বাবা দিবস উপলক্ষ্যে বাবার প্রতি কিছু অনুভূতি

বাবার সাথে।


ফারাবি বিন সাকিব
প্রকাশিত: ০৭:১৫ অপরাহ্ন, ১৯ জুন ২০২২

বাবা মানে হাজার বিকেল আমার ছেলেবেলা,বাবা মানে হাজার বিকেল পুতুল পুতুল খেলা ইসলামের গানটি আজ মুখরিত মুখরিত উল্লাসের সৃষ্টি করেছে। প্রতিটি বাক্য যেনো হৃদয়ে গাঁথা। বাবা দিবসে আজ বাবাকে নিয়ে কিছু লিখতে চাই।ছোট বেলা থেকে নিজের ইচ্ছে পূরন করার জন্য বাবার কাছে কিছু চাওয়া হয়নি।মা কে বলেছি মা সেটায় পুরণ করেছে। বাবা ব্যবসার কাজে বাইরে ব্যস্ত থাকতো জন্য ছোট ছোট চাওয়া গুলা আম্মার কাছে বলতাম,আম্মা বাবা কে বলেই দুজনে সমন্বয় করে সেটা পূরন করতেন।

কয়েক মাস আগের কথা,বাবা ব্যবসা থেকে এসে দুপুরে খেতে বসেছে,দিনের অর্ধেক বেলার কাজ সম্পন্ন করে আমি দুপুরে খেয়ে রুমে চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম করছিলাম। বাবা দরজায় ঠুক ঠুক করে আওয়াজ করলো,আওয়াজ করে দরজা খুলে রুমে প্রবেশ।

জিজ্ঞাসা করলো মোটরবাইক চালাও তোমার কি হেলমেট আছে। আমি বললাম না,বাবা কিছু না বলেই রুম থেকে চলে গেলো।পরেরদিন বিকালে আমি বাসা থেকে বেড় হচ্ছি,আম্মা হঠাৎ করে বললো কোথায় যাও,উত্তরে বললাম বাজারে যাবো,আম্মা এই কথা শুনে রুমে গেলো,একটা নতুন চকচকা নীল কালো হেলমেট দিলো।আমি খুশিতে গদগদ হয়ে গেলাম।

একদম মোটরবাইকের সাথে হেলমেট এর পরিপূর্ণ রঙ মিলে গেছে।মা বললো রাস্তায় চলাচল করো, তোমার বাবা সারাদিন ঘুরাঘুরি করে এই হেলমেট কিনে এনেছে।তিন বছর আগের কথা,একদিন বন্ধুর সাথে ফোনে নিজের প্রিয় শখ টা পূরন করার জন্য গল্প করছিলাম।বাবা আমার রুমে এসে বললো তোমার বন্ধু মোটর বাইক কিনছে নাকি,আমি বললাম হ্যা,বিকালে ঘুরতে যাবে তাই কথা বলছিলাম।সেদিন বাবা কিছু বললো না,,শুধু মুখ টা ছোট সঙ্কচের ছায়া দেখতে পেয়েছিলাম।কয়েক মাস যাওয়ার পড় একদিন সকালে উঠে ব্রাশ করছি,সকালের নাস্তা খাওয়া শেষ করে বাড়ি থেকে বেড় হবো,হঠাৎ বাবা আমাকে ডেকে বললো কোথায় যাও,বাজারে যাবো মোটরবাইক কিনতে।চলো এক সাথে যায়,তোমার যেটা পছন্দ তুমি সেটা নিবে।কিছুপথ আমি আর বাবা গেলাম,মনে ভাবনা আসলো,এতো টাকা দিয়ে বাইক নিবো,বাবা তার সর্বচ্চো টা দিয়ে কিনে দিবে।সেদিন বাবা কে বললাম বাইক লাগবেনা।আমি ফিরে আসলাম।বাবা বললো আমার খুব ইচ্ছে তোমাকে এটা কিনে দিবো। অনেক জড়াজড়ি করলো।

তার দুই বছর পড় নিজের গোছানো টাকা দিয়ে একটা মাঝারি মোটরবাইক নিলাম নিল কালো।বাবা বললো বাইক টা সুন্দর হইছে।বাবাকে বলেছিলাম নীল কালো তো আমার প্রিয় রং। বাবা সেদিনের কথা ঠিক মনে রেখে মাঝে মাঝেই এই রকম রঙের হেলমেট খুঁজতে বাজারে যেতো,প্রায় তিন মাস খুঁজে খুঁজে সেদিন দুপুরেই হেলমেট নিয়ে এসেছিলো একদম বাইকের সাথে পরিপূর্ণ রঙের।সন্তানের প্রকাশিত ইচ্ছে গুলো আরাল থেকে শুনে নিজের মধ্যে রেখে আকস্মিকভাবে পূরণ করা যায় সেটায় চেষ্টা করেছেন।

জীবনের অনেক বড় ইচ্ছে গুলোর মধ্যে এটা ছিলো অন্যতম।আজ কয়েক বছর হয়েছে নিজে ছোট একটি পেশায় নিয়োজিত আছি।একজন সংবাদকর্মী হয়ে বাইরের প্রসারিত জ্ঞ্যান,পরিবেশ আমাকে বাস্তবতা শিখিয়েছে।তাই বাবার উপরে কখনো চাপ দিয়ে নিজের ইচ্ছে গুলো পুরণ করিনি। নিজের ইচ্ছে গুলো নিজেই পুরণ করার চেষ্টা করছি। জীবনের কোন কিছুতেই ঘাটতি রাখেনি এই মানুষ টা।নিজের ইচ্ছে গুলো বিসর্জন দিয়ে ছেলের ইচ্ছে পুরণে মাথায় নিয়ে চলেছেন।

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মা বাবা কে যেনো ভালো রাখতে পারি সেই দোয়াই চাচ্ছি সবার কাছে। সন্তান হয়ে তাদের প্রতিটি ইচ্ছে যেনো পূরন করতে পারি।বাবা দিবস উপলক্ষ্যে নয় জীবনের প্রতিটি সময় বাবার ভালোবাসা অন্যরকম। বাবা শব্দটির মধ্যে বিশালতার ছোঁয়া পাওয়া যায়। পাওয়া যায় নির্ভরতার আলিঙ্গন। বাবা মানে আশ্রয়। বাবা মানে একটি বৃক্ষ। বাবা মানে এক টুকরো ছাদ। মাথার ওপর বিশাল আকাশ। বাবা কখনও সন্তানকে বুঝতে দেন না কীভাবে তিনি তার সন্তানের মুখে অন্ন জোগান দেন।বাবা হলো একটি সন্তানের নিরাপত্তার ভিত।

লেখক: ফারাবি বিন সাকিব, সংবাদকর্মী

 


 আরও পড়ুনঃ

 আরও পড়ুনঃ

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন