গ্রামারে বিশ্বাস করি’ গ্লামারে নয়

চলচ্চিত্রের দর্শকনন্দিত খলনায়ক মিশা সওদাগর। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান সভাপতি তিনি। এই শিল্পী অভিনয় শুরু করেন ১৯৮৬ সালে। এরপর অভিনয় করেছেন নয় শতাধিক ছবিতে, পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে সুনাম, যশ, খ্যাতি সবই পেয়েছেন। তার কাছে জানতে চাওয়া ছিল স্টারডম বিষয়টাকে তিনি কীভাবে দেখেন।স্টারডম প্রসঙ্গে মিশা সওদাগর বলেন, ‘স্টারডম আমার ক্যারিয়ারের একটা অংশ। অনেক তারকাকেই দেখি স্টারডমে বিশ্বাস করে।

তবে আমি তা করি না। আমি মনে করি স্টারডম একটা গ্ল্যামার। আমি বেসিক্যালি গ্ল্যামারে না, গ্রামারে বিশ্বাস করি। কারণ গ্ল্যামার আজ আছে, কাল নাও থাকতে পারে।
গ্রামার ঠিক থাকলে ওই অভিনেতাকে মৃত্যুর পরও মানুষ মূল্যায়ন করে থাকে।

গ্রামারটা একবার বুঝতে পারলে বাকিটা জীবন কিন্তু অনায়াশেই কাটানো যাবে। দুনিয়া পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু গ্রামার তো পরিবর্তন হবে না। স্টারডমটাকে আমি প্রথম জীবন থেকেই মূল্যায়ন করিনি, যা আমি আমার অভিনয় ক্যারিয়ারের প্রথম জীবনেই বুঝছি।

গ্ল্যামার তো জৌলুস। আজ আছে, কাল নেই। ব্যাকরণ ঠিক থাকলে পুরো জীবনটাই সুন্দর থাকবে। অভিনয় জীবনটা অনেক সাবলীল হবে। ক্যারিয়ারের বদৌলতে আমি স্টার হয়ে গেলাম, তা না। তখন তো জীবনটা অন্যরকম হয়ে যায়।

কতজনকেই তো দেখলাম। কী হলো, ওসব করে! আমি মানুষের প্রতি মূল্যবোধ ও মূল্যায়নটা সবসময়ই ঠিক রাখতে চাই।ধরো একজন মানুষ খুব সুন্দর করে ইংরেজিতে কথা বলে। কিন্তু সে যা বলে, তার শতকরা ৭০ ভাগই ভুল। তাতে লাভ কী।

ধরো আরেকজন যদি গ্রামার ঠিক রেখে ইংরেজি বলে, তাহলে তো তাকেই সবাই গ্রহণ করবে।এ ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাই। যে যেভাবে জীবনকে দেখবে, সে তার মতো করেই তার সময়টা কাছে পাবে। আমি তো সারাজীবন এভাবেই দেখেছি। আমার জীবনের দর্শনটা আমার কাছে সবসময় স্পষ্ট ছিল।’

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে মিশা সওদাগরকে দর্শক নানান রূপে চলচ্চিত্রের পর্দায় দেখতে পেয়েছে। একটা সময় গিয়ে এমনও হয়েছে যে, ব্যক্তি ও অভিনেতা মিশাকে নিয়ে দর্শকদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়ে গিয়েছিল। যদিও মিশা এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্বচ্ছ রাখতে চেয়েছেন, ব্যাখা দিয়েছেন বিভিন্ন দিক থেকে।

তবে এখন আর এ বিষয়ে কোনো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় না খুব একটা।সময়ের বদলেই এর মূল একটা কারণ। এ বিষয়ে জনপ্রিয় এই অভিনেতা বলেন, ‘আমি সবসময় নিজেকে ভাঙতে চেয়েছি, নতুন করে আবার গড়তেও চেয়েছি। আমাকে সর্বদা অনুশীলনের মধ্যে থাকতে হবে।

মাটির সাথে জীবন-যাপন করতে হবে। আমিও তাই করছি।কারণ আমি জানি যেদিন আমি মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাব, সেদিন আমার অভিনয় জীবনটাও দর্শকদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাবে। আমি তো তা কখনো চাই না, যার কারণে সে দিকটা আমি খুব সচেতনভাবে মেনটেইন করি। দর্শকরাই আমার সব।’

কয়েকদিন পরই ঈদুল আযহা। বরাবারের মতো এবারও সর্বাধিক ছবির খলনায়ক মিশা। কথা প্রসঙ্গে সে তথ্যও জানান। তার মুক্তির তালিকায় থাকা ছবিগুলো হলো ‘ক্যাপ্টেন খান’, ‘বেপরোয়া’, ‘মনে রেখো’, ‘জান্নাত’, ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’ ও ‘মাতাল’।

ছবির বিষয়ে মিশা বলেন, ‘এ চর্চা তো দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। কিন্তু আমি তো চাই, ভালো ভালো অভিনেতা ইন্ডাস্ট্রিতে আসুক, তাদের যোগ্যতা দিয়ে তারা তাদের নিজের অবস্থান ধরে রাখুক।’আলাপের একপর্যায়ে কথা হয় চলচ্চিত্র শিল্প নিয়েও। বেশ হতাশ তার কণ্ঠ।

‘একটা সময় ছিল সুপারস্টার আর্টিস্টের পেছনে টাকা বিনিয়োগ করলে ফেরত আসবেই। কিন্তু এখন কেউই বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না, টাকা বিনিয়োগ করলেই ফেরত আসবে।

এখন যদি কোনো সুপারস্টার আর্টিস্ট থাকত, তাহলে তো সব প্রযোজকই ছবি বানাত। তবে এখন সব প্রযোজকরা সিনেমা বানাচ্ছে না কেন? কিন্তু শাকিব খান অনেক দিন ধরেই তার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। তার কাজের প্রশংসা তো করতেই হবে’, বলেন মিশা।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন