ভাঙ্গুড়ায় পশু জবাই নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত ১৮

চলনবিলাঞ্চল প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করা নিয়ে ঈদের দিন দুই গ্রামের লোকজনের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।

উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের মুন্ডুমালা গ্রামের ওসমান ও আবু বকর গ্রুপের মধ্যে গত সোম ও মঙ্গলবার দফায় দফায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ দুই গ্রুপ মিলে প্রায় ১৮ জন আহত হয়েছে।

তাদের মধ্যে ১২জন ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আরও বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে এমন আতঙ্ক বিরাজ করছে এলাকায়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার মুন্ডুমালা গ্রামে ওসমান ও আবু বকরের মধ্যে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

দুই জনের অনুসারীরা আলাদাভাবে ভাবে সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করে আসছে।

এর ধারাবাহিকতায় ঈদের দিন মসজিদের সামনের ফাঁকা জায়গায় কোরবানীর পশু জবাই করা স্থান নির্ধারন করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়।

পরে সমঝোতার মাধ্যমে জায়গাটির দুই পাশে আলাদাভাবে পশু জবাই করে দুই পক্ষ। ঐদিন বিকালে পশু জবাই ও দরিদ্রদের মাঝে গোস্ত বিতরণ শেষে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হয়।

মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন আবারও লাঠিসোটা নিয়ে এক পক্ষ অপর পক্ষের উপর হামলা চালায়।

এ সময় দুই দফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ১২জন আহত হয়। সংঘর্ষ শেষে আহতদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

বর্তমানে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হলেও পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

খানমরিচ ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আসাদুর রহমান জানান, মুন্ডুমালা গ্রামের দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

সম্প্রতি মসজিদ কমিটি ও কুরবানির স্থান নির্ধারণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। তবে কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

ভাঙ্গুড়া থানার ডিউটি অফিসার এএসআই সাজেদুর রহমান বলেন, মসজিদ কমিটির দুটি পক্ষ ঈদের কুরবানির জায়গা দখল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫/১৬ জন আহত হয়। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি বলে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানায় ওই কর্মকর্তা।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন