ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশের জেলা উপোজেলা পর্যায়ে দৈনিক স্বতঃকণ্ঠে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে । আগ্রহী প্রার্থীগন জীবন বৃত্তান্ত ইমেইল করুন shatakantha.info@gmail.com

ভাঙ্গুড়ায় সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত সময় ০৫:৫৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯
  • / 11

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের কয়রা-পুকুরপাড় গ্রামে নির্মাণাধীন একটি সড়কে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করছিলেন ঠিকাদার। এতে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তা কাজ বন্ধ করে দেন।

এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছিল এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর এই সাবমারসিবল সড়ক। এতো টাকা বরাদ্দের পরেও সড়কের পরে বাধ্য হয়ে নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নিতে শুরু করেন ঠিকাদার।

জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উপজেলার প্রত্যন্ত ও বন্যা কবলিত খানমরিচ ইউনিয়নের কয়রা থেকে পুকুরপাড় গ্রাম পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগের জন্য তিনটি কালভার্ট নির্মাণ সহ ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এক কিলোমিটার সাবমারসিবল সড়ক নির্মাণ কাজের দরপত্র আহŸান করে উপজেলা প্রকৌশল অফিস।

পাবনা শহরের ঠিকাদার জিন্নাহ আলী সড়ক নির্মাণ কাজটি পান। এ বছরের শুরুতে নির্মাণ কাজ শুরু করেন ঠিকাদার।

তবে বন্যার পানি চলে আসায় বছরের মাঝামাঝি সময়ে কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হওয়ার পরেই বন্ধ হয়ে যায়। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরে গত মাস থেকে আবারও কাজ শুরু করেন ঠিকাদার।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরপাড় থেকে কয়রা গ্রাম অভিমুখে মূল রাস্তার প্রায় ৬০০ মিটার সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ গত বছর শেষ হয়।

বাকি ৪০০ মিটার সড়কের মাটির কাজ এ মাসে শেষ হয়েছে। এখন আরসিসি ঢালাইয়ের আগে বালু ও খোয়া দিয়ে চলছে বেড তৈরির কাজ। এতে ঠিকাদার বালুর সাথে পোড়ামাটির মতো দেখতে অত্যন্ত নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করছে।

এমনকি দরপত্র অনুযায়ী এক ফুট পুরুত্বের বেড তৈরিতে অর্ধেক পরিমাণে বালু ও খোয়া ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও বালু বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এমতাবস্থায় এলাকাবাসী নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা উপজেলা প্রকৌশল অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাবুল আক্তারের কাছে অভিযোগ করেন।

এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাবুল আক্তার বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।

এছাড়া আগামী দু’দিনের মধ্যে ভালো মানের খোয়া দিয়ে পুনরায় সড়কের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন।

কর্মকর্তার নির্দেশে ঠিকাদারের লোকজন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নিতে শুরু করেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

কয়রা গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, সড়ক নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ঠিকাদার। এ বিষয়ে অভিযোগ দিলে সেই মুহূর্তে কাজের মান ভালো হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে প্রকৌশল অফিসের লোকজন না আসলেই আবারো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার শুরু করে ঠিকাদার। এ বিষয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা হওয়া দরকার।

কয়রা-পুকুরপাড় গ্রামের ইউপি সদস্য জিন্নাত আলী বলেন, নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের বিষয়ে গ্রামবাসী জানিয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখে উপজেলা প্রকৌশলীকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানাবো।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারের ম্যানেজার আবু জাফর বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়ক নির্মাণ কাজ হওয়ায় নির্মাণ সামগ্রী পৌঁছাতে একাধিকবার যানবহন পরিবর্তন করতে হয়।

এ কারণে নির্মাণ কাজের ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণগত মান ঠিক থাকেনা। তবে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের চাহিদামতো সামগ্রী পরিবর্তন করে আরো উন্নত মানের সামগ্রী ব্যবহার হয়েছে।

এরই প্রেক্ষাপটে খোয়া সরিয়ে নিয়ে আরো ভালো মনের খোয়া ব্যবহার করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আক্তার বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পাওয়ার পরই কাজ বন্ধ করে দিয়ে ঠিকাদারকে নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

এরপর দরপত্র অনুযায়ী পরিমাণ মতো ভালো মানের খোয়া দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।

 

 

ভাঙ্গুড়ায় সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ

প্রকাশিত সময় ০৫:৫৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের কয়রা-পুকুরপাড় গ্রামে নির্মাণাধীন একটি সড়কে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করছিলেন ঠিকাদার। এতে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তা কাজ বন্ধ করে দেন।

এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছিল এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর এই সাবমারসিবল সড়ক। এতো টাকা বরাদ্দের পরেও সড়কের পরে বাধ্য হয়ে নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নিতে শুরু করেন ঠিকাদার।

জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উপজেলার প্রত্যন্ত ও বন্যা কবলিত খানমরিচ ইউনিয়নের কয়রা থেকে পুকুরপাড় গ্রাম পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগের জন্য তিনটি কালভার্ট নির্মাণ সহ ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এক কিলোমিটার সাবমারসিবল সড়ক নির্মাণ কাজের দরপত্র আহŸান করে উপজেলা প্রকৌশল অফিস।

পাবনা শহরের ঠিকাদার জিন্নাহ আলী সড়ক নির্মাণ কাজটি পান। এ বছরের শুরুতে নির্মাণ কাজ শুরু করেন ঠিকাদার।

তবে বন্যার পানি চলে আসায় বছরের মাঝামাঝি সময়ে কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হওয়ার পরেই বন্ধ হয়ে যায়। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরে গত মাস থেকে আবারও কাজ শুরু করেন ঠিকাদার।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরপাড় থেকে কয়রা গ্রাম অভিমুখে মূল রাস্তার প্রায় ৬০০ মিটার সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ গত বছর শেষ হয়।

বাকি ৪০০ মিটার সড়কের মাটির কাজ এ মাসে শেষ হয়েছে। এখন আরসিসি ঢালাইয়ের আগে বালু ও খোয়া দিয়ে চলছে বেড তৈরির কাজ। এতে ঠিকাদার বালুর সাথে পোড়ামাটির মতো দেখতে অত্যন্ত নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করছে।

এমনকি দরপত্র অনুযায়ী এক ফুট পুরুত্বের বেড তৈরিতে অর্ধেক পরিমাণে বালু ও খোয়া ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও বালু বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এমতাবস্থায় এলাকাবাসী নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা উপজেলা প্রকৌশল অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাবুল আক্তারের কাছে অভিযোগ করেন।

এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাবুল আক্তার বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।

এছাড়া আগামী দু’দিনের মধ্যে ভালো মানের খোয়া দিয়ে পুনরায় সড়কের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন।

কর্মকর্তার নির্দেশে ঠিকাদারের লোকজন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নিতে শুরু করেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

কয়রা গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, সড়ক নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে ঠিকাদার। এ বিষয়ে অভিযোগ দিলে সেই মুহূর্তে কাজের মান ভালো হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে প্রকৌশল অফিসের লোকজন না আসলেই আবারো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার শুরু করে ঠিকাদার। এ বিষয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা হওয়া দরকার।

কয়রা-পুকুরপাড় গ্রামের ইউপি সদস্য জিন্নাত আলী বলেন, নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের বিষয়ে গ্রামবাসী জানিয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখে উপজেলা প্রকৌশলীকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানাবো।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারের ম্যানেজার আবু জাফর বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়ক নির্মাণ কাজ হওয়ায় নির্মাণ সামগ্রী পৌঁছাতে একাধিকবার যানবহন পরিবর্তন করতে হয়।

এ কারণে নির্মাণ কাজের ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণগত মান ঠিক থাকেনা। তবে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের চাহিদামতো সামগ্রী পরিবর্তন করে আরো উন্নত মানের সামগ্রী ব্যবহার হয়েছে।

এরই প্রেক্ষাপটে খোয়া সরিয়ে নিয়ে আরো ভালো মনের খোয়া ব্যবহার করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আক্তার বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পাওয়ার পরই কাজ বন্ধ করে দিয়ে ঠিকাদারকে নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

এরপর দরপত্র অনুযায়ী পরিমাণ মতো ভালো মানের খোয়া দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।