পাড়া মহল্লা এলাকার আলামিন বিশ্বাস।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘুড়ি তৈরিতে সাধারণত বাঁশ এর চাছি ও নানা রং বেরং এর বাঁশ পাতা কাগজ ব্যবহার হয়। এটা আবার একটু ব্যতিক্রম। যার মধ্যে ভালোবাসার লাভ চিন্হ ও রয়েছে। আছে মোবাইলের ব্যাটারি দিয়ে নানা রকম লাল নীল, সবুজ লাইটিং ও। আকৃতি ভেদে বিভিন্ন নামে ডাকা হয় এসব ঘুড়িকে।

মানুষ আকৃতির ঘুড়িকে বলা হয় মানুষ ঘুড়ি, প্রজাপতি আকৃতির ঘুড়িকে বলা হয় প্রজাপতি ঘুঢ়ি, বাক্স আকৃতির ঘুড়িকে বলা হয় বাক্স ঘুড়ি, সাপ আকৃতির ঘুড়িকে বলা হয় সাপ ঘুড়ি, এটাতে লাইটিং দিয়ে ভালোবাসার চিন্হ আছে বিধায় এর নাম করোনা ঘুড়ি। এছাড়া ঘুড়িতে বেতের লাঠি ব্যবহার করলে তা ওড়ার সময় এক রকম শব্দ করে তাকে বলা ডাস ঘুড়ি।

বাংলা মাস মাঘ ও ফাল্গুন এই দুই মাস সাধারণত ঘুড়ি উড়ানোর উত্তম সময়। কিন্তু বৈশাখে এর প্রভাব বেশি পড়েছে। বিকেল হলেই লাঠাই ঘুরি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন ঘুড়ি প্রমিকরা। ইতিমধ্যে পৌরসদর ও গ্রামের মাঠে মাঠে বেরিয়ে পড়েছে ঘুড়ি প্রেমি শিশু, কিশোর, বয়োজ্যেষ্ঠ সহ অনেকে। নানা রং এর ঘুড়ি আকাশে উড়তে শুরু করেছে যেন বাঁধন হারা। নারিকেল পাড়া, আফ্রাতপাড়া, ভাদড়া, হরিপুর, চড়ইকোল, বোয়ালমারি গ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে মাঠে মাঠে দেখা যাচ্ছে ঘুড়ি উড়ানোর দৃশ্য।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন