লালপুরে স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে করোনা শনাক্ত

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ নাটোরের লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় হাসপাতালের টেলিমেডিসিন বিভাগ লক ডাউন করা হয়েছে। হাসপাতালের বেড গুলো ফাঁকা হয়ে গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানায়ায়, ৪ মে সোমবার নাটোরের লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর পরপরই রাতেই তাকে হাসপাতালের প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়েছে। শনাক্ত ব্যাক্তির সংর্স্পে আসা ১০ জনকে হোম কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে এবং হাসপাতালের ৪৭ জন স্টাফের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে।

সোমবার রাতে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে আক্রান্ত ব্যাক্তিকে রাখার পরপরই হাসপাতালে সাধারণ রোগীরা বাড়ী চলে যান। এতে দেখা যায় একজন স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে করোনা আক্রান্তের ঘটনায় হাসপাতালের বেড গুলো রাতেই ফাঁকা হয়ে যায়। মঙ্গলাবার সকালে হাসপাতালে এসে এমন খবর শুনে বেশ কিছু রোগী চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যান। তবে বেলা ১২ টার দিকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত একজন মহিলা রোগী ভর্তি হলে তাকে মহিলা ওয়ার্ডের বেডে দেখা গেছে।

হাসপাতালের নার্স ও স্টাফরা জানান, একজন স্বাস্থ্যকর্মীর শরীরে করোনা ভাইরাস শনান্ত হওয়া খবরে এলাকার মানুষ তাদের বাড়ীতে যেতে নিষেধ করেছেন। এঅবস্থায় তারা পড়েছেন বিড়ম্বনায়।

লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ অফিসার ডা. মোঃ আমিনুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে জানান, আমাদের একজন স্বাস্থ্যকর্মীর (টেলিমেডিসিনের সাপটিং পার্সন) শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি জেনে লালপুর হাসপাতালে টেলিমেডিসিন বিভাগ লক ডাউন সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শনাক্ত ব্যাক্তির সংর্স্পে আসা ১০ জনকে হোম কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে এবং সংর্স্পে আসা ১০ জনসহ হাসপাতালের ৪৭ জন স্টাপের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, গত ৪ এপ্রিল থেকে এপর্যন্ত ৬৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে নাটোর সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৩৬ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে, তারা কেউ আক্রান্ত হয়নি অর্থাৎ ৩৬ জনের সকলেই নেগেটিভ। ১ জনের রিপোর্ট পজেটিভ। বাঁকি ২৮ জনের রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মুল বানীন দ্যুতি জানান, এ ঘটনার খবর পেয়েই তাৎক্ষনিক রাতেই হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীর বাসস্থান পরিদর্শন ও তাকে আইসোলিশনে রাখা সহ প্রয়োনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, নাটোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: জিয়উর রহমান, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সেলিম রেজা।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন