বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টু টেকনাফ থেকে র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার

শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার আসামী জাকারিয়া পিন্টু র‍্যাবের হাতে আটক


নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: ০৭:২৭ অপরাহ্ন, ২৬ জুন ২০২২

ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বহুল আলোচিত ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে ১৯৯৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে হামলা ও গুলিবর্ষণের মাধ্যমে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জাকারিয়া পিন্টু(৫০)কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা থেকে শনিবার ২৫ জুন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জাকারিয়া পিন্টু অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। পিন্টু এসব বিষয় স্বীকার করে নিয়েছেন বলে জানান র‍্যাব।

রবিবার ২৬ জুন রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ট্রেনযোগে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাওয়ার পথে ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বগি লক্ষ করে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওই ঘটনায় ঈশ্বরদীর জিআরপি থানায় বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে থাকা সিআইডি ১৯৯৭ সালে সর্বমোট ৫২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

এর মধ্যে পাঁচ জন আসামি মারা যাওয়ায় তাদের ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আর বাকি ৪৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের ৩ জুলাই জাকারিয়া পিন্টুসহ ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয় বলে জানান র‍্যাব।

খন্দকার আল মঈন বলেন, মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি এলাকা ত্যাগ করে ২০০৪ সাল থেকে ঢাকার মিরপুরে বসবাস শুরু করেন। তার পরিবার ঢাকায় থাকলেও তিনি নিয়মিত ঈশ্বরদীতে যাতায়াত করতেন। তিনি ২০১৫ সালে ঈশ্বরদীতে উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং পরাজিত হন।

র‍্যাব আরও জানায়, পিন্টু ১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদীতে চম্পা হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামি। এছাড়াও ২০০৯ সালে ঈশ্বরদীতে আজম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাবরণ করেন। পরে ২০১১ সালে অস্ত্রসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁকে গ্রেফতার করে।

এরপর তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে কুষ্টিয়া ভেড়ামারা থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় তিনি তিন মাস কারাভোগ করলেও পরে জামিনে মুক্ত হয়ে ফেরারি হন। সে মামলায় আদালত তাঁকে ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এ ছাড়া ২০১২, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টি মামলা হয়। এ পর্যন্ত তাঁর নামে একটি মৃত্যুদণ্ড ও একটি ১৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা পরোয়ানা ছাড়াও বিভিন্ন অপরাধে ছয়টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় সর্বমোট ১৯টি মামলা রয়েছে।

 


 আরও পড়ুনঃ

 আরও পড়ুনঃ


একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন