বিরোধপূর্ণ খাস জলাশয়কে মৎস অভয়াশ্রম ঘোষনা করলেন জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ

ভাঙ্গুড়া(পাবনা) প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বিরোধপূর্ণ খাস জলাশয়কে মৎসের অভয়াশ্রম ঘোষনা করলেন জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ।

শনিবার দুপুরে ভাঙ্গুড়া উপজেলার খান মরিচ ইউনিয়নের পরমানন্দ পুর গ্রামের তিনি হাজির হয়ে শতশত গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে এই বিরোধপূর্ণ খাস জলাশয় থেকে জেলেদের দিয়ে মাছ ধরা শেষে মৎসের অভায়াশ্রম ঘোষনা করেন। সেই সাথে তিনি ওই পুকুরে মৎসের অভয়াশ্রমের সাইবোর্ড টনিয়ে দেন। ফলে একদিকে সরকারি খাস জলাশয় রাজস্বখাতে ফিরল পাশাপাশি গ্রামবাসির মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের অশংকাও কেটে গেল।

এসময় এডিসি রাজস্ব মোঃ মোকলেছুর রহমান,ভাঙ্গুড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বাকী বিল্লাহ, ইউএনও সৈয়দ আশরাফুজ্জামান,ফরিদপুর ইউএনও আহম্মদ আলী ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ রঞ্জু, আজিদা পারভীন পাখি, খান মরিচ ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান আসাদ, উপজেলা ভুমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃন্দ ও শত শত সাধারণ স্থানীয় উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন।

খান মরিচ ইউনিয়ন ভুমি অফিস সূত্রে জানা যায়, এই ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের পরমানন্দ পুর গ্রামের প্রায় সাড়ে ১৫ বিঘা খাস জমি রয়েছে। যা প্রায় বিশ বছর আগে ১৮ জন ভুমিহীনদের মধ্যে বন্দেবস্ত দেন জেলা প্রশাসক।

অন্যন্যা ভুমিহীন ব্যক্তিরা বন্দেবস্তকৃত ভুমি ভোগ দখল করলেও প্রায় সাড়ে তিন বিঘা জমি নিয়ে নয়ন গংদের সাথে বিরোধ বাধে ভুমিহীন জাহাঙ্গীর আলম, মোজাম প্রাং, আকুল সরদার,সোহরাব পালদের। যার ফলে নয়ন গংদের সাথে একাধিকবার মারামারি ও দাঙ্গার ফলে উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছিল। তাই বিষয়টির বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তারা একাধিকবার স্থানীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবগের সাথে আপোষ মীমাংশার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। যার ফলে গত চার বছর ধরে ঔই জলাশয়ে কেহই দখলে যেতে পারেন নি।

সম্প্রতি এদিকে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও ওই জলাশয়ে মাছ ধরা নিয়ে উত্তেজনাকর অবস্থা সৃষ্টির হচ্ছিল। এমন খবরের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ স্থানীয় ভুমি কর্মকর্তার সহায়তায় উপস্থিত থেকে জেলেদের দিয়ে মাছ ধরিয়ে জলাশয়টিকে মৎসের অভয়াশ্রম ঘেষনা করেন। এসময় উৎসুক শতশত স্থানীয় নারী পুরুষ পুকুরের পাড়ে দেখতে ভীড় করতে দেখা গেছে।

এবিষয়ে ভুমিহীন জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা গরীব বলে আমরা ন্যায় বিচার পাই নি। তাই আমরা একাধিক বার মার খেলেও আমাদের পাশে কেহই দাড়ায় নি। আজ আবার সরকার কর্তৃক আমাদের দেওয়া বন্ধেবস্ত ভুমি আবার ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে অপর পক্ষ নয়ন হোসেন বলেন, ওই ভূমি ডিএস রেকর্ডে নদী ছিল এবং এসএ রেকর্ডে নালা বলে উল্লেখ আছে। এবং স্থানীয় জনসাধারণের পানি নিষ্কাশনের জন্য বন্ধেবস্ত বর্হিভুত লেখা রয়েছে। তাই আমরা বন্ধেবস্ত বাতিলের দাবী করেছি। সেই দাবীর আজ বাস্তবায়ন হল।

এবিষয়ে ভাঙ্গুড়ার উপজলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, জলাশয় তিন বছরের জন্য বন্দেবস্ত দেওয়ার বিধান রয়েছে। যা তাদের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। তাই সরকারি সম্পত্তি সরকার তার খতিয়ানে নিতে পারেন।

এব্যপারে জেলা প্রশাসক কবরি মাহমুদ বলেন,বর্তমানে জলাশয়,খালবিলে একদিকে যেমন জলসেচে মৎস আহরন করছে অন্য দিকে বিষ প্রয়োগেও মাছ শিকার করছে ফলে মা মাছ তৈরি হচ্ছে না। তাই মা মাছ তৈরির করার জন্য মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা দরকার। তাই দীর্ঘদিনের বিরোধ পূর্ণ সরকারি জলায়শকে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হলো। এতে করে একদিকে যেমন মা মাছ তৈরি হবে অন্যদিকে জলাশয়টি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসন হলো।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন