বাঘায় চোর সন্দেহে এক যুবককে প্রহার করা হয়েছে

বাঘা উপজেলা প্রতিনিধিঃ চোর সন্দেহে সেলিম নামে এক যুবককে চোর সন্দেহে বাড়ি থেকে তুলে এনে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেধে বেধড়ক মারা হয়েছে।

২২ মার্চ রবিবার সকালে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আটঘড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে একজন গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় দুই সাংবাদিক সেলিমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করে। দুপুরে সেলিমের মা বাদি হয়ে বাঘা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মামলার প্রধান আসামি খোকন উদ্দিন ওরফে বশিরকে গ্রেফতার করেছে।

অভিযোগে জানা গেছে, শনিবার রাতে উপজেলার আটঘরি চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে খোকন উদ্দিন ওরফে বশিরের (৪৫) বাড়ির রান্নাঘরের জানালা ভেঙ্গে একটি গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডার চুরি হয়। এই চুরি সন্দেহে রবিবার সকাল ৭টার দিকে প্রতিবেশি ইমদাদুল হকের ছেলে সেলিম হোসেনকে (২৮) বাড়ি থেকে চেয়ারম্যানপাড়া মোড়ে জোর করে তুলে নিয়ে যায় বশির, তার ভাই রাঙ্গা মাস্টার ও তহিদুল এবং প্রতিবেশি ইয়াজুল ও টুনা। এরপর বিদ্যুতের খুঁটির সাথে সেলিমকে রশি দিয়ে বেধে এলোপাতাড়ি মারপিট করে চুরির দায় স্বীকার করতে বলা হয়।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সেলিমের আত্মীয়-স্বজনসহ মনিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি এ ঘটনাকে মানবাধিকার লংঘন আখ্যা দিয়ে সেলিমকে বেধে রাখা রশি খুলে দেন। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ও স্থানীয় দুই সাংবাদিক। তারা সেলিমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেন।

দুপুরে সেলিমের মা হাফিজা বাদি হয়ে বাঘা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মামলার প্রধান আসামি খোকন উদ্দিন ওরফে বশিরকে বাঘা-আড়ানী মোড় থেকে গ্রেফতার করে।

মনিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি সেলিমকে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বাধা অবস্থায় পাইনি। তবে তাকে মারপিট করার ঘটনা সঠিক। সে একজন মাদকসেবী। এ কারণে চোর সন্দেহে তাকে মারপিট করা হয়েছে লোকমুখে এমনটি শুনতে পাচ্ছি।

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়ে এ মামলার প্রধান আসামি খোকন উদ্দিন ওরফে বশিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যরা পলাতক রয়েছে। সোমবার সকালে বশিরকে আদালতে পাঠানো হবে।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন