ভাঙ্গুড়ায় আট কোটির সড়কে নিম্নমানের খোয়া এলাকাবাসীর বাধায় কাজ বন্ধ

শাহিবুল ইসলাম পিপুল, (ভাঙ্গুড়া) পাবনাঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ৮ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণাধীন সড়কে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের কারনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে নিজেরাই একজোট হয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী।

এ সময় সেখানে কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকৌশল অফিসের উপ-সহকারী প্রকৗশলী বাবুল আক্তারের সাথে এলাকাবাসীর হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী সরোজমিনে গিয়ে গ্রামবাসীর অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রকৌশল অফিস ২০১৮/১৯ শরৎনগর বাজার হতে ভবানীপুর গ্রামের শেষ সীমানা পর্যন্ত আট কোটি টাকা ব্যায়ে ৫.৭ কি.মি. আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের দরপত্র আহবান করে। কাজের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদার জিন্নাহ গত বছর জানুয়ারী মাসে সড়কের কাজ শুরু করেন। কাজের শুরুতেই অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ তুলতে শুরু করেন এলাকাবাসী। বিভিন্ন সময়ে তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রকৌশল অফিসেও অভিযোগ করেন। কিন্তু এলাকাবসীর অভিযোগ উপজেলা প্রকৌশল অফিস গুরুত্ব না দেয়ায় এভাবেই কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন ঠিকাদার।

কিন্তু বর্তমানে অত্যান্ত নিম্নমানের ইট খোয়া ব্যবহার শুরু করলে এলাকাবাসী উপজেলা প্রকৌশল অফিসের উপ-সহকারী প্রকৗশলী বাবুল আক্তারের কাছে অভিযোগ দেন। কিন্তু তিনি ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা জেলা প্রাসকের কাছে অভিযোগ দিয়ে নিজেরাই কাজ বন্ধ করে দেন। পরে জেলা প্রসাশকের নির্দেশে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শনিবার দুপুরে ঠিকাদার জিন্নাহ আলীকে ডেকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

শনিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকাবাসীর অভিযোগে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান ও উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম এলাকাবাসীর দেয়া অভিযোগ সংশ্লিষ্ট জায়গা পরিদর্শন করছেন। এসময় ভাঙ্গুড়া পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল তাদের সঙ্গে ছিলেন। এর পরে সেখানে ঠিকাদার জিন্নাহ পৌছালে সেখানে নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহার দেখে ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। যদিও এর আগেই এলাকাবাসী নিম্নমানের ইট ব্যবহার করার অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দেন।

ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, দীর্ঘ দিন নষ্ট থাকার পরে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আমাদের গ্রামের ভেতর দিয়ে এই সড়ক নির্মাণ হচ্ছে। তাই এই সড়কে কোনো রকমের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। দরপত্র অনুযায়ী কাজ বুঝে নিতে এলাকাবাসী যেকোনো ধরনের আন্দোলন-সংগ্রাম করবে।

কাজ বন্ধের বিষয়ে ঠিকাদার জিন্নাহ বলেন, পাবনার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আমার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজে বেশী বাড়াবাড়ি করেন তাই আমি নিজেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। ঢাকা অফিস আমার কাজ পরিদর্শন করে যদি সন্তষ্ট হয় তবেই আমি পুনরায় কাজ শুরু করব।

কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকৌশল অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাবুল আক্তার বলেন, আমরা শতভাগ ভালো মানের কাজ চাই। কিন্তু ঠিকাদারের প্রভাবে অনেক সময় কিছু করতে পারি না। তবুও এলাকাবাসীর অভিযোগের কারণে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এলজিইডির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসে কাজ পরিদর্শন শেষে অনুমতি দিলে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।

পাবনার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কে.এম বাদশা মিয়া বলেন, ঠিকাদার যেই হোক কাজের গুনগত মানে কোন ছাড় দেয়া হবে না। এলাকাবাসীর অভিযোগের কারনে যে কোন সময় এলজিইডির প্রধান অফিসের প্রতিনিধি দল ঐ সড়ক পরিদর্শন করবেন। তাদের অনুমতি সাপেক্ষে কাজ পুনরায় শুরু করা হবে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, আমি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এই সড়ক পরিদর্শনে এসেছি। এখানে সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের কারনে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে কাজ শুরু করা হবে।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন