পুঠিয়ায় বিদেশ ফেরত কতজন তা জানেনা প্রশাসন!

তারেক মাহমুদ, রাজশাহীঃ দেশ-বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের এলাকায় আসা সঠিক কোন পরিসংখ্যানের হালনাগাদ নেই পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসনের কাছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থেকে এলাকায় থেকে আসা বেশিরভাগ ব্যক্তিদের পরিসংখান দিতে পারছে না পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসন। তবে হাতে গোনা কিছু পরিসংখ্যান হলেও তা আছে বিক্ষিপ্ত ভাবে। এ বিষয়টি নিজেই অকোপটে শিকার করেছেন পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ওলিউজ্জামান।

এদিকে গত রোববার সন্ধ্যায় রাজশাহী জেলায় প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া গ্রামে। এর পরেই গোটা রাজশাহীতে এখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসন ও কয়েকজন জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা হলে তারা ব্যর্থতার দায় পুলিশের ঘাড়ে তুলে দেন। তারা জানাচ্ছে, ঢাকা থেকে বিভিন্ন যানবহনে করে মানুষ আসছে এটা রোধ করা সম্ভব প্রথমত পুলিশের দারাই। ঢাকা থেকে যারা আসছে তাদের যমুনা সেতুর আগে চেক করে হোম কোয়ারেন্টইন এ রাখা উচিত। রাজশাহীতে এবার প্রথম করোনা রোগী ধরা পড়ায় এবার নড়ে চড়ে বসেছেন স্থানীয় প্রশাসন। যানবহনের ক্ষেত্রে পুলিশকে ২৪ ঘন্টা কঠোর হয়ে চেক করা ও বাইরে থেকে কেউ আসলে উপজেলার একটি বিশেষ জায়গায় হোম কোয়ারেন্টনে রাখা হবেও বলে জানান তারা। এর মাঝে গতকাল করোনায় আক্রান্ত ঐ এলাকাটির ৪৩ টি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লক ডাউন করা হয়েছে।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের সাথেও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের গা ছাড়া ভাব নিয়ে চলতে দেখা গেছে। চোখের সামনেই অনেক মানুষ জড় হলেও দেখে দূরত্ব বজায় না করেই শাসিয়ে চলে যাচ্ছেন তারা। আর উপজেলার বাড়ি গুলোর বাইরে থাকা মানুষের হিসেব নেই! এলাকার মানুষ এখনো বাজারে জনসমাগম করছে। এলাকার কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানাচ্ছে, করোনার ভয়ের চেয়ে তাদের কাছে এখন পেটের ক্ষিধার ভয় বড় হয়ে দাড়িয়েছে।

তবে পুঠিয়া সদরে পৌরসভায় প্রতিটি বাড়ির হিসেব সঠিক ভাবে করা হচ্ছে আর পৌরসভার মাঝে যে বাড়ি গুলোতে বাইরে থেকে মানুষ এসেছে তাদের বাসায় ‘হোম কোয়ারেন্টইনে রাখা আছে। এবং প্রতিটি ওয়ার্ড কমিশনারে সাথে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সকলের লিস্ট করার কথা জানিয়েছে পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র রবিউল ইসলাম রবি।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওলিউজ্জামান জানান, বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের ঠেকানো জটিল হয়ে পড়েছে। ঢাকা থেকেই পুলিশকে এই বিষয়টা কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রন করতে হবে। আমাদের কাছে বিক্ষিপ্ত ভাবে তথ্য আছে। সঠিক তথ্য নেই!

তিনি জানান, রাজশাহী থেকে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য দেশের জেলা গুলোতে যায়। সেই গাড়ি আসার সময় তারা যানবহনে করে মানুষ নিয়ে আসছে। তাই ট্রাক ও শ্রমিকদের সাথে এই বিষয়টি রোধে আলোচনা করার প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরো জানান, এখন কৃষি পণ্য গুলোর ক্ষেত্রে বাইরের যে ট্রাক আছে ড্রাইভার থাকবে সে ট্রাকেই থাকবে। আর শ্রমিকরা মাল উঠিয়ে দিবে ট্রাক চলে যাবে।

পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র রবিউল ইসলাম রবি জানান, বাইরে থেকে আসা মানুষের ক্ষেত্রে পুঠিয়া প্রশাসন গুরুত্ব কম দিচ্ছে। সবার যেন গা ছাড়া ভাব। বিষয়টি গুরুত্ব দিলে এমনটা হতো না। আমি আমার সকল ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে সাথে নিয়ে বাইরে থেকে আসা মানুষের লিস্ট করেছি। যারা আছে তাদের কঠোর ভাবে বাসায় ‘হোম কোয়ারান্টইনে রাখছি। পৌরসভা এলাকায় সবসময় খোঁজ খবর নিচ্ছি।

পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিএমহিরা বাচ্চু জানান, মানুষ এখনো অনেক অসেচেতন। বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আরো কঠোর ভ’মিকা রাখতে হবে। এর মাঝে আমি এলাকার ট্রাক চালক ও শ্রমিকদের সাথে কথা বলেছি। বসে এই বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন