পাবনার সুজানগরে গৃহবধুকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ: স্বামী ‘বিচ্ছু বাহিনীর’ সদস্য রাফি গ্রেফতার

বার্তা সংস্থা পিপঃ পাবনার সুজানগরে এক মেধাবী গৃহবধুকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শশুরবাড়ীর লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্বামী ‘বিচ্ছু বাহিনীর’ সদস্য রাফিউল আযম রাফি (২৫) কে গ্রেফতার করেছে।

গতকাল রোববার সকালে সুজানগর উপজলার ভবানীপুর এলাকায় এই র্নিমম ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যর সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, সরকারের বনবিভাগে চাকুরির সুবাদে ২০১৩ সালে পাবনার সুজানগর উপজেলায় বদলী হয়ে আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শহরের মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মো. শামসুল আরেফিন। স্ত্রী, এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে ভালই কাটছিল দিনকাল। অসম্ভব সুন্দরী এবং প্রচন্ড মেধাবী একমাত্র মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশ্বিকে সুজানগরের শহীদ দুলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদালয়ে কে নবম শ্রেণীতে ভর্তি করান।

ঐ সময় স্কুলে যাওয়া আসার পথে প্রায়ই এলাকার ‘বিচ্ছু বাহিনীর’ সদস্য চিহিৃত সন্ত্রাসী রাফিসহ অন্যরা মেয়েটিকে প্রায়ই উত্যক্ত করতো। এর মধ্যে রাফি তার বিচ্ছু বাহিনী দিয়ে ঐশ্বিকে অপহরণ করে এবং বিয়ে করে। নিহতের পরিবারের মান সম্মান ও মেয়ের কথা চিন্তা করে তখন বিষযটি কাউকে জানানো হয়নি।

২০১৭ সালে ঐশ্বি সুজানগরের শহীদ দুলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পায় এবং ২০১৯ সালে সুজানগরের নিজাম উদ্দিন আজগর আলী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি তেও গোল্ডেন এ প্লাস পায়।

সুত্র জানায়, ভাল রেজাল্ট করার পরও পারিবারিকভাবে খারাপ এবং সন্ত্রাসী পরিবার হওয়ায় মেয়েটির উপর শশুড় ও স্বামীর অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকে।

নিহতের মা অ্যাডভোকেট সাহেরা সাঈদ জানান, এই ডিজিটাল যুগে তার মেয়েকে একটি মোবাইল ফোন দেওয়া হয়নি। নিহতের শশুর আব্দুল কাদের শেখ ওরফে রাজা মিয়া সুজানগরের সন্ত্রাসী এবং মাতাল হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই পরিবারের লোকজনের অত্যাচারে এলাকার মানুষও অতীষ্ট।

অ্যাডভোকেট সাহেরা সাঈদ আরও জানান, ‘গতকাল বুধবার খবর পাওয়ার পর ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে তারা এই বাড়ীতে আসেন এবং মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

মারধরের পর শ্বাসরোধ করে ঘরের আড়ার সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। পুলিশ, এলাকাবাসী এবং আমরা এসে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় জখমের চিহ্ন পাই। আমার বদ্ধমুল ধারণা পিটিয়ে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা রয়েছে’।

এই হত্যার ঘটনায় নিহতের শশুর আব্দুল কাদের শেখ ওরফে রাজা মিয়া এবং তার ছেলে বিচ্ছু বাহিনীর সদস্য রাফিউল আযম রাফিকে আসামী করে মামলা করা হলে পুলিশ রাফিকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করে।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা জানান, ঐ পরিবারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ও নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর পরই পুলিশ ঐশ্বির স্বামী রাফিকে গ্রেফতার করেছে। এ ছাড়া নিহতের শশুর আব্দুল কাদের শেখ ওরফে রাজা মিয়াকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সুরতহাল রিপোর্টে লাশের গায়ে অসংখ্য জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। লাশ ময়না তদন্ত শেষে দাফন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, রাজা মিয়া নিজেও চরিত্রহীন লম্পট টাইপের মানুষ। সে তিন বিয়ে করে এবং ছোট বউয়ের সঙ্গে তার অনেক ঘটনা নিয়ে এলাকার মানুষজন হাস্য রহস্য করে।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বিপিএম বলেন, ঐশ্বির অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন