ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশের জেলা উপোজেলা পর্যায়ে দৈনিক স্বতঃকণ্ঠে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে । আগ্রহী প্রার্থীগন জীবন বৃত্তান্ত ইমেইল করুন shatakantha.info@gmail.com

ভাঙ্গুড়ায় যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ হাকিমপুরী জর্দা

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত সময় ১১:২১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২০
  • / 15

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় দোদারসে বিক্রি হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিষিদ্ধ হাকিমপুরী জর্দা।

অতিরিক্ত লাভের আশায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই জর্দা এখন ও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, মুদী দোকান, পানের দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছে। পরে এই সকল দোকান থেকে গ্রাহক পর্যায়ে পৌছে যাচ্ছে এই নিষিদ্ধ জর্দ্দা। অথচ গত শনিবার উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নে এক প্রাথমিক শিক্ষার্থী এই জর্দা খেয়ে মারা গেলে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে পারে এলাকাবাসী।

জানা যায়, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গত বছরের ৭ নভেম্বর বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন নামের জর্দা, গুল ও খয়রের ২২ টি নমুনা সংগ্রহ করে আনবিক শক্তি কমিশনে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। পরীক্ষা শেষে ২২ টি নমুনাতেই হেভিমেটাল, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়াম পাওয়া যায়। পরে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর নিরাপদ খাদ্য আদালত বাজার থেকে অন্যান্য জর্দা, গুল ও খয়েরের সাথে হাকিমপুরী জর্দাও তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপরেও ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের দোকানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ হাকিমপুরী জর্দা।

বুধবার উপজেলার ভাঙ্গুড়া, শরৎনগর ও পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ভেড়ামারা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন মুদিখানা ও পানের দোকানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে হাকিমপুরী জর্দা।

দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারাও জানেন এই জর্দা বর্তমানে নিষিদ্ধ। জেলার ঈশ্বরদী ও চাটমোহর উপজেলার মির্জাপুর বাজারের কয়েকেজন ব্যবসায়ী এখনও এই জর্দা বাজারজাত করে চলেছে। তবে প্রাশাসনকে ফাঁকি দিতে তারা জর্দার কৌটাঢ লাগানো লেবেল তুলে ফেলেন। হাকিমপুরী জর্দার ছোট কৌটা আগে ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও নিষিদ্ধ হওয়ায় ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ক্রেতা বলেন, “আমি আগে থেকেই হাকিমপুরী জর্দা খাই। মাঝে পাওয়া গেল না তখন অন্য জর্দা খেলাম। এখন আবার পাচ্ছি আবার খাচ্ছি। তবে দাম বেড়ে গেছে।”

ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ডের এক জর্দা বিক্রেতা বলেন, “আমাদের এলাকায় হাকিমপুরী জর্দা বেশি চলে। অন্য কোম্পানীর জর্দা থাকলেও তা খুব কম বিক্রি হয়। নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের কোন ঝামেলা নাই তাই জর্দা পেতে অসুবিধা হয় না।

এ বিষয়ে পাবনা জেলার কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মাহবুবুল আলম বলেন, গত ৩ মাস আগে বিজ্ঞ আদালত দেশের বাজার থেকে ক্ষতিকর হাকিমপুরী জর্দা তুলে নেয়ার আদেশ দেন। এরপরও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে হাকিমপুরী জর্দা বাজারজাত করে অসাধু ব্যবসায়ীরা আইনের অবমাননা করছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এসকল অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানানো হবে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম বলেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মতে বাজারের সকল দোকানদারকে হাকিমপুরী জর্দা বিক্রি না করতে সতর্ক করা হয়। এরপরে অনেকে বিক্রি করায় অভিযান চালিয়ে হাকিমপুরী জর্দা ধ্বংস করা হয়েছে। পুনরায় ব্যবসায়ীরা হাকিমপুরী জর্দা গোপনে বিক্রি করছে এমন খবর পেয়ে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে আইনগত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ব্যবসায়ীদের হাকিমপুরী জর্দা বিক্রি করা মারাত্মক অপরাধ। দ্রুত এ ধরনের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙ্গুড়ায় যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ হাকিমপুরী জর্দা

প্রকাশিত সময় ১১:২১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২০

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধিঃ পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় দোদারসে বিক্রি হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিষিদ্ধ হাকিমপুরী জর্দা।

অতিরিক্ত লাভের আশায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই জর্দা এখন ও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, মুদী দোকান, পানের দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছে। পরে এই সকল দোকান থেকে গ্রাহক পর্যায়ে পৌছে যাচ্ছে এই নিষিদ্ধ জর্দ্দা। অথচ গত শনিবার উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নে এক প্রাথমিক শিক্ষার্থী এই জর্দা খেয়ে মারা গেলে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে পারে এলাকাবাসী।

জানা যায়, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গত বছরের ৭ নভেম্বর বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন নামের জর্দা, গুল ও খয়রের ২২ টি নমুনা সংগ্রহ করে আনবিক শক্তি কমিশনে পরীক্ষার জন্য পাঠায়। পরীক্ষা শেষে ২২ টি নমুনাতেই হেভিমেটাল, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়াম পাওয়া যায়। পরে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর নিরাপদ খাদ্য আদালত বাজার থেকে অন্যান্য জর্দা, গুল ও খয়েরের সাথে হাকিমপুরী জর্দাও তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপরেও ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের দোকানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ হাকিমপুরী জর্দা।

বুধবার উপজেলার ভাঙ্গুড়া, শরৎনগর ও পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ভেড়ামারা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন মুদিখানা ও পানের দোকানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে হাকিমপুরী জর্দা।

দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারাও জানেন এই জর্দা বর্তমানে নিষিদ্ধ। জেলার ঈশ্বরদী ও চাটমোহর উপজেলার মির্জাপুর বাজারের কয়েকেজন ব্যবসায়ী এখনও এই জর্দা বাজারজাত করে চলেছে। তবে প্রাশাসনকে ফাঁকি দিতে তারা জর্দার কৌটাঢ লাগানো লেবেল তুলে ফেলেন। হাকিমপুরী জর্দার ছোট কৌটা আগে ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও নিষিদ্ধ হওয়ায় ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ক্রেতা বলেন, “আমি আগে থেকেই হাকিমপুরী জর্দা খাই। মাঝে পাওয়া গেল না তখন অন্য জর্দা খেলাম। এখন আবার পাচ্ছি আবার খাচ্ছি। তবে দাম বেড়ে গেছে।”

ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ডের এক জর্দা বিক্রেতা বলেন, “আমাদের এলাকায় হাকিমপুরী জর্দা বেশি চলে। অন্য কোম্পানীর জর্দা থাকলেও তা খুব কম বিক্রি হয়। নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের কোন ঝামেলা নাই তাই জর্দা পেতে অসুবিধা হয় না।

এ বিষয়ে পাবনা জেলার কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মাহবুবুল আলম বলেন, গত ৩ মাস আগে বিজ্ঞ আদালত দেশের বাজার থেকে ক্ষতিকর হাকিমপুরী জর্দা তুলে নেয়ার আদেশ দেন। এরপরও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে হাকিমপুরী জর্দা বাজারজাত করে অসাধু ব্যবসায়ীরা আইনের অবমাননা করছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এসকল অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানানো হবে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম বলেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মতে বাজারের সকল দোকানদারকে হাকিমপুরী জর্দা বিক্রি না করতে সতর্ক করা হয়। এরপরে অনেকে বিক্রি করায় অভিযান চালিয়ে হাকিমপুরী জর্দা ধ্বংস করা হয়েছে। পুনরায় ব্যবসায়ীরা হাকিমপুরী জর্দা গোপনে বিক্রি করছে এমন খবর পেয়ে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে আইনগত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ব্যবসায়ীদের হাকিমপুরী জর্দা বিক্রি করা মারাত্মক অপরাধ। দ্রুত এ ধরনের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।