পুরো চট্টগ্রামে করোনা ভীতিতে করুন পরিস্থিতি

‌👉জীবাণুরোধক ও জীবাণুনাশক সংকট।
‌👉মুনাফা লুটছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।

কাজল বড়ুয়া, চট্টগ্রামঃ নভেল করোনা ভাইরাস চট্টগ্রাম মহানগরীর জনমনে কি পরিমান আতংক ও ভীতি ছড়িয়েছে তা রাস্তাঘাট, চায়ের দোকানের ফাকা চিত্রই তা তুলে ধরে। তবে লক্ষনীয় বিষয় হলো ঔষধের ফার্মেসিগুলোতে ফেইস মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস, ডেটল, স্যাভলন, হেক্সিসল, হ্যান্ডিক্রাব, হ্যান্ডওয়াস স্যানিটাইজার সহ জীবাণুনাশক কিনতে সাধারন মানুষের ভীড়।

নগরীর চকবাজার, পাচলাইশ, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, লালখানবাজার আগ্রাবাদ ঘুরে প্রায় সব এলাকাতেই এই ভীড় লেগেই আছে। যার ফলে এইসব জিনিসের দাম দিগুন মূল্যে বিক্রি করে মুনাফা লুটছে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা।

আবার অনেক ফার্মসিতে এসব জীবাণুরোধক ও জীবানুনাশক নাই লেখা লাগিয়ে রাখা হয়েছে। তবে সব ফার্মেসিতে এসব জীবাণুরোধী, জীবাণুনাশক পাওয়া যাচ্ছে না, অনেক ফার্মসিতে এসব জীবাণুরোধক ও জীবানুনাশক নাই লেখা লাগিয়ে রাখা হয়েছে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো যেসব ফার্মেসিতে জীবাণুরোধক ও জীবাণুনাশক পাওয়া যাচ্ছে বা মিলছে সেখানে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে চড়া দাম।

যেমন সাধারণত ছোট হেক্সিসল ও বড় হেক্সিসল বিক্রি হয় ৪০ টাকা এবং ১৩০ টাকায় তা বিক্রয় হচ্ছে যথাক্রমে ৮০ ও ৩০০ টাকায়, ৮৫ টাকা মূল্যের হ্যান্ডওয়াস বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় ৪৪ টাকা মূল্যের ডেটল, স্যাভলন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায় দেশীয় তৈরি ফিল্টার মাস্ক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, চায়না ফিল্টার মাস্ক ৮০ থেকে ১০০ টাকা,২০ টাকা মূল্যের হ্যান্ডগ্লাভস ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

এব্যাপারে আমরা কয়েকটি ফার্মেসির সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে কিছু কিছু ব্যবসায়ী দোকানের এবং নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাদের বলেন কোম্পানী ও লোকাল সাপ্লাইয়াররা অর্ডার সাপ্লাই না দেওয়ায় তাদের পাইকারি মার্কেট থেকে চড়া দামে কিনে চড়া দামে বিক্রি করছেন।

কোন পাইকারি মার্কেট থেকে এনে বিক্রি করছেন জানতে চাইলে তারা বলেন হাজারীগলি পাইকারি মার্কেট থেকে এনেছেন। যদিও তারা কোন পাইকারি বিক্রেতা ফার্মেসির নাম বলতে রাজি হননি। কারন হিসেবে উক্ত ব্যবসায়ীরা জানান যারা পাইকারি দিচ্ছেন তাদের বড় সিন্ডিকেট রয়েছে, নাম বললে আমাদের সমস্যা হতে পারে। কেমন সমস্যা জানতে চাইলে তারা বলতে রাজি হননি।

এসব জিনিসের চড়া দাম নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে সাধারন মানুষের মাঝে অসন্তোষ ও চাপা ক্ষোভের। আমরা কয়েকজন ভুক্তভোগী ক্রেতার সাথে কথা বলি যার মধ্যে অলি আহমদ নামক এক ব্যাক্তি হাতের ব্যাগে থাকা হেক্সিসল ও ডেটল দেখিয়ে বলেন এই দেখুন অনেক দোকান ঘুরে অবশেষে পেয়েছি তাও ডাবল দামে।

সুমন দাশ নামের আরেক ব্যাক্তি জানান আসলে প্রায় দোকানে এসব জিনিস পাওয়া যাচ্ছে পাওয়া গেলেও দিগুন দাম তাই প্রশাসনের যথাযত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

নগরীর আগ্রাবাদ মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের সামনে আবির ফার্মেসিতে ফেইস মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস, ডেটল, স্যাভলন, হেক্সিসল, হ্যান্ডিক্রাব, হ্যান্ডওয়াস স্যানিটাইজার নাই লেখা দেখে আমরা কথা বলি ফার্মেসির মালিক আব্দুল লতিফের সাথে।

তিনি আমাদের বলেন, তার ফার্মেসিতে থাকা সকল জীবাণুরোধক ও জীবাণুনাশক ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করেছেন। পরে অর্ডার করলেও ডেলিভারী পাচ্ছেন না, পাইকারী মার্কেটগুলোতে সিন্ডিকেটের কারনে চড়া দাম তাই তিনি এজাতীয় জিনিসপত্র বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।

সর্বোপরি চট্টগ্রাম মহানগরে করোনা ভীতিতে, অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের কারনে জীবানুরোধক ও জীবানুনাশক সংকট হয়েছে তীব্রতর, সৃষ্ট হচ্ছে কঠিন, করুন পরিস্থিতি।

জনসাধারনের প্রত্যাশা প্রশাসনের কঠোর ভূমিকায় আসবে স্বস্তি।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন