সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বাঘাবাড়িতে দু’দল গ্রামবাসির মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ; নিহত ১

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রামে বিবদমান দুই গ্রæপের মধ্যে গতকাল বুধবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনায় শরিফুল ইসলাম ইয়ারমিন মোল্লা (৩৫) নামে একজন নিহত এবং ৫ জন পুলিশসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৬০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাংচুর ও ২৫টি গরু লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। নিহত ইয়ারমিন মোল্লা একই গ্রামের ইউনুস মোল্লার ছেলে। আহতদের মধ্যে খলিল মোল্লা (৫০),

জলিল(৪৫), রশিদ (৬৫), সাইফুল মোল্লা (৪০), গাজীউল (৩০), কালু মিয়া (৩৫), আব্দুল হাই (৪০), হুজুর মোল্লা (৫৫), মোতালেব (৫৫), তায়েজ (৫০), আশরাফ (৬০), মিজান প্রামানিক (৪৫), ইয়াসিন (৫৫), লায়লা (৪০) সহ অন্তত ২০ জনকে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে আশংকাজনক অবস্থায় সাইফুল মোল্লাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে
গিয়ে ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২৪ জনকে আটক করে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, এসআই আসাদ আলী, মান্নান, পীযুষ, এএসআই মামুন ও কনষ্টেবল নিলয় আহত হয়।

এলাকাবাসি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মোল্লা গোষ্ঠী ও প্রামানিক গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জের ধরে গত দুইদিন যাবত উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারপিটের
ঘটনা ঘটে।

এর জের ধরে গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে প্রামানিক, ফকির ও কারীগর গোষ্ঠী নিয়ে ঐক্যজোটের শতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মোল্লা গ্রুপের বাড়িঘরে হামলা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ঘ বাধে।

এসময় প্রতিপক্ষের ফালার আঘাতে মোল্লা গ্রুপের সমর্থক শরিফুল ইসলাম ইয়ারমিন গুরুত্বর আহত হয়। আশংকাজনক
অবস্থায় পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ইয়ারমিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মোল্লা গোষ্ঠীর সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে প্রামানিক গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালালে উভয় গোষ্ঠী পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

এসময় মোল্লা গোষ্ঠীর লোকজন প্রামানিক গোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙ্গচুর ও লুটপাট করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে মোল্লা গোষ্ঠীর প্রধান খলিল মোল্লা অভিযোগ করেন, বিনা উস্কানিতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রামানিক গোষ্ঠীর নেতৃত্বে
ঐক্যজোটের লোকজন তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট করে ।

অন্যদিকে প্রামানিক গোষ্ঠীর নেতা কেসমত প্রামানিক অভিযোগ করেন, মোল্লা গোষ্ঠীর লোকজন দীর্ঘদিন ধরে তাদের ওপরে নানা ভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এর জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহামুদ খান জানান, গ্রামের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উভয় গ্রæপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের ২০টি বাড়িঘর ভাংচুর ও একটি মোটর সাইকেল অগ্নি সংযোগ করে। উভয় পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে এলাকার নারী পুরুষেরা তাদের মালামাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে দেখা দেখে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে খাবারের সন্ধানে বনের বানর এখন লোকালয়ে

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন