সংকট সময়ে জনগণের পাশে নেই সাবেক-বর্তমান সংসদরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সারা বিশ্বের মত করোনায় স্থবির হয়ে আছে সারাদেশ। চলছে লক ডাউন। দেশের প্রতিটি এলাকার মত ঝুঁকিতে রয়েছে রাজশাহী (৫) আসনের পুঠিয়া-দুর্গাপুর উপজেলা। খেটে খাওয়া মানুষের সংসার চালানো এখন নাভিস্বাস অবস্থা। কিন্তু এমন দূযোর্গ সময়ে এই এলাকার জনসাধারণ একদিনও পাশে পায়নি পুঠিয়ার সাবেক ও বর্তমান কোন এমপিকে।

সহযোগিতা দূরে থাক! পাশে এসে এই জনপদের মানুষকে সাহস জোগায়নি অতীত-বর্তমানের কোন এমপি। কিন্তু পাশেই রাজশাহী শহরে প্রতিনিয়ত মাঠে থেকে জনসাধারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে জনপ্রতিনিধিরা। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, নগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষসহ নগরীর নেতাকর্মীরা।

সকল প্রকার জনসচেতনতাসহ গরিব মানুষের জন্য খাবার নিয়ে পাশে দাড়াচ্ছেন তারা। কিন্তু এমন দূযর্গে সাবেক ও বর্তমান কোন এমপিকে পাশে পাচ্ছে না পুঠিয়াবাসী ।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী লকডাউট হবার পরেই গাড়ি ঘোড়া চলাচল বন্ধ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ভ্যান চালক, কৃষকসহ খেটে খাওয়া মানুষের খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে। কিন্তু সহযোগিতার হাত বাড়ানোর মানুষ এখানে খুঁজে পাওয়া দায়! এর মাঝে কিছু জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা কিছু চাল ডাল দিলেও তা দেওয়া হয়েছে গোনা গুটি কয়েক মানুষকে।

(রাজশাহী ৫) পুঠিয়া দুর্গাপুর সংসদীয় এই এলাকার জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ সদস্য অধ্যাপক আবুল হোসেন, বিএনপির টানা দুই মেয়াদের সাবেক সাংসদ নাদিম মোস্তফা, আওয়ামীলীগের দুই মেয়াদের সাংসদ আবদুল ওয়াদুদ দারা ও বর্তমান সাংসদ প্রফেসর ডা. মনসুর রহমান। এই দূযর্গে সকলেই এখন এলাকাছাড়া। তবে তাদের অনুসারীদের মাধ্যমে এলাকার খোঁজ নেওয়ার কথা শোনা গেছে।

এদিক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভা মেয়র, কাউন্সিলরসহ ইউনিয়নের সকল চেয়ারম্যান নামে মাত্র কাজ করছেন। কিছু জায়গায় মাস্ক, সাবান পানি ও এলাকায় জীবানুনাষক স্পে করা হয়েছে গাছাড়া ভাব নিয়ে। এলাকার জনপ্রতিনিধি সকলেই ভোটের আগে জনগণের দুঃখে-সুখে এলাকার মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলো। সেই সময় প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে সেগুলো বাস্তবায়নের মিল নেই।

তবে পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলার চেয়ারম্যান এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছেন।

এ বিষয়ে পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র রবিউল ইসলাম রবি বলেন, ‘গতকাল সরকারি ভাবে পুঠিয়া পৌরসভায় ২২৫ জন গরিব পরিবারকে ১০ কেজি করে চাউল দেওয়া হয়েছে। আর জনগণের মাঝে সচেতনতায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের বর্তমান ও সাবেক কোন এমপি এখন পর্যন্ত এলাকায় আসেনি। আমাদের সাথে যোগাযোগও করেনি। তাদের কাছে থেকে কোন সহযোগিতা পায়নি আমরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুঠিয়ায় ১টি পৌরসভা ও ৬ টি ইউনিয়ন। তবে পৌরসভায় কিছুটা সচেতনতা ও সহযোগিতা থাকলেও ৬ টি ইউনিয়নের গরিব মানুষের খুব নাজুক অবস্থায় দিন কাটছে।

এদিকে বর্তমান সাংসদ ডা. মনসুর রহমান রয়েছে, রাজশাহী শহরে, আওয়ামীলীগের সাবেক সাংসদ আবদুল ওয়াদুদ দারা রয়েছে ঢাকাতে, বিএনপির সাবেক সাংসদ নাদিম মোস্তাফা রয়েছে ঢাকাতে এবং জাতীয়পার্টির সাবেক সাংসদ অধ্যাপক আবুল হোসেনও রয়েছে রাজশাহী শহরে।

গতকাল বানেশ্বর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় কয়েকজন ভ্যান চালক যাত্রী না পেয়ে মন খারাপ হয়ে বসে আছে। কথা হয় ভ্যান চালক শাহীনের সাথে তিনি জানান, লোকজন নাই! ভাড়াও নাই! বাসায় অসুস্থ মা আর ভাই ওষুধ কেনার টাকা ও খাবার টাকাও নাই! সারাদিনে মাত্র ১০০ টাকা ভাড়া মেরেছি। কিভাবে সংসার চালাবো?

পুঠিয়া পৌরসভার ভ্যান চালক সিদ্দিক আলী জানান, দুপুর পর্যন্ত মাত্র ৬০ টাকা ভাড়া হয়েছে। সারাদিনে ১০০ টাকা ১৩০ টাকা ভাড়া পাচ্ছি। পরিবারে ৪ জন সদস্য এমন হলে আমাদের না খেয়ে মারা যেতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান সাংসদ প্রফেসর ডা. মনসুর রহমান জানান, আমি এলাকার খোঁজ খবর রাখছি। কয়েকদিন আগে শিলমাড়িয়া গিয়েছিলাম সেখানের মানুষের সমস্যা শুনেছি। আমি সব সময় জনগণের সাথেই আছি।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওলিউজ্জামান জানান, সরকারি ভাবে পুঠিয়ায় ২৮ মেট্রিকটন চাউল ও নগদ ৫০ হাজার টাকার পণ্যে কিনে প্রতিটি ওয়ার্ডে বিতরণ করা হয়েছে। এলাকার সাবেক ও বর্তমান কোন এমপি এখন পর্যন্ত এলাকায় এসেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমান এমপি এমনিতে যোগাযোগ রাখছেন। আর অন্যদের আসার বিষয়ে তিনিও জানেন না।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যলয় থেকে জানা যায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আগের মজুদ চাউল ছিলো ৩৯৬ মেট্রিকটন আর করোনায় সরকারি ভাবে পাওয়া গেছে ২০০ মেট্রিকটন। এর মাঝে ৪০৪ মেট্রিকটন চাউল সিটি কর্পোরেশন ও জেলার ৯ টি উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। নগদ টাকা ছিলো এক লক্ষ ৫৫ হাজার। এবং পরে সরকারি ভাবে পাওয়া গেছে ১২ লক্ষ টাকা। এর মাঝে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে নগরী ও ৯ টি উপজেলায়।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন