শিশু সুমনা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল হত্যাকারী নাঈম

ফরিদপুর (পাবনা) প্রতিনিধিঃ শিশু সুমনা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলো ১২ বছর বয়সী হত্যাকারী নাঈম।

গত মঙ্গলবার ১৭ মার্চ পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার সোনাহারা গ্রামের সজিব এর কনিষ্ঠ মেয়ে সুমনা (৪) এর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে ফরিদপুর থানা পুলিশ।

ঐদিন এরশাদ (৪৫), তার স্ত্রী নারগিস (৪০) এবং তাদের বড় সন্তান নাঈম (১২) কে থানায় নিয়ে এসে ব্যাপক জেরার মুখে নাঈম সুমনাকে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৪৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ওসি তদন্ত জালাল উদ্দীন ও ফরিদপুর থানা ইনচার্জ এস এম আবুল কাসেম আজাদ জানান, নাঈম এর বাবা মাকে জেরার এক পযায়ে তাকেও জিজ্ঞাসা করা হলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেয়।

নাঈম তার বর্ণনায় বলে, গত শনিবার বেলা ১০টার সময় ইট ভাটার নিকট সুমনা ও তার ছোট ভাই আজাদ(৩) খেলা করছিলো, খেলাধুলার এক পযায়ে আজাদকে সুমনা ধাক্কা দেয়। এতে নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে সুমনার গলা চেপে ধরে কিছু ক্ষণ পর সুমনা নিস্তেজ হয়ে পরলে সে তার নাকে হাত দিয়ে দেখে সুমনার শ্বাস আছে কি না? সুমনার মৃত্যু নিশ্চিত হলে সে তাকে কাঁধে নিয়ে পাশেই নাঈম এর ফুপা রবিউলের নির্মাণাধীন বাড়িতে নিয়ে যায়। তার নিকট রক্ষিত চাবি দিয়ে দরজা খুলে ঘরের মেঝেতে সুমনার লাশ রাখে।

পরবর্তীতে সে স্বাভাবিক ভাবেই তার ছোট ভাই ও অন্যদের সাথে খেলতে থাকে। তবে মাঝে কয়েক বার সে জানালা দিয়ে সুমনার লাশ দেখতে যায় এবং লাশের পরিস্থিতি লক্ষ্য করে।

গত সোমবার বিকেলে আবার দেখতে গেলে লক্ষ্য করে লাশের উপর মাছি পরছে এবং দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। ধরা পরার ভয়ে সে তালা খুলে ঘরে প্রবেশ করে। ঘরের মধ্যে থাকা বালি ভর্তি বস্তার বালি ফেলে বস্তার মধ্যে সুমনার লাশ ভরে। ঘরের সানসেটে রাখা ওয়ারড্রব এর ড্রয়ার পেরে একটি ড্রয়ারে সুমনার লাশ তুলে ঘরের বারান্দায় নিয়ে আসে। উদ্দেশ্য ছিলো লাশটি পাশের ক্ষেতে ফেলে দেওয়া। কিন্তু ইট ভাটার লোকজন কাজ করায় তা সম্ভব হয়নি।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, ঘটনা বর্ণনার সময় সে সম্পুর্ণ স্বাভাবিক ছিলো।

তবে সুমনার বাবার অভিযোগ হত্যাকান্ডের সাথে নাঈম এর বাবা-মাও জরিত আছে। তা ছাড়া নাঈমের একার পক্ষে হত্যা করা সম্ভব নয়। নাঈম সোনাহারা এবতেদায়ী মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন