সিলেটে স্মারক সম্মাননা পেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা

মিজানুর রহমান, সিলেটঃ ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দি উদ্যোন) এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকুর রহমান। যে ভাষণকে বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে ধরা হয়। বঙ্গবন্ধুর সেই ‘অমর কবিতাখানি’ শুনতে সেদিন জড়ো হয়েছিলেন মুক্তিকামী লাখো বাঙালি। সিলেটের অনেকেও সেদিন রেসকোর্সে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনতে।

মুজিববর্ষের আয়োজনে সেই ভাষণের প্রত্যক্ষদর্শীদের খুঁজে বের করেছে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। এদের মধ্যে ১০জনকে সম্মাননা জানানো হয়েছে শনিবার, আরেক সাতই মার্চে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়েই সিলেট আওয়ামী লীগের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের শতবর্ষ স্মরণে ২০দিনব্যাপী মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানমালা শুরু হলো।

শনিবার বিকেলে নগরীর রিকাবিবাজারের সিলেট জেলা স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সম্মাননা প্রদান ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

আর ৭ মার্চের ভাষণের প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে সম্মাননা প্রদান করা হয়- বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন লস্কর ময়না, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাদ উদ্দিন আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন হেলাল, হায়দার হোসেন চৌধুরী মুক্তা, অধ্যাপক গ ক ম আলমগীর, অ্যাডভোকেট মো. মইনুল ইসলাম ও মো. মঞ্জু মিয়া। এদের মধ্যে বয়োবৃদ্ধ মঞ্জু মিয়াকে হুইল চেয়ারে করে মঞ্চে নিয়ে আসা হয়।

সংবর্ধিতদের উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মঞ্চে উপবিষ্ট অতিথিরা হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়ার পর তারা স্মৃতিচারণ করেন; ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

‘নব প্রজন্মের নব চেতনায় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে শুরু হওয়া মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের প্রথম দিনেই সম্মননা পেয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন ঐতিহাসিক সেই ভাষণের শ্রোতারা।

গর্ব আর আনন্দে আপ্লুত হয়ে সম্মাননাপ্রাপ্ত মোশাররফ হোসেন চোখের জল মুছে বলেন, ‘বুঝ হওয়ার পর তাকি (থেকে) আওয়ামী লীগ করি। কোনদিন বক্তৃতা দেই নাই (করিনি)। আফনারা ভালা থাকবা; আওয়ামী লীগ করবা।’ সেই ভাষণের সরাসরি শ্রোতা হওয়ার গর্ব আজও অনুভব করেন বলে জানান মোশারফ হোসেন।

বেলা পৌনে ৩টায় বঙ্গবন্ধুর সেই অবিস্মরণীয় ভাষণ প্রচারের মাধ্যমে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। এসময় মঞ্চে মুজিবের অবয়ব নিয়ে উপস্থিত ছিল শিশু-কিশোররা।

নাট্যকর্মী রজতকান্তি গুপ্তের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন ও জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রের জন্ম হত না। একাত্তরের ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালির স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন; যাতে উদ্ভুদ্ধ হয়ে লাখো বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

তারা আরও বলেন, স্বাধীণতার পর বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করে বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

আলোচনা পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় মুজিববর্ষের প্রথম দিনের আয়োজন।

আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সিলেটে মুজিববর্ষের নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন