সিরাজগঞ্জের তাড়াশে নৌকা ও আনারস প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি মামলা

তাড়াশ(সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি: আগামী ৫ জানুয়ারী পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কয়েকটি মারামারি ও মোটর সাইকেল ভাংচুরের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এসব হামলার ঘটনায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসাক ও নৌকার প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস সরকার একে অন্যকে দায়ী করেছেন। এ ব্যাপারে নৌকা প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস সরকারের পক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থীর (আনারস) সমর্থকের বিরুদ্ধে ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এতে নৌকার প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস সরকার বাদী হয়েন৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১০/১৫জনকে আসামী করে। এছাড়া নৌকা প্রার্থীর পক্ষে শরিফুল ইসলাম তাড়াশ থানায় বাদী হয়ে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে অজ্ঞাত আরো ১০-
১৫জনকে আসামী করেছে।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন ৩টি মামলা দায়ের করেছেন নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে দেশীগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল আজিজ বাদী হয়ে ১৭জনের নাম উল্লেখসহ ১০-১২জনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

মজিবর রহমান বাদী হয়ে ১৫জনের নাম উল্লেখসহ ১০-১২জনকে অজ্ঞাত ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক
নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ ১৪-১৫জনের অজ্ঞাত আসামী করে মামলা করেন। জানা যায়, দেশীগ্রাম ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস সরকার দ্বিতীয় বারের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান।

এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন দেশীগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসাক। পরে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় শারীরিক ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে গত ৬ ডিসেম্বর দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস মার্কা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে মাঠে নামেন তিনি। এ কারণে দেশীগ্রাম ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েন। স্থানীয়ভাবে কেউ নৌকার প্রার্থীর সমর্থনে আবার কেউবা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অবস্থান নেন।

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (আনারস) জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসাকের অভিযোগ, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ২২ ডিসেম্বর বিকেলে নৌকার প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস সরকারের সমর্থকেরা তার কর্মী দেশীগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল আজিজের (৭০) উপর হামলা চালিয়ে গুরুত্বর জখম করে।

২৮ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে কুমাল্লু গ্রামে নৌকা প্রার্থীর কর্মী মোশারফ হোসেন, আব্দুল মতিন, আবু মুছা ও জিয়াউর রহমানের নেত্বতে ১৫/১৬ জনের একটি বাহিনী রাতে লোহার রড় ও হাসুয়া নিয়ে কুমাল্লু গ্রামে আমার পোষ্টার ছেড়ার প্রতিবাদ করায় তফিজ উদ্দিন নামের এক সমর্থকের চায়ের দোকান ভাঙচুর করে ও মারধর করে।

এছাড়াও গতব৩০ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দেওড়া বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক দেশীগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের উপর নৌকার সমর্থকরা হামলা চালায়। এতে তিনিসহ অনন্তত ৫জন আহত হয়।

আওয়ামী লীগ মনোনিত (নৌকা) প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস সরকারের অভিযোগ, ৩০ ডিসেম্বর বিকালে আমার কর্মী ও সমর্থকেরা নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ভোট প্রার্থনার সময়ে কাটাগাড়ী বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসাকের সমর্থকেরা আমার ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।

এ সময় অন্তত ৫জন আওয়ামী লীগ কর্মী আহত হয়। পরে ৭টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে তারা। তিনি আরো বলেন,তারা দল করবে, অথচ দলীয় প্রার্থীর সাথে কাজ করবেন না এটা ঠিক না। আমি নিরীহ মানুষ। সংঘাত কারো কাম্য নয়। শুধু আমার পক্ষেই মামলা হয়নি, তারাও আমার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ ফজলে আশিক বলেন, দেশীগ্রামেই সংঘাত বেশি হচ্ছে। উভয়পক্ষের ৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার চেষ্টা করছি। উভয় পক্ষকে আইন মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ সিরাজগঞ্জের সদরে ৮২ পিচ ইয়াবাসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন