নদী হত্যা মামলার আসামী আবুল হোসেন এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারার অধীনে জারীকৃত আদেশ মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় পাবনা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন,

২০০৪ এর ২৬(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করেছেন।বিধায় আসামী মোঃ আবুল হোসেন, স্ত্রী আসামী মোছাঃ তাছলিমা হোসেন (বয়স-৪৫ বছর),

ছেলে আসামী মোঃ রাজীব হোসেন (বয়স-৩০ বছর), পাবনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারার অধীনে জারীকৃত আদেশ মোতাবেক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অর্জিত সম্পদ ও আয়ের উৎসের বিবরণী দাখিল না করার দায়ে উক্ত আইনের ২৬(২)

ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজুর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এতে দুর্নীতি দমন কমিশনের পূর্বানুমোদন রয়েছে।দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করবেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পাবনার ই/আর নং ১৫/২০১৭ এর অনুসন্ধানকালে জানা যায় যে, আসামী মোঃ আবুল হোসেন প্রথম জীবনে ঘড়ি ও রেডিও এর মেকানিক হিসেব কাজ শুরু করেন।

অভিযোগটি অনুসন্ধানকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, তার নিজ নামে ১৯৯৭ সন হতে বর্তমান পর্যন্ত ১৯টি দলিল মোতাবেক পাবনা জেলার সদর থানাধীন শালগাড়িয়া,

ভুরভুরিয়া, দিলালপুর, নলমুড়া ও ছাতিয়ানী মৌজায় বিভিন্ন আয়তনের জমি, দোকান, বাড়ী ইত্যাদি স্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। পরবর্তীতে ক্রয়কৃত জমিতে ভবনাদি নির্মাণ করেন।

উক্ত দলিলাদি অনুযায়ী বর্ণিত স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ১৪,৮৬,৭২,৫৩০/- টাকা। এছাড়া তিনি ২০০৫ হতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ব্যবসার পুঁজি, শেয়ার, মটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার,

আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, নগদ অর্থ ও যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ মোট ২৫,৭৯,৪১,৫৩১/- টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। এতে তার অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় (১৪,৮৬,৭২,৫৩০ + ২৫,৭৯,৪১,৫৩১) =

৪০,৬৬,১৪,০৬১/- টাকা। তার ৩টি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নামে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিঃ, পাবনা শাখায় ঋণ আছে ২৯,১৩,৬০,৩৫০/- টাকা। ঋণ বাদে তার নীট সম্পদের মূল্য (৪০,৬৬,১৪,০৬১-২৯,১৩,৬০,৩৫০) = ১১,৫২,৫৩,৭১১/- টাকা। তিনি একজন আয়কর দাতা। তার আয়কর নথি নং টিআইএন-৪৬১-১০০-৮৮৭৮, সার্কেল-৯, পাবনা। আয়কর নথি অনুযায়ী ১৯৮৯-৯০ হতে ২০১৫-১৬ করবর্ষ পর্যন্ত ব্যবসার আয়, ফার্মের আয়, গৃহ সম্পত্তির আয়, মৎস্য আয়সহ তার মোট প্রদর্শিত আয় ৪,৬৯,২৪,৯৫৬/- টাকা। উল্লেখ্য, তিনি মৎস্য আয় বাবদ ২০০৭-০৮ করবর্ষে ৫০,০০,০০০/- টাকা; ২০০৮-০৯ করবর্ষে ৩০,০০,০০০/- টাকা ও ২০১২-১৩ করবর্ষে ১,০০,০০,০০০/- টাকাসহ মোট (৫০,০০,০০০ + ৩০,০০,০০০ + ১,০০,০০,০০০) = ১,৮০,০০,০০০/- টাকা আয় প্রদর্শন করেন। উক্ত আয়ের সমর্থনে মৎস্য চাষের জলমহাল, মৎস্য প্রকল্প, মৎস্য চাষ, মূলধন, ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মৎস্য আয় বাবদ প্রদর্শিত ১,৮০,০০,০০০/- টাকার আয়ের উৎস গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে তার মোট আয় পাওয়া যায় (৪,৬৯,২৪,৯৫৬ – ১,৮০,০০,০০০) = ২,৮৯,২৪,৯৫৬/- টাকা। তিনি একই সময়ে পারিবারিক খাতে ব্যয় প্রদর্শন করেন ২৮,৬৩,০৭৪/- টাকা। পারিবারিক ব্যয় বাদে তার মোট সঞ্চয় পাওয়া যায় (২,৮৯,২৪,৯৫৬ – ২৮,৬৩,০৭৪) = ২,৬০,৬১,৮৮২/- টাকা। তার অর্জিত নীট ১১,৫২,৫৩,৭১১/- টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে নীট আয়ের উৎস পাওয়া যায় ২,৬০,৬১,৮৮২/- টাকার সম্পদের। অবশিষ্ট (১১,৫২,৫৩,৭১১ -২,৬০,৬১,৮৮২) = ৮,৯১,৯১,৮২৯/- টাকার সম্পদ যা তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বলে প্রতিয়মান হয়। এভাবে তিনি নিজ নামে অর্জিত ৪০,৬৬,১৪,০৬১/- টাকার সম্পদের মধ্যে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৮,৯১,৯১,৮২৯/- টাকার সম্পদ অর্জনপূর্বক দখলে রেখেছেন। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারা ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর ১৭ বিধিমতে নির্ধারিত ফরমে ৭(সাত) কার্যদিবসের মধ্যে তার স্বনামে-বেনামে অর্জিত সম্পদ ও আয়ের উৎসের বিবরণী দাখিলের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পাবনার স্মারক নং- দুদক/সজেকা/পাবনা/সম্পদ বিবরণি/২০১৮/১১১২ তারিখ: ০৮/০৮/২০১৮ খ্রিঃ মোতাবেক কমিশনের অনুমোদনক্রমে আদেশ জারী করা হয়। উক্ত আদেশনামা তিনি গত ০৮/০৮/২০১৮ খ্রিঃ তারিখে নিজ স্বাক্ষরে গ্রহণ করেন। তার গত ১৬/০৮/২০১৮ খ্রিঃ তারিখে আবেদনের প্রেক্ষিতে বিধি মোতাবেক ৭(সাত) কার্যদিবস সময় বর্ধিত করা হয়। আদেশনামা অনুযায়ী তার অর্জিত সম্পদ ও আয়ের উৎসের বিবরণী সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা বরাবরে দাখিলের জন্য সময় বৃদ্ধির মেয়াদসহ সর্বশেষ সময়সীমা ছিল ০৪/০৯/২০১৮ খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত। তিনি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তার অর্জিত সম্পদ ও আয়ের উৎসের বিবরণী দাখিল না করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পাবনার ই/আর নং-১৫/২০১৭ এর অনুসন্ধানকালে দেখা যায় যে, আসামী মোছাঃ তাছলিমা হোসেন নিজ নামে ২০০২ হতে ২০১৩ সন পর্যন্ত ১৩টি দলিলের মাধ্যমে পাবনা জেলার সদর থানাধীন শালগাড়িয়া, ভুরভুরিয়া, নলমুড়া ও দিলালপুর মৌজায় বিভিন্ন আয়তনের জমি, পুকুর, ভিটা, বাগান, বাড়ী, দোকান ইত্যাদি স্থাবর সম্পদ অর্জন করেন; যার অর্জনকালীন মূল্য ১,৭৮,২৫,০০০/- টাকা। এছাড়া তিনি ২০০৫ হতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ব্যবসার পুঁজি, শেয়ার, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, মাইক্রোবাস ইত্যাদি বাবদ মোট ৭০,৭৬,২১৫/- টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পাবনার ই/আর নং ১৫/২০১৭ এর অনুসন্ধানকালে দেখা যায় যে, আসামী রাজীব হোসেন ১৯৮৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১১ সালে তিনি ছাত্র ছিলেন। ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি দলিল নং ৩২৫১/২০১১ মোতাবেক পাবনা জেলার সদর থানাধীন দিলালপুর মৌজায় .৩৪৭৮ একর দোকান, পতিত ও পথ শ্রেণীর জমি ক্রয় করেন। উক্ত স্থাবর সম্পদের ক্রয় মূল্য ২,১৩,১৫,০০০/- টাকা। এছাড়া তিনি ২০০৫ হতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, মাইক্রোবাস ও ব্যবসার পুঁজি বাবদ ২৩,৪৬,৫০০/- টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। এতে তার অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় (২,১৩,১৫,০০০ + ২৩,৪৬,৫০০) = ২,৩৬,৬১,৫০০/- টাকা। পাবনা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারার অধীনে জারীকৃত আদেশ মোতাবেক আসামী মোঃ আবুল হোসেন, স্ত্রী আসামী মোছাঃ তাছলিমা হোসেন (বয়স-৪৫ বছর), ছেলে আসামী মোঃ রাজীব হোসেন (বয়স-৩০ বছর), নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করে উক্ত আইনের ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করেছেন।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন