পাবনা শহরে সীমাহীন যানজটে ভোগান্তিতে শহরবাশী

পাবনা প্রতিনিধিঃ সীমাহীন যানজট বিশৃঙ্খলা জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে পাবনা শহর। অপরিকল্পিভাবে গড়ে ওঠা এ শহরে নেই কোনো ফুটপাত, নেই পথচারীদের পারাপারের জন্য জেব্রাক্রসিং,নেই স্থায়ীভাবে কোনো ডিভাইডার।

প্রতিদিনের যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের। শত ব্যস্ততা সত্বেও কমছে না যানজট ও জনদুর্ভোগ। শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম আব্দুল হামিদ সড়ক, এই সড়কে নাম মাত্র ফুটপাত থাকলেও ছোট খাটো দোকানপাট, রিকসা,ভ্যান, সিএনজি ও অটোবাইকের দখলে।

শহরের আব্দুল হামিদ সড়কের ট্রাফিক মোড় থেকে বণিী-বিণা সিনেমা হলের চৌরাস্তা মোড়, এই মোড় থেকে পাবনা জেলা কারাগার হয়ে অনন্ত সিনেমা হল মোড় পর্যন্ত, পাবনা ট্রাফিক মোড় থেকে সদর থানা হয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল হয়ে মেরিল মোড় পর্যন্ত, পাবনা শহরের খেয়াঘাট মোড় থেকে আতাইকুলা সড়ক হয়ে মোজাহিদ ক্লাক মোড় পর্যন্ত, পাবনা ট্রাফিক মোড় হতে নতুন ব্রীজ হয়ে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মোড় পর্যন্ত সকাল থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত লেগে থাকে যানজট আর মানুষের ভীঁড়। পিক-আপ ভ্যনসহ হাজার হাজার যানবাহন প্রবেশ করে এই শহরে।

এর সাথে যোগ হয় আগত হাজার হাজার নারী, পুরুষ ও স্কুল, কালেজগামী ছাত্র- ছাত্রী। মানুষ ও যানবাহনের ভীঁড়ে গায়ে গায়ে ধাক্কা দিয়ে চলতে হয় শহরের গন্তব্যস্থলে। এসব ব্যস্ততম রাস্তার বাইরেও রয়েছে বড় বাজার, সোনাপট্টি, বেণিয়াপট্টি, আওরঙ্গজেব রোড়, দোয়েলচত্বর, নিউমার্কেট, রাবিউল মার্কেট, রূপকথা রোড,বিভিন্ন সড়কগুলিতেও একইভাবে যানজট ও মানুষের ভীঁড়ে সারাদিনই জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শহরবাসীকে।

সে তুলনায় উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদার খ্যাত পুরাতন বৃহত্তর পাবনা জেলা শহর উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় এনে একটি মডেল শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

পাবনার মানুষের সচেতনতা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও অভিভাবকতার দুর্বলতাকেই দায়ি করেন পরিবেশবিদ ও নাগরিক সমাজ। পাবনা জেলার উন্নয়নে বর্তমান সরকার অনেক কিছুই করেছেন, বলা যায়, চাওয়ার চেয়ে প্রাপ্তিটাই বেশি। অথচ পাবনার ঐতিহ্যবাহী এই শহরের পরিবর্তন সাধন করা সম্ভব হচ্ছে না।

পদ্মা হতে হুরাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ইছামতি নদী কেন্দ্রীক গড়ে ওঠে পাবনা শহর। এ শহর গড়ার পেছনে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের সচেতনতা
আর ভবিষ্যত পরিকল্পণা ও যেগ্যতার ক্ষেত্রে রয়েছে দৈন্যতা। ফলে আজকের পাবনা হয়ে উঠেছে যানজট ও জনদুর্ভোগের শহর।

বিগত ৯০ দশকের পর থেকে পাবনা শহরের সীমানা বৃদ্ধি, অফিস ভবন, দোকন-পাট ও আবাসিক ভবন বৃদ্ধি পেলেও মানুষ ও যান চলাচলের উপযোগী সড়ক গড়ে ওঠেনি। এমন কি সড়কের জন্য জায়গা ফেলে রেখে ভবন ও দোকান-পাট নির্মাণ করা তো দুরের কথা পারলে সড়কের জায়গা দখল করতে পাড়লেই লাভবান হওয়ার ভাবনাটাই ছিলো তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

দেশে জনসংখ্যার ব্যাপক বৃদ্ধির বাইরে নেই পাবনা জেলা ও। জনসংখ্যার ব্যাপক বৃদ্ধির সাথেসাথে এ জেলার প্রতিটি উপজেলা ও  ইউনিয়ন পর্যন্ত গড়ে উঠেছে এবং উঠছে, অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, অফিস ভবন, দোকানপাট।

সেই সাথে অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, ছোট-বড় যানবাহন। অনভিজ্ঞ চালক যানবাহন চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, ঝরে যাচ্ছে মানুষের প্রাণ। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী।

এদিকে পরিবেশ ও নদী আন্দোলনের নেতারা মনে করেন, পাবনা শহরের যানজট নিরশন ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হচ্ছে, সরকারের গৃহীত ইছামতি নদী পূণঃখনন প্রকল্প দ্রæত বাস্তবায়ন করা।

এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ সড়কসহ বেশ কয়েকটি সড়কের ওপর প্রতিদিনের অগণিত যানবহনের চাপ কমবে।

নদী দখল দুষণ বন্ধ হবে, শহরের সৌন্দর্য়বৃদ্ধি পাবে, নিরশন হবে যানজট ও জনদুর্ভোগ, ফিরিয়ে আসবে স্বাভাবিক পরিবেশ।

আরও পড়ুনঃ পাবনায় পাম্প বিস্ফোরণ হয়ে যুবক নিহত; আহত-২

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন