ভাঙ্গুড়ায় নির্যাতন করে গৃহবধূর চুল কেটে পাষান্ড স্বামী আটক

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনা ভাঙ্গুড়ার খাদিজা খাতুন (২৬) নামে এক গৃহবধূকে যৌতুকের কারণে নির্যাতন করে জোর পূর্বক তার মাথার চুল কেটে আকট হয়েছে তার পাষান্ড স্বামী। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার খান মরিচ ইউনিয়নের সুলতান পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার ওই গৃহবধূ নিজে ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ ঐ গৃহবধূর স্বামী শাহেদ ফকিরকে আটক করেছে।

থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যৌতুকে কারণে গৃহবধূ খাদিজাকে তার স্বামী শাহেদ ফকির ও তার শ্বশুড় শাশুরী প্রায়ী মারধর করত। তারই ধারাবাহিতকায় গত বৃহস্পতিবার রাতে মারধর করে ঐ গৃহবধূকে একটি ঘরে আটকে রাখে তার স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজন। গভীর রাতে আবারও নির্যাতনের এক পর্যায়ে তার স্বামী ও শ্বশুর শ্বাশুড়ী মিলে কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেয়। কিন্তু ভোর রাতে সে কৌশলে পালিয়ে প্রতিবেশী এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

নির্যাতিতা খাদিজা জানান, বিবাহিত জীবনের সে দুই সন্তানের জননী। তার স্বামী নেশায় করে এবং পরকিয়াতে আসক্ত। সে নেশার টাকা না পেয়ে তার বাবার বাড়ী থেকে যৌতুকে টাকার জন্য মাঝে মধ্যেই চাপ দিতো। এভাবে তাকে বেশ কয়েকবার টাকা দিয়েছেন । কিন্তু বৃহস্পতিবারে তাকে যৌতুকের টাকার জন্য আবারও চাপ দিলে টাকা দিতে তিনি অস্বীকার করলে বৃহস্পতিবার রাতে খাদিজাকে তার স্বামী শাহেদ, শ্বশুর মালেক ফকির ও শাশুড়ি শাহিদা খাতুন প্রচÐ মারধর করে। এর জের ধরে রাত তিনটার দিকে খাদিজার শয়ন কক্ষে ঢুকে তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি হাত-পা ও মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে কাঁচি দিয়ে চুল কেটে দেয়। ফলে শুক্রবার সকালে কৌশলে ঐ নির্যাতিতা তার স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর পরই তার স্বামী শাহেদ ফকিরকে আটক করেছে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ।

ভাঙ্গুড়া থানার ওসি মাসুদ রানা অভিযোগ বিষয় নিশ্চিত করে জানান, এঘটনা নির্যাতিতা গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে তার স্বামী সহ তিনজনকে আসামী করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগের পরপরই অভিযুক্ত শাহেদ ফকিরকে আটক করা হয়েছে। বাকীদের অভিযুক্তদের দ্রæত আটক হবে।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন