নিখোঁজ ৫ জনের মধ্যে ৪টি লাশ উদ্ধার, শোকের ছায়া

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল বিল এলাকার পাকপাড়া কাটাজোলায় শুক্রবার সন্ধ্যায় আনন্দভ্রমণে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ঈশ্বরদীর ৫ জনের মধ্যে এক শিশু, দুই মহিলা ও এক পুরুষের লাশ উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল।

এরা হলেন, ঈশ্বরদী ডাল গবেষনা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক সহকারী আঃ বেলাল গণি ও তাঁর স্ত্রী মমতাজ পারভীন শিউলী (৩০),ঈশ্বরদীর ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোশারফ হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ পারভীন (৩০) ও ঈশ্বরদীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী স্বপন বিশ্বাসের মেয়ে সাদিয়া বিশ্বাস (১২)।

এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ঈশ্বরদীর ক্রীড়া সামগ্রী ব্যবসায়ী স্বপন বিশ্বাস (৩৮)। ডুবে যাওয়া নৌকার ভেতর থেকে শাহনাজ পারভীন ও উপজেলার নিমাইচড়া বিল খেকে সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। ডুবে যাওয়া নৌকাটি উদ্ধার করা হয়েছে।

নৌকা ডুবির ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্ততঃ ১০ জন। এরমধ্যে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাওসার আলী (১৪)কে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিহত ও নিখোঁজ সবাই নৌকার ভেতর ছিলেন বলে বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানিযেছেন।

আহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিরা সকলেই ঈশ^রদীতে বসবাস করেন।ওই নৌকার যাত্রী ভাদালিয়া গ্রামের সাইদুর রহমান ও তার স্ত্রী সিনথিয়া পারভীন জানান, কুষ্টিয়া ও ঈশ্বরদী এলাকার ২৪ জন ব্যক্তি চলনবিল এলাকায় আনন্দভ্রমণের উদ্দেশ্যে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়ালব্রিজ হতে একটি নৌকা ভাড়া করেন।

দিনভর বিল অঞ্চলে ঘুরে সন্ধ্যায় ফেরার পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল বিল এলাকার কাটাজোলায় কোন কিছুর সাথে ধাক্কা লেগে নৌকাটি ডুবে যায়। আবার কেউ কেউ জানান,

সূর্য্য ডোবার মূহুর্তের অপরূপ দৃশ্য সেলফি তুলতে নৌকার ছইয়ের উপর অনেকেই একাসাথে উঠে পড়লে ছই ভেঙ্গে নৌকা একদিকে কাত হয়ে পড়লে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকা যাত্রীদের চিৎকারে আশপাশের নৌকা ও লোকজন ডুবে যাওয়া নৌকার যাত্রীদের উদ্ধার করে।

অনেকে সাঁতরিয়ে তীরে উঠে আসেন। নৌকা ডুবির ঘটনায় এক শিশুসহ ৫ জন নিখোঁজ হয়। রাতেই রাজশাহী হতে আসা ডুবুরিরা মমতাজ পারভীন শিউলীর লাশ উদ্ধার করে। গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত আরো দু’জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পরপরই চাটমোহর থানা পুলিশ ও চাটমোহরের ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। চাটমোহর থানার ওসি (প্রশাসন) মোঃ বদরুদ্দোজা বাবু ও হান্ডিয়াল ইউপি চেয়ারম্যান কে এম জাকির হোসেন নৌকা ডুবির ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হয়েছে ডুবে যাওয়া নৌকা।এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যার পর নৌকাডুবি ও নিখোঁজ হওয়ার খবর ঈশ্বরদীর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাতেই তাঁদের আত্মিয়-স্বজন ও শুভাণ্যধায়ীরা ওই এলাকায় ছুটে যান।

এরিপোর্ট লেখা (বিকেল-৩.৩০) পর্যন্ত স্বপন বিশ্বাসের লাশ উদ্ধার না হওয়ায় অনেকেই বিল এলাকায় অবস্থান করছেন। অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ এবং সামাজিক ব্যক্তিত্ব স্বপন বিশ^াস ঈশ^রদীর সকলের প্রিয় একজন মানুষ।

সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের সদস্য স্বপন বিশ^াস রাত ৯টার পর দোকান বন্ধ করে প্রতিদিনই ঈশ^রদী প্রেসক্লাব ও পরিষদে এসে চকলেট দিযে সকলের সাথে কুশল বিনিময় করতো। তাঁর স্মরণে বাজারের খন্দকার মার্কেটের সকল দোকান বন্ধ রাখা হয।

স্বপন বিশ্বাসের মেয়ে সাদিয়া বিশ্বাস (১২) ইম্বরদি এস এম উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী ছিল। তিনজনের ছোট্ট সংসারে বাবা ও মেয়ে হারিয়ে গেল। রইল শুধু স্ত্রী। এদিকে ডাল গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক সহকারী আঃ বেলাল গণি ও তাঁর স্ত্রী মমতাজ পারভীন শিউলী (৩০) এর মৃত্যুতে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

একমাত্র কণ্যা শর্মিও বাবা-মায়ের সাথে ছিল। নৌকাডুবির সময় বাবা গণি মেয়েকে কাঁধে করে উদ্ধারকারী নৌকায় তুলে দেয়ায় সে প্রাণে বেঁচে যায়। পরে স্ত্রীকে উদ্ধার করতে যেয়ে সে হারিয়ে যায়। অসুস্থ শর্মি ঘন ঘন অজ্ঞান হয়ে পড়ছে। শর্মি পাবনা এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের ছাত্রী বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গতঃ গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলার জিয়ালগাড়ি বিলে নৌকার ছইয়ের উপরে থাকা একই পরিবারের ৩ জন বিদ্যুতায়িত হয়ে নিহত হন। আহত হন নারীসহ অপর ৬ জন।

নিহতরা ছিলেন,পাবনা সদর উপজেলার রানীগ্রামের মোঃ আফজাল হোসেন,তার ভাই আনোয়ার হোসেন ও আনোয়ার হোসেনের ছেলে সোহান হোসেন। এরা ঈদুল আজহার পরদিন চলনবিলে নৌ-ভ্রমনে এসেছিলেন।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন