মাহাথিরের পদত্যাগ মালয়েশিয়া সরকারকে ফাঁদে ফেলে দিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ দেশটির বাদশাহর নিকট পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, সোমবার তার অফিস জানিয়েছে, এতে নতুন সরকার পরিচালনা ও নতুন জোট গঠনের আলোচনা সরব হয়ে উঠেছে।

মাহাথিরের অভিষিক্ত উত্তরাধিকারী আনোয়ার ইব্রাহিমকে বাদ দিয়ে নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে এর কিছু সদস্য ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে সপ্তাহব্যাপি আলোচনার পরে মালয়েশিয়ার ক্ষমতাসীন জোটের ভাগ্য সন্দেহের মধ্যে পড়ে গেছে।

২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করতে এবং দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকা ইউনাইটেড মালায়াস ন্যাশনাল অরগানাইজেশন (ইউএমএনও) কে পরাজিত করার জন্য মাহাথির-আনোয়ার জোট গঠন করেছিল। মাহাথির-আনোয়ারকে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে জোট গঠন করা হয়েছিল।

৯৪ বছর বয়সের বিশ্বের প্রাবীনতম প্রধানমন্ত্রী মাহাথির এবং ৭২ বছর বয়সী আনোয়ারের মধ্যে গত এক যুগ ধরে রাজনৈতিক দন্দ ও উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

মাহাথিরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “চিঠিটি হিজ রয়্যাল হাইনেস দ্য কিংকে বেলা একটায় প্রেরণ করা হয়েছিল।”

গত ২৪ ফেব্রুয়ারী দুপুর ১২টায় আনোয়ারের রাজার সাথে দেখা করার কথা ছিল। সরকার গঠনের দাবিতে রাজার রাজনৈতিক সমর্থন ছিল কি না তা স্পষ্ট ছিল না।

রাজার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং ইউএমএনও সহ অন্যান্য দলের সমর্থন নিয়ে মাহাথির আরেকটি সরকার গঠন করতে পারবেন কিনা তা এখনও পরিস্কার নয়।

মাহাথিরের পার্টির এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যদি কোনও দলে ১১২ সদস্য প্রয়োজন। যদি তা না থাকে তবে নতুন নির্বাচন করতে হতে পারে।

মালয়েশিয়ার অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আজমিন আলী সহ আনোয়ারের পিকেআর পার্টি থেকে ১১ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে বার্সাতু দল পৃথক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ক্ষমতাসীন জোটকে ছেড়ে দিয়েছে।

তৃতীয় পক্ষের একজন বলেছেন, যে দলের নিকট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে তারাই পরবর্তী সরকার গঠন করবে।

আর একজন ব্যক্তি, যিনি মাহাথিরের কাছের মানুষ, তিনি বলেছেন, “যে লোকেরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা দাবি করে তারা রাজার কাছে গিয়ে প্রমাণ করতে পারে”।

আনোয়ারের প্রেস সচিব তাত্ক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্যের জবাব দেননি।

আনোয়ারের স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ইসমাইল দেশের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং মাহাথিরের পদত্যাগ গ্রহণ করা হলে তিনি সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকবেন।

রবিবার আনোয়ার তার নিজের পিকেআর পার্টিতে মহাথিরের দল এবং “বিশ্বাসঘাতক” কে ইউএমএনও দিয়ে নতুন সরকার গঠনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছিলেন।

সূত্র জানায়, মহাথিরের দল এবং আনোয়ারের দলের মধ্যে দন্দের কারনে আনোয়ার ইউএনএনও ও ইসলামপন্থী দল পিএএসের কর্মকর্তাদের সাথে নতুন জোট গঠনের চেষ্টা করেছিল। সম্ভবত সেকারনে মাহাথিরকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করার লক্ষ্যে ফিরে এসেছিল।

রাজনৈতিক উত্তেজনা, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সময় অঞ্চলভিত্তিক উদ্বেগের সাথে মালয়েশিয়ার মুদ্রা, বন্ড এবং শেয়ার বাজারের সূচক কমে গিয়েছে।

রিংগিতের মান 0.৮% হ্রাস পায় – এটি তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন এবং প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছায়।

শেয়ারবাজার সূচক আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং বন্ডগুলির মূল্যও হ্রাস পেয়েছে।

“মালয়েশিয়ার পক্ষে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ফিরিয়ে আনা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে,” বিওএস ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট মালয়েশিয়ার ইক্যুইটি বিভাগের প্রধান জোলেন কেক বলেছেন, প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন