মেয়েকে উত্যক্তের ক্ষোভে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার তাঁত শ্রমিক ইয়াকুব আলীকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ মূল হত্যাকারী এক দুর্ধর্ষ ডাকাতসহ তিন জনকে আটক করেছে।

আটককৃতরা হলো, এনায়েতপুর থানার রুপনাই গ্রামের মৃত শুকুর আলীর ছেলে আব্দুর রহমান (৫০), একই গ্রামের গাছপাড়ার রইজ মোল্লার ছেলে আব্দুর রহিম (৪৮) এবং খুকনী কান্দিপাড়ার মধূ প্রামানিকের ছেলে খুশি আলম (৪০)।

মেয়েকে উত্যক্তের ক্ষোভ থেকে খুশি আলম ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

এনায়েতপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল মামুন ও নিহতের পরিবার জানায়, গত ৬ জানুয়ারী সোমবার গভীর রাতে খুকনী আটারদাগ টাকিমারা বিলের সরিষা ক্ষেতে থেকে ইয়াকুব আলী (২০) কে ডেকে নিয়ে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে। পরদিন ৭ জানুয়ারি দুপুরে জানতে পেরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাস মর্গে পাঠায়।

এ হত্যাকান্ডে অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। এরপর থেকেই থানা পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে মলাটি তদন্ত শুরু করে। হত্যাকান্ডে পর থেকেই হত্যাকারী ডাকাত আব্দুর রহমান গা ঢাকা দেয়।

গত ১০ মার্চ মঙ্গলবার সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল মামুন ডাকাত আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরে তার দেয়া তথ্য অনুসারে মঙ্গলবার রাতে এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে নিজ-নিজ বাড়ি থেকে আসামীদের আটক করে।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের মূল দোষীদের গ্রেফতার হওয়ায় নিহত ইয়াকুব আলীর পিতা ইয়াসিন আলী সহ এলাকাবাসী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

এ ব্যাপারে ইয়াসিন আলী বলেন, আমার নিরাপরাধ ছেলেকে হত্যার পর শোকে আমার মা মারা গেছেন। তাই ঐ খুনীরা গ্রেফতার হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। আশা করছি বাকি যারা জড়িত আছে তাদেরকেও গ্রেফতার করা হবে এবং আদালত তাদের ফাঁসি দেবে।

এদিকে এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ জানান, হত্যা কান্ডের ঘটনায় আসামীরা প্রাথমিক ভাবে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য দিচ্ছে। মেয়েকে উত্যক্তের ঘটনায় ক্ষোভ থেকেই খুশি আলম এলাকার ভাড়াটে খুনীর মাধ্যমে এ হত্যাকান্ড ঘটায়।

তিনি আরো জানান, বাকি যারা জড়িত রয়েছে তাদেরকেউ আটক করে আইনের কাছে সোপর্দ করা হবে।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন