স্থানীয় সরকার

স্থানীয় সরকারের স্বার্থে আরেকটি রিট হওয়া উচিত

- The Daily Shatakantha" /> স্থানীয় সরকার

স্থানীয় সরকারের স্বার্থে আরেকটি রিট হওয়া উচিত

The Daily Shatakantha" />
ঢাকা ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশের জেলা উপোজেলা পর্যায়ে দৈনিক স্বতঃকণ্ঠে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে । আগ্রহী প্রার্থীগন জীবন বৃত্তান্ত ইমেইল করুন shatakantha.info@gmail.com

স্থানীয় সরকার

স্থানীয় সরকারের স্বার্থে আরেকটি রিট হওয়া উচিত

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত সময় ০৩:৩৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • / 87

আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা
প্রকাশিত: ৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২

ইউনিয়ন পরিষদ হলো স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন ইউনিট। দেশের অধিকাংশ জনগণ এসব ইউনিটেই বসবাস করে। সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা প্রায়শই স্থানীয় সরকারের উপর প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য উন্নত বিশ্বে যান। তাঁরা দেশে এসে বিভিন্ন সেমিনারে বলে থাকেন- সেখানকার স্থানীয় সরকারগুলো খুবই শক্তিশালী। তাদের জনবল, অর্থবল সহ প্রচুর ক্ষমতা দেয়া আছে। তারা একক ক্ষমতাবলে স্থানীয় সকল কাজ করে থাকে। কিন্তু তাঁরা নিজ দেশের স্থানীয় সরকারগুলোকে স্বাধীনতা দেয়া ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সঠিক পরামর্শ দেন না; বরং কিভাবে সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সে প্রচেষ্টাই লক্ষ্য করা যায়। বর্তমানে সকল ইউনিয়ন একরকম নয়। জনসংখ্যা, কাজ, আয় ও আয়তনের দিক থেকে কোনো কোনো ইউনিয়ন পৌরসভার মতো। এসব ইউনিয়নে দক্ষ কর্মকর্তা/কর্মচারীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, জেলা প্রশাসন একক ক্ষমতা বলে সচিব ও হিসাব সহকারীদের বদলি করে থাকেন। তাদের বদলি করার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানদের কোনো মতামত নেন না। অথচ তাদের কাজে যোগদান ও ছাড়পত্র প্রদানের সময় চেয়ারম্যানদের সম্মতি নেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে পাবনা জেলার একটি ঘটনা উল্লেখ করা প্রয়োজন।

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের সচিব মিজানুর রহমান ৩০ বছর ধরে একই ইউনিয়নে চাকরি করছেন। অথচ সরকারি চাকরির নিয়ম রয়েছে তিন বছর পর পর বদলি করার। ২০১৬ সালে পাবনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো তাঁকেসহ ৫০ জন সচিবকে একযোগে বদলি করেন। তিনি জেলা প্রশাসকের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করলে বদলির আদেশটি স্থগিত হয়ে যায়। এ বিষয়ে দৈনিক যুগান্তরে ৫’সেপ্টেম্বর তারিখে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় এবং তাকে পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়াতে বদলি করেন (সূত্র: দৈনিক যুগান্তর ৮’সেপ্টে. ২০২২)।

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের সচিব মিজানুর রহমান ৩০ বছর ধরে একই ইউনিয়নে চাকরি করছেন। অথচ সরকারি চাকরির নিয়ম রয়েছে তিন বছর পর পর বদলি করার। ২০১৬ সালে পাবনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো তাঁকেসহ ৫০ জন সচিবকে একযোগে বদলি করেন। তিনি জেলা প্রশাসকের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করলে বদলির আদেশটি স্থগিত হয়ে যায়। এ বিষয়ে দৈনিক যুগান্তরে ৫’সেপ্টেম্বর তারিখে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় এবং তাকে পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়াতে বদলি করেন (সূত্র: দৈনিক যুগান্তর ৮’সেপ্টে. ২০২২)।

উল্লেখ্য, তৎকালীন জেলা প্রশাসক যে ৫০ জন সচিবকে বদলি করেন তার মধ্যে সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ সচিবও ছিলেন। ফলে মামলাটি সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ অবগত ছিলাম এবং মামলাটির পক্ষেও ছিলাম। বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ঘটনাটি শুনে মামলাটি গ্রহণ করেন। তিনি সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ইউপি সচিবদের পক্ষে মিজানুর রহমানকে বাদী করে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সচিব, পাবনার জেলা প্রশাসক ও পাবনা জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালককে বিবাদী করে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন (রিট পিটিশন নং ৯০২১/২০১৬)। তিনি রিট আবেদনে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেন তাহলো; ১) বাদী পাকশী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব হিসেবে যোগদান করেছেন। নিয়োগপত্রে কোথাও বদলির কথা উল্লেখ নেই চাকরিটি বদলি যোগ্য; ২) বাদী নিয়োগের তারিখ থেকে অদ্যাবধি কোথাও বদলি হননি; ৩) তাদের বেতনের ৭৫% সরকার ও ২৫% ইউনিয়ন পরিষদ বহন করে। ফলে তাদের নিয়ন্ত্রক একমাত্র জেলা প্রশাসক হতে পারেন না। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা তাদের কর্তৃপক্ষ। অথচ বদলির সময় ইউপি চেয়ারম্যানদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি।

বিচারপতি শুনানীর প্রথম দিনেই তিন মাসের জন্য স্থিতিবস্থার (স্টে অর্ডার) আদেশ দেন এবং বিবাদী পক্ষকে উপযুক্ত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন। ফলে তাদের বদলির আদেশটি স্থগিত হয়ে যায়। মামলাটি তদবিরের অভাবে ২০১৮ সালে খারিজ হয়ে যায়। যদি মামলাটি তদবির করা হতো এবং চলমান থাকতো, তাহলে স্থানীয় সরকারের বহু সমস্যাই সামনে চলে আসতো- তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যেমন- সংবিধানে স্থানীয় শাসন আছে (ইংরেজিতে রয়েছে লোকাল গভর্নমেন্ট), স্থানীয় সরকার বাক্যটি নেই। অথচ বাংলাদেশ সরকার, এনজিও সহ লেখক বুদ্ধিজীবীরা “স্থানীয় সরকার” শব্দ গুচ্ছটি ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু স্থানীয় ইউনিটগুলো স্বাধীন কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। যদিও বাজেট গ্রহণ সহ স্থানীয় বহু কাজ করার ক্ষমতা স্থানীয় সরকারের দেয়া আছে। বাস্তবে স্বাধীন ভাবে স্থানীয় কাজগুলো করার ক্ষমতা, অর্থবল, জনবল কোনোটাই স্থানীয় সরকারের হাতে নেই। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে একাধিক কর্তৃপক্ষ (যেমন- উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় প্রভৃতি) নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কিন্তু নগরীয় ইউনিটগুলো (সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে) সরাসরি স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় নিয়ন্ত্রণ করছে। এখানে একটি উদাহরণ প্রাসঙ্গিক হবে। বর্তমান সরকার ২০২৩ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে। সেজন্য ৬৪টি জেলা প্রথম দশটিতে থাকার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। জেলা প্রশাসন ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে যেভাবে চাপ দিচ্ছে সেভাবে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে চাপ দিতে পারছে না। ফলে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে ইউনিয়ন পরিষদগুলো এগিয়ে থাকলেও নগরীয় ইউনিটগুলো পিছিয়ে রয়েছে। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার ঔপনিবেশিক মানসিকতা রয়েছে। স্বাধীনতার মর্যাদা দেয়া আমরা শিখিনি। তার মানে এই নয়, স্থানীয় সরকারকে স্বাধীনতা দেওয়া যাবে না। এটা প্রমাণীত সত্য যে, স্বাধীন স্থানীয় সরকার ছাড়া সুনাগরিক গড়ে ওঠেনা এবং সুশাসনও আসে না।

ইউপি সচিবরাও মামলাটি করেছিলেন তাদের বদলির আদেশ রহিত করার জন্য, স্থানীয় সরকারের স্বার্থে নয়। স্থানীয় সরকারের কর্মচারীরা তাদের চাকুরি জাতীয়করণের জন্য আন্দোলন করছে। যদি তাদের চাকরি জাতীয়করণ হয়ে যায় তাহলে ‘স্থানীয় সরকার’ নামে আলাদা কোনো প্রতিষ্ঠান থাকে না। আবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সমিতিও ২০ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করে যাচ্ছে। তাদের দাবির মধ্যে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সামঞ্জস্যপূর্ণ সম্মানী ভাতার কথা উল্লেখ আছে। সকল সমস্যার সমাধান দুই প্রকারের সরকার তথা কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। সে ব্যবস্থায় কেন্দ্র্রীয় সরকারের কর্মচারি ও স্থানীয় সরকারের কর্মচারী আলাদা থাকবে। কাজেই চেয়ারম্যান সমিতির উচিত হবে স্থানীয় সরকার শব্দটি কেন ব্যবহার করা হচ্ছে, স্থানীয় সরকারগুলোকে কেন পৃথক ‘সরকার’ করা হবে না এবং কেন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদ মর্যাদা অনুযায়ী সম্মানী ভাতা নিশ্চিত করা হবে না- এই মর্মে একটি রিট পিটিশন দাখিল করা।

লেখক: আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা
চেয়ারম্যান, সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ, ঈশ্বরদী, পাবনা। Cell-01711 074 310
 


 আরও পড়ুনঃ

 আরও পড়ুনঃ


স্থানীয় সরকার

স্থানীয় সরকারের স্বার্থে আরেকটি রিট হওয়া উচিত

প্রকাশিত সময় ০৩:৩৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২

আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা
প্রকাশিত: ৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২

ইউনিয়ন পরিষদ হলো স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন ইউনিট। দেশের অধিকাংশ জনগণ এসব ইউনিটেই বসবাস করে। সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা প্রায়শই স্থানীয় সরকারের উপর প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য উন্নত বিশ্বে যান। তাঁরা দেশে এসে বিভিন্ন সেমিনারে বলে থাকেন- সেখানকার স্থানীয় সরকারগুলো খুবই শক্তিশালী। তাদের জনবল, অর্থবল সহ প্রচুর ক্ষমতা দেয়া আছে। তারা একক ক্ষমতাবলে স্থানীয় সকল কাজ করে থাকে। কিন্তু তাঁরা নিজ দেশের স্থানীয় সরকারগুলোকে স্বাধীনতা দেয়া ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সঠিক পরামর্শ দেন না; বরং কিভাবে সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সে প্রচেষ্টাই লক্ষ্য করা যায়। বর্তমানে সকল ইউনিয়ন একরকম নয়। জনসংখ্যা, কাজ, আয় ও আয়তনের দিক থেকে কোনো কোনো ইউনিয়ন পৌরসভার মতো। এসব ইউনিয়নে দক্ষ কর্মকর্তা/কর্মচারীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, জেলা প্রশাসন একক ক্ষমতা বলে সচিব ও হিসাব সহকারীদের বদলি করে থাকেন। তাদের বদলি করার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানদের কোনো মতামত নেন না। অথচ তাদের কাজে যোগদান ও ছাড়পত্র প্রদানের সময় চেয়ারম্যানদের সম্মতি নেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে পাবনা জেলার একটি ঘটনা উল্লেখ করা প্রয়োজন।

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের সচিব মিজানুর রহমান ৩০ বছর ধরে একই ইউনিয়নে চাকরি করছেন। অথচ সরকারি চাকরির নিয়ম রয়েছে তিন বছর পর পর বদলি করার। ২০১৬ সালে পাবনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো তাঁকেসহ ৫০ জন সচিবকে একযোগে বদলি করেন। তিনি জেলা প্রশাসকের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করলে বদলির আদেশটি স্থগিত হয়ে যায়। এ বিষয়ে দৈনিক যুগান্তরে ৫’সেপ্টেম্বর তারিখে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় এবং তাকে পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়াতে বদলি করেন (সূত্র: দৈনিক যুগান্তর ৮’সেপ্টে. ২০২২)।

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের সচিব মিজানুর রহমান ৩০ বছর ধরে একই ইউনিয়নে চাকরি করছেন। অথচ সরকারি চাকরির নিয়ম রয়েছে তিন বছর পর পর বদলি করার। ২০১৬ সালে পাবনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো তাঁকেসহ ৫০ জন সচিবকে একযোগে বদলি করেন। তিনি জেলা প্রশাসকের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করলে বদলির আদেশটি স্থগিত হয়ে যায়। এ বিষয়ে দৈনিক যুগান্তরে ৫’সেপ্টেম্বর তারিখে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় এবং তাকে পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়াতে বদলি করেন (সূত্র: দৈনিক যুগান্তর ৮’সেপ্টে. ২০২২)।

উল্লেখ্য, তৎকালীন জেলা প্রশাসক যে ৫০ জন সচিবকে বদলি করেন তার মধ্যে সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ সচিবও ছিলেন। ফলে মামলাটি সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ অবগত ছিলাম এবং মামলাটির পক্ষেও ছিলাম। বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ঘটনাটি শুনে মামলাটি গ্রহণ করেন। তিনি সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ইউপি সচিবদের পক্ষে মিজানুর রহমানকে বাদী করে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সচিব, পাবনার জেলা প্রশাসক ও পাবনা জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালককে বিবাদী করে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন (রিট পিটিশন নং ৯০২১/২০১৬)। তিনি রিট আবেদনে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেন তাহলো; ১) বাদী পাকশী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব হিসেবে যোগদান করেছেন। নিয়োগপত্রে কোথাও বদলির কথা উল্লেখ নেই চাকরিটি বদলি যোগ্য; ২) বাদী নিয়োগের তারিখ থেকে অদ্যাবধি কোথাও বদলি হননি; ৩) তাদের বেতনের ৭৫% সরকার ও ২৫% ইউনিয়ন পরিষদ বহন করে। ফলে তাদের নিয়ন্ত্রক একমাত্র জেলা প্রশাসক হতে পারেন না। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা তাদের কর্তৃপক্ষ। অথচ বদলির সময় ইউপি চেয়ারম্যানদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি।

বিচারপতি শুনানীর প্রথম দিনেই তিন মাসের জন্য স্থিতিবস্থার (স্টে অর্ডার) আদেশ দেন এবং বিবাদী পক্ষকে উপযুক্ত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন। ফলে তাদের বদলির আদেশটি স্থগিত হয়ে যায়। মামলাটি তদবিরের অভাবে ২০১৮ সালে খারিজ হয়ে যায়। যদি মামলাটি তদবির করা হতো এবং চলমান থাকতো, তাহলে স্থানীয় সরকারের বহু সমস্যাই সামনে চলে আসতো- তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যেমন- সংবিধানে স্থানীয় শাসন আছে (ইংরেজিতে রয়েছে লোকাল গভর্নমেন্ট), স্থানীয় সরকার বাক্যটি নেই। অথচ বাংলাদেশ সরকার, এনজিও সহ লেখক বুদ্ধিজীবীরা “স্থানীয় সরকার” শব্দ গুচ্ছটি ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু স্থানীয় ইউনিটগুলো স্বাধীন কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। যদিও বাজেট গ্রহণ সহ স্থানীয় বহু কাজ করার ক্ষমতা স্থানীয় সরকারের দেয়া আছে। বাস্তবে স্বাধীন ভাবে স্থানীয় কাজগুলো করার ক্ষমতা, অর্থবল, জনবল কোনোটাই স্থানীয় সরকারের হাতে নেই। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে একাধিক কর্তৃপক্ষ (যেমন- উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় কমিশনার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় প্রভৃতি) নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কিন্তু নগরীয় ইউনিটগুলো (সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে) সরাসরি স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় নিয়ন্ত্রণ করছে। এখানে একটি উদাহরণ প্রাসঙ্গিক হবে। বর্তমান সরকার ২০২৩ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে। সেজন্য ৬৪টি জেলা প্রথম দশটিতে থাকার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। জেলা প্রশাসন ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে যেভাবে চাপ দিচ্ছে সেভাবে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে চাপ দিতে পারছে না। ফলে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে ইউনিয়ন পরিষদগুলো এগিয়ে থাকলেও নগরীয় ইউনিটগুলো পিছিয়ে রয়েছে। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার ঔপনিবেশিক মানসিকতা রয়েছে। স্বাধীনতার মর্যাদা দেয়া আমরা শিখিনি। তার মানে এই নয়, স্থানীয় সরকারকে স্বাধীনতা দেওয়া যাবে না। এটা প্রমাণীত সত্য যে, স্বাধীন স্থানীয় সরকার ছাড়া সুনাগরিক গড়ে ওঠেনা এবং সুশাসনও আসে না।

ইউপি সচিবরাও মামলাটি করেছিলেন তাদের বদলির আদেশ রহিত করার জন্য, স্থানীয় সরকারের স্বার্থে নয়। স্থানীয় সরকারের কর্মচারীরা তাদের চাকুরি জাতীয়করণের জন্য আন্দোলন করছে। যদি তাদের চাকরি জাতীয়করণ হয়ে যায় তাহলে ‘স্থানীয় সরকার’ নামে আলাদা কোনো প্রতিষ্ঠান থাকে না। আবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সমিতিও ২০ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করে যাচ্ছে। তাদের দাবির মধ্যে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সামঞ্জস্যপূর্ণ সম্মানী ভাতার কথা উল্লেখ আছে। সকল সমস্যার সমাধান দুই প্রকারের সরকার তথা কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। সে ব্যবস্থায় কেন্দ্র্রীয় সরকারের কর্মচারি ও স্থানীয় সরকারের কর্মচারী আলাদা থাকবে। কাজেই চেয়ারম্যান সমিতির উচিত হবে স্থানীয় সরকার শব্দটি কেন ব্যবহার করা হচ্ছে, স্থানীয় সরকারগুলোকে কেন পৃথক ‘সরকার’ করা হবে না এবং কেন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদ মর্যাদা অনুযায়ী সম্মানী ভাতা নিশ্চিত করা হবে না- এই মর্মে একটি রিট পিটিশন দাখিল করা।

লেখক: আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা
চেয়ারম্যান, সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ, ঈশ্বরদী, পাবনা। Cell-01711 074 310
 


 আরও পড়ুনঃ

 আরও পড়ুনঃ