ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশের জেলা উপোজেলা পর্যায়ে দৈনিক স্বতঃকণ্ঠে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে । আগ্রহী প্রার্থীগন জীবন বৃত্তান্ত ইমেইল করুন shatakantha.info@gmail.com

সাঁথিয়া শিক্ষা অফিসের ঘুষ গ্রহণের তদন্ত

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত সময় ০৬:১৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০১৯
  • / 7

সাঁথিয়া(পাবনা)প্রতিনিধিঃ পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে উচ্চমান সহকারীর “ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় স্ট্যান্ড রিলিজ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

বুধবার এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেন পাবনা পিটিআই এর সুপারিনটেনডেন্ট সুভাস কুমার বিশ্বাস।

গত ২৬ সেপ্টেম্বরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (তঃ ও শৃঃ) সৈয়দা মাহফুজা বেগমের স্বাক্ষরিত আদেশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর এ তদন্ত নির্দেশ দেওয়া হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে আগামী ১০ কার্য দিবসে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ।

গতকাল বুধবার দুপুরে তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বাক্ষী ও ঘুষ গ্রহণকারী উচ্চমান সহকারী গোলজার হোসেনের বক্তব্য গ্রহণ করেন।

সোনাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্বাক্ষী হান্নানসহ অনেক শিক্ষক জানান, আমরা গোলজার হোসেন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার মর্জিনা খাতুনের বিরুদ্ধে বক্তব্য পেশ করেছি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসে উচ্চমান সহকারীর গোলজার হোসেন জানান, আমি শিক্ষা অফিসার মর্জিনা খাতুনের নির্দেশে কাজ করেছি। বিভিন্ন খাত থেকে যে টাকা আমি গ্রহণ করেছি তার সম্পূর্ণ অংশই তাকে দিয়েছি।

পাবনা পিটিআই এর সুপারিনটেনডেন্ট সুভাস কুমার বিশ্বাস জানান, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সাথে তদন্ত তথ্যের মিল আছে। আমি তদন্ত প্রতিবেদন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পাঠাবো।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তদন্তে অন্য ব্যক্তির নাম আসলে সেটাও আমরা যাচাই-বাছাইয়ন্তে প্রতিবেদনে লিখব।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, সাঁথিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র, ভুক্তভোগী শিক্ষক ও বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং এসএমসি সভাপতির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয় প্রতি বরাদ্দ, রুটিন মেইনটেন্যান্স (টুকটাক মেরামত) বাবদ বরাদ্দ, বড় মেরামত বাবদ অনেক স্কুলে সরকারি বরাদ্দ এসেছে ২ লাখ টাকা করে।

এ সব টাকা চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব স্কুলের হিসাব নম্বরে স্থানান্তরের কথা। এমনকি পের টাকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে আসার ৩ দিনের মধ্যে সব স্কুলের হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করার কথা।

স্কুলের হিসাব নম্বর পরিচালিত হয় প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির যৌথ স্বাক্ষরে। তিনি ৩০ জুনের মধ্যে একটি স্কুলেও কোনো টাকা ছাড় করেননি। বরং সে টাকা তিনি নিজের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে শিক্ষকদের নিকট থেকে উৎকোচ গ্রহণ করেন।

উৎকোচ গ্রহণের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় উচ্চমান সহকারী গোলজার বদলি হয়।

সাঁথিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী গোলজার হোসেন ও শিক্ষা কর্মকর্তা মর্জিনা খাতুনের দুর্নীতির সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হলে উচ্চমান সহকারী গোলজার হোসেনকে ২৫ আগস্ট সাঁথিয়া থেকে শাস্তিমূলক জয়পুরহাটে বদলি করেন রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মনসুর রহমান জানান, তার (মর্জিনা খাতুন) বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ। তার মতো কর্মকর্তা তিনি তার চাকরি জীবনে দেখেননি।

মর্জিনা খাতুনকে তার সব অনিয়মের জন্য কয়েক দফা মৌখিক সতর্কসহ লিখিত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। সর্বশেষ গত ৬ আগস্ট মর্জিনা খাতুনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করে মহাপরিচালকের অফিসে চিঠি পাঠানো হয়েছে

সাঁথিয়া শিক্ষা অফিসের ঘুষ গ্রহণের তদন্ত

প্রকাশিত সময় ০৬:১৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০১৯

সাঁথিয়া(পাবনা)প্রতিনিধিঃ পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে উচ্চমান সহকারীর “ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় স্ট্যান্ড রিলিজ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

বুধবার এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেন পাবনা পিটিআই এর সুপারিনটেনডেন্ট সুভাস কুমার বিশ্বাস।

গত ২৬ সেপ্টেম্বরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (তঃ ও শৃঃ) সৈয়দা মাহফুজা বেগমের স্বাক্ষরিত আদেশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর এ তদন্ত নির্দেশ দেওয়া হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে আগামী ১০ কার্য দিবসে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ।

গতকাল বুধবার দুপুরে তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বাক্ষী ও ঘুষ গ্রহণকারী উচ্চমান সহকারী গোলজার হোসেনের বক্তব্য গ্রহণ করেন।

সোনাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্বাক্ষী হান্নানসহ অনেক শিক্ষক জানান, আমরা গোলজার হোসেন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার মর্জিনা খাতুনের বিরুদ্ধে বক্তব্য পেশ করেছি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসে উচ্চমান সহকারীর গোলজার হোসেন জানান, আমি শিক্ষা অফিসার মর্জিনা খাতুনের নির্দেশে কাজ করেছি। বিভিন্ন খাত থেকে যে টাকা আমি গ্রহণ করেছি তার সম্পূর্ণ অংশই তাকে দিয়েছি।

পাবনা পিটিআই এর সুপারিনটেনডেন্ট সুভাস কুমার বিশ্বাস জানান, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সাথে তদন্ত তথ্যের মিল আছে। আমি তদন্ত প্রতিবেদন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পাঠাবো।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তদন্তে অন্য ব্যক্তির নাম আসলে সেটাও আমরা যাচাই-বাছাইয়ন্তে প্রতিবেদনে লিখব।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, সাঁথিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র, ভুক্তভোগী শিক্ষক ও বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং এসএমসি সভাপতির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয় প্রতি বরাদ্দ, রুটিন মেইনটেন্যান্স (টুকটাক মেরামত) বাবদ বরাদ্দ, বড় মেরামত বাবদ অনেক স্কুলে সরকারি বরাদ্দ এসেছে ২ লাখ টাকা করে।

এ সব টাকা চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব স্কুলের হিসাব নম্বরে স্থানান্তরের কথা। এমনকি পের টাকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে আসার ৩ দিনের মধ্যে সব স্কুলের হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করার কথা।

স্কুলের হিসাব নম্বর পরিচালিত হয় প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির যৌথ স্বাক্ষরে। তিনি ৩০ জুনের মধ্যে একটি স্কুলেও কোনো টাকা ছাড় করেননি। বরং সে টাকা তিনি নিজের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে শিক্ষকদের নিকট থেকে উৎকোচ গ্রহণ করেন।

উৎকোচ গ্রহণের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় উচ্চমান সহকারী গোলজার বদলি হয়।

সাঁথিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী গোলজার হোসেন ও শিক্ষা কর্মকর্তা মর্জিনা খাতুনের দুর্নীতির সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হলে উচ্চমান সহকারী গোলজার হোসেনকে ২৫ আগস্ট সাঁথিয়া থেকে শাস্তিমূলক জয়পুরহাটে বদলি করেন রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মনসুর রহমান জানান, তার (মর্জিনা খাতুন) বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ। তার মতো কর্মকর্তা তিনি তার চাকরি জীবনে দেখেননি।

মর্জিনা খাতুনকে তার সব অনিয়মের জন্য কয়েক দফা মৌখিক সতর্কসহ লিখিত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। সর্বশেষ গত ৬ আগস্ট মর্জিনা খাতুনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করে মহাপরিচালকের অফিসে চিঠি পাঠানো হয়েছে