প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পাবনায় উৎসবের আমেজ

মাহমুদা নাসরিনঃ প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পাবনায় উৎসবের আমেজ, চারদিকে সাজ সাজ রব।

প্রধান মন্ত্রী পাবনাবাসির জন্য নিয়ে আসছেন অনেক আনন্দের খবর। নতুন রূপে সাজানো হয়েছে সার্কিট হাউজ, সংস্কার হয়েছে রাস্তাঘাট, বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেষ্টুন, দেয়াল লেখন, তোরণ নির্মানসহ ব্যাপক সাজ সজ্জা, আলোক সজ্জায় সাজানো হয়েছে, জেলা ব্যাপী ।

পাবনা পুলিশ লাইনস মাঠে তৈরী হয়েছে বিশাল মঞ্চ। পাবনাবাসীর মুখে একই কথা, জননেত্রী শেখ হাসিনা পাবনার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। আমরা অত্যান্ত খুশী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রিকে পাবনাবাসী হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা দিয়ে বরণ করার জন্য প্রস্তুত।

প্রধামন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কর্মসুচী সুন্দর ক্রুটিবিহিন করার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছে পাবনা জেলা প্রশাসন।  পাবনা জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন।

জেলা প্রশাসন সুত্রে জানাগেছে- পাবনায় ৩১টি কাজের উদ্বোধন এবং ১৮ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন।

বাংলাদেশের মেগা প্রকল্প পাবনায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, এটি আজ আর স্বপ্ন নয় বাস্তব। বিশ্বের ২৮ তম পারমানবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের গর্বিত তালিকায়  ‘বাংলাদেশের’ নাম আজ  শুধু কল্পনা নয়।

বর্তমান সরকারের এবং সরকার প্রধানের দৃঢ় নেতৃত্বে পাবনার ঈশ্বরদীতে বাস্তব রুপ নিয়েছে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের। যে প্রকল্পে দ্বিতীয় পর্য়ায়ের কাজ উদ্বোধন করতে আসছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশনেত্রী মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঙ্গে করে নিয়ে আসছেন পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত আরও অর্ধশতাধিক প্রকল্প চালুর সুখবর।

পাবনার সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে দীর্ঘ দিনের মধ্যে এ যেন এককটি বিশেষ দিন। এদিন উদ্ভোধন হবে ঈশ্বরদী থেকে ঢালার চর রেলপথের। রেলপথের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পাবনার এতদঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত দাবির সফল বাস্তবায়ন হতে চলেছে।

জানা যায়, ১৯১৪ সনে হার্ডিংব্রীজ উদ্বোধনের সময় এ অঞ্চলের মানুষ দাবি তুলেছিল রেলপথের, তৎকালিন বৃটিশ সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এ রেলপথ করার কিন্তু পরবর্তীতে তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রাখে নাই।

পরবর্তীতে অনেক সরকার চলে গেলেও কোন সরাকারই পাবনা বাসির এ দাবির বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে নাই। স্বাধীনতার পর ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর সরকার এই রেলপথ তৈরীর লক্ষে জায়গা অধিগ্রহণ সহ কিছু কাজ বাস্তবায়ন করলেও পরবর্তি সরকারগুলো এ কাজে আর হাত দেয় নাই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আজকের সফরের মধ্যেদিয়ে যাত্রা শুরু করতে চলেছে ঈশ্বরদী ঢালার চর রেলপথ। আজ থেকে বহু প্রতিক্ষিত এ রেল পথে সগৌরবে স্ব-শব্দে চলবে রেলগাড়ী। হতে চলেছে ১০৪ বছরের দীর্ঘ প্রতিক্ষিত দাবির সফল বাস্তবায়ন।

আরও জানা যায়, এসব ঐতিহাসিক প্রকল্প ছাড়াও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন অর্ধ শতাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের। পাবনাবাসীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন পাবনা পুলিশ লাইন মাঠে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, “শনিবার প্রধানমন্ত্রী ঈশ্বরদী থেকে মাঝগ্রাম হয়ে পাবনা পর্যন্ত রেলওয়ে সেকশনে ট্রেন চলাচল; ঈশ্বরদী থানা ভবন;

পাবনা মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস; জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স;সিটি কলেজ, পাবনা এর একাডেমিক ভবন; সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ এর প্রশাসনিক ভবন;

সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ, আটঘরিয়া উপজেলার মাঝপাড়া, ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী, সলিমপুর, লক্ষীকুন্ডা, সাঁড়া, পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর এবং চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস।

ফরিদপুর উপজেলায় বড়াল নদীর ওপর ‘নারায়ণপুর সেতু’; ভাঙ্গুড়া উপজেলায় গোমানী নদীর ওপর ‘নৌবাড়িয়া সেতু’; চাটমোহর উপজেলায় গোমানী নদীর ওপর ‘নিমাইচড়া সেতু’; চাটমোহর উপজেলায় ‘কাটাখাল সেতু’; চাটমোহর উপজেলায় আত্রাই নদীর ওপর ‘আত্রাই সেতু’; সুজানগর উপজেলায় ‘ধোলাইখাল সেতু’।

ঈশ্বরদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স; চাটমোহর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স।

দেবত্তোর ডিগ্রি কলেজ, আটঘরিয়া এর একাডেমিক ভবন; খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ, আটঘরিয়া এর একাডেমিক ভবন; চাটমোহর মহিলা কলেজ এর একাডেমিক ভবন; বোনকোলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সুজানগর এর একাডেমিক ভবন; সুজানগর মহিলা কলেজ এর একাডেমিক ভবন; শহীদ নুরুল হোসেন ডিগ্রি কলেজ, সাঁথিয়া এর একাডেমিক ভবন; ঈশ্বরদী মহিলা কলেজ এর একাডেমিক ভবন;  ডেঙ্গারগ্রাম ডিগ্রি কলেজ, আটঘরিয়া এর একাডেমিক ভবন।

আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স;  শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, ভাঙ্গুড়া।

শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, চাটমোহর; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, ফরিদপুর; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, ঈশ্বরদী; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, আটঘরিয়া; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, সাঁথিয়া; শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা, সুজানগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন করবেন।”

এছাড়া তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সিগন্যালিংসহ রেললাইন নির্মাণ; জেলা সদরে ১০০০ আসনবিশিষ্ট অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল; সুজানগর উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র; আটঘরিয়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন; চাটমোহর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন; বেড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন; সুজানগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন; জেলা রেজিস্ট্রার অফিস ভবন; পুলিশ লাইন্স মহিলা পুলিশ ব্যারাক ভবন; সুজানগর উপজেলায় সাগরকান্দি ইউনিয়ন ও আটঘরিয়া উপজেলায় হাদল ইউনিয়ন ভূমি অফিস; পাবনা মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল; জেলা শিল্পকলা একাডেমি; সাঁথিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ; আদর্শ মহিলা কলেজ, পাবনা এর একাডেমিক ভবন; সাঁথিয়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন; বেড়া পৌরসভায় উচ্চ জলাধার ও পানি শোধনাগার নির্মাণ; সাঁথিয়া পৌরসভায় উচ্চ জলাধার নির্মাণ; ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

উল্লেখ, আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় প্রধানমন্ত্রী রূপপুর পারমানবিক প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের ফার্স্ট কংক্রিট পোরিং ডেট (এফসিডি) কাজের উদ্বোধন করবেন। বেলা ৩টায় পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন।

একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন