ঢাকা ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশের জেলা উপোজেলা পর্যায়ে দৈনিক স্বতঃকণ্ঠে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে । আগ্রহী প্রার্থীগন জীবন বৃত্তান্ত ইমেইল করুন shatakantha.info@gmail.com // দৈনিক স্বতঃকণ্ঠ অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন ০১৭১১-৩৩৩৮১১, ০১৭৪৪-১২৪৮১৪

‘চাঁদে অবতরণের স্বপ্ন বাংলাদেশের আছে’

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত সময় ০১:৫২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ জুলাই ২০২৩
  • / 151

২০২৪ সালের শুরুতেই চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে বাংলাদেশে তৈরি প্রথম স্যাটেলাইট ‘ফেমটো’। আকারে অতি ক্ষুদ্র এ স্যাটেলাইট চাঁদের আশপাশ পরিভ্রমণ করে নিয়ে আসবে তথ্য। সেই তথ্য দিয়ে চাঁদে মানুষ বসবাস করতে পারবে কি-না তা নিয়ে গবেষণা করবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

চাঁদ মানুষের বসবাসের জন্য উপযোগী কি-না তা দেখতে স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ করবে এমন ২২টি দেশকে নির্বাচন করে  নাসা। যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। দেশের অনেকগুলো টিমের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে নির্বাচিত হয় এজেন্সি টু ইনোভেইট (এটুআই)-এর ‘ফেমটো স্যাটেলাইট’। যে স্যাটেলাইটটি চলতি বছরের ডিসেম্বর বা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে বলে জানিয়েছেন এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবির।

 
সময় সংবাদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবির বলেন, ‘পৃথিবীর বিকল্প হিসেবে মানুষের বসবাসের উপযোগী ভূখণ্ড খুঁজতে নাসা একটি গবেষণা করতে যাচ্ছে চাঁদে। সেখানে ২০২৪ সালে ছোট ছোট মানববিহীন স্যাটেলাইট পাঠাবে সংস্থাটি। স্যাটেলাইটগুলো বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করা হবে এবং এর মাধ্যমে নাসা জানতে পারবে চাঁদের আবহাওয়া সম্পর্কে। জানতে পারবে চাঁদ মানুষের বসবাসের জন্য কতটা উপযোগী। নাসার এই পরিকল্পনায় অংশ নিচ্ছে বিশ্বের মাত্র ২২টি দেশ। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশও।’


তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষের বসতি স্থাপন করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব স্যাটেলাইট পাঠাবে নাসা। তার মানে চাঁদ মানুষের বসবাসের উপযোগী কি-না তা এ স্যাটেলাইটগুলো পর্যবেক্ষণ করে তথ্য উপাত্ত নিয়ে আসবে। আমরাও সেভাবেই আমাদের স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করছি।’

হুমায়ূন কবির বলেন, ‘নাসা কিন্তু একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। সে প্রতিযোগিতায় আমাদের টিম নির্বাচিত হয়েছে। ২০২৪ সালের শুরুতেই মহাকাশে আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকবে; যা চাঁদের দেশে আমাদের অস্তিত্বকে জানান দেবে। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।’


মহাকাশ নিয়ে গবেষণা ধর্মীয়ভাবে উৎসাহিত করা আছে মন্তব্য করে হুমায়ূন বলেন, ‘মহাকাশ গবেষণা নিয়ে মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন শরীফে ৫/৬টি আয়াত আছে। আমাদের জগতের ওপরে রয়েছে অপার বিস্ময়। যে বিষয়ে জানতে আপনাকে দুটো বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমত প্রযুক্তির প্রয়োগ ছাড়া আপনি যেতে পারবেন না। আপনাকে সেখানে প্রযুক্তি ব্যবহার করেই যেতে হবে, তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। আর তথ্য সংগ্রহের জন্য আপনার স্যাটেলাইট লাগবে।

আমাদের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আছে। কিন্তু এ স্যাটেলাইট আমাদের নিজেদের তৈরি না মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো স্যাটেলাইট নির্মাণের কাজ চলছে। নাসার সহযোগিতায় আমাদের এটুআইয়ের ৪০/৫০ জনের একটি তরুণ টিম দিনরাত পরিশ্রম করে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য ভবিষ্যতে জাতিকে মহাকাশের উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।

হুমায়ূন বলেন, এখন স্যাটেলাইটের ধারণা বদলাচ্ছে। ফেমটো স্যাটেলাইট সবচেয়ে আধুনিক ও ছোট সাইজের স্যাটেলাইট। মহাশূন্যে গবেষণা থেকে শুরু করে বাংলাদেশে তৈরি প্রথম স্যাটেলাইট। নাসার সঙ্গে কাজ করলেও এ স্যাটেলাইট তৈরির সকল কাজই বাংলাদেশে হচ্ছে। যা প্রায় শেষের পথে। বর্তমানে স্যাটেলাইটটি প্রোগ্রামিং ফেইজে আছে।


কবে নাগাদ স্যাটেলাইটটি চাঁদে অবতরণ করতে পারে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নাসার সঙ্গে আমাদের যে কথা হয়েছে তাতে এ বছরের শেষে অর্থাৎ ডিসেম্বরে কিংবা পরের বছরের শুরুতেই আমরা স্যাটেলাইটের সব কাজ শেষ করে নাসার কাছে পাঠাবো। পরে ওরা ওদের রকেট দিয়ে তা চাঁদে পাঠাবে।


হুমায়ূন বলেন, একই সঙ্গে আমরা আরেকটি কাজ করছি। স্যাটেলাইট পাঠানোর ক্ষেত্রে অনেক সময় রকেট লাগে। ভবিষ্যতে আমাদের তো রকেটও তৈরি করতে হবে। সেই জায়গাতে আমরা হাত দিয়েছি। ইতিমধ্যে রকেট তৈরির চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় আমরা দুইটি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ও পঞ্চাশ লক্ষ টাকা করে অনুদান দিয়েছি। তাছাড়া মহাকাশে এখন স্যাটেলাইটকেন্দ্রীক ব্যবসার পরিমাণ হচ্ছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার। সেই বিলিয়ন ডলারে আমরাও অংশগ্রহণ করতে চাই।


পরবর্তীতে ‘ফেমটো স্যাটেলাইট’ বিষয়ে কথা হয় টিম লিডার জাহিদ হাসান শোভনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে অনেকগুলো দল নাসার স্যাটেলাইটভিত্তিক প্রকল্পের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এতে নির্বাচিত হয় আমাদের প্রকল্প। যে প্রকল্পের আওতায় নাসা স্যাটেলাইটের ডিজাইন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠিয়েছে আমাদের কাছে। আমরা দেশে বসেই পরিপূর্ণ স্যাটেলাইট বানিয়ে তা নাসার কাছে পাঠাবো। পরে নাসা সেটি চাঁদে পাঠাবে।’


জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের স্যাটেলাইটটি অতি ক্ষুদ্র একটি স্যাটেলাইট। স্যাটেলাইটটির ওজন সর্বোচ্চ ২০ গ্রাম হবে বলে শর্ত দিয়েছে নাসা। সেভাবেই আমরা কাজ করছি। এই স্যাটেলাইটের কাজ হবে চাঁদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা। ২০২৪ সালের শুরুতেই এই স্যাটেলাইট চাঁদের উদ্দেশে পাঠানোর সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছে নাসা। আশা করি, বাংলাদেশে তৈরি প্রথম স্যাটেলাইট খুব শিগগিরই চাঁদে অবতরণ করবে।

এটুআই থেকে জানা যায়, স্যাটেলাইটের যাবতীয় কাঁচামাল ও রকেটের লঞ্চিং খরচ নাসার কলোরাডো স্পেস গ্র্যান্ট কন্সোর্শিয়াম বহন করছে। স্যাটেলাইটের মিশন প্ল্যানিং থেকে শুরু করে স্যাটেলাইট রি-ডিজাইনিং, অ্যাসেম্বলিং, টেস্টিং, রকেট লঞ্চিং এবং চাঁদে যাওয়ার পর মিশন কন্ট্রোল, ডাটা সংগ্রহ-পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে সার্বক্ষণিক সহায়তা বজায় রাখবে নাসা।


বিভিন্ন অ্যাডভান্স ডাটা সায়েন্স ও মেশিন লার্নিং এলগরিদম ব্যবহার করে চাঁদে স্থায়ী মানবসভ্যতা বিকাশের উপায় ও করণীয় খুঁজে বের করা হবে। এ ছাড়া চাঁদে কৃষিকাজ, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে স্যাটেলাইট ডাটা বিশ্লেষণ। এর আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি যন্ত্রাংশ পাঠিয়েছে নাসা। যা মাত্র ৩৬ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ও ৫ গ্রাম ওজনের হবে।  


ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ তিনটি ইতিহাস করতে চলেছে। প্রথমত, চাঁদের বুকে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের প্রথম গভীর মহাকাশ মিশন। তৃতীয়ত, প্রথম স্যাটেলাইট যা বাংলাদেশে অ্যাসেম্বলিং ও প্রোগ্রাম করা হবে।

এই রকম আরও টপিক

‘চাঁদে অবতরণের স্বপ্ন বাংলাদেশের আছে’

প্রকাশিত সময় ০১:৫২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ জুলাই ২০২৩

২০২৪ সালের শুরুতেই চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে বাংলাদেশে তৈরি প্রথম স্যাটেলাইট ‘ফেমটো’। আকারে অতি ক্ষুদ্র এ স্যাটেলাইট চাঁদের আশপাশ পরিভ্রমণ করে নিয়ে আসবে তথ্য। সেই তথ্য দিয়ে চাঁদে মানুষ বসবাস করতে পারবে কি-না তা নিয়ে গবেষণা করবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

চাঁদ মানুষের বসবাসের জন্য উপযোগী কি-না তা দেখতে স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ করবে এমন ২২টি দেশকে নির্বাচন করে  নাসা। যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। দেশের অনেকগুলো টিমের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে নির্বাচিত হয় এজেন্সি টু ইনোভেইট (এটুআই)-এর ‘ফেমটো স্যাটেলাইট’। যে স্যাটেলাইটটি চলতি বছরের ডিসেম্বর বা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে বলে জানিয়েছেন এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবির।

 
সময় সংবাদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবির বলেন, ‘পৃথিবীর বিকল্প হিসেবে মানুষের বসবাসের উপযোগী ভূখণ্ড খুঁজতে নাসা একটি গবেষণা করতে যাচ্ছে চাঁদে। সেখানে ২০২৪ সালে ছোট ছোট মানববিহীন স্যাটেলাইট পাঠাবে সংস্থাটি। স্যাটেলাইটগুলো বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করা হবে এবং এর মাধ্যমে নাসা জানতে পারবে চাঁদের আবহাওয়া সম্পর্কে। জানতে পারবে চাঁদ মানুষের বসবাসের জন্য কতটা উপযোগী। নাসার এই পরিকল্পনায় অংশ নিচ্ছে বিশ্বের মাত্র ২২টি দেশ। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশও।’


তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষের বসতি স্থাপন করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব স্যাটেলাইট পাঠাবে নাসা। তার মানে চাঁদ মানুষের বসবাসের উপযোগী কি-না তা এ স্যাটেলাইটগুলো পর্যবেক্ষণ করে তথ্য উপাত্ত নিয়ে আসবে। আমরাও সেভাবেই আমাদের স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করছি।’

হুমায়ূন কবির বলেন, ‘নাসা কিন্তু একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। সে প্রতিযোগিতায় আমাদের টিম নির্বাচিত হয়েছে। ২০২৪ সালের শুরুতেই মহাকাশে আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকবে; যা চাঁদের দেশে আমাদের অস্তিত্বকে জানান দেবে। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।’


মহাকাশ নিয়ে গবেষণা ধর্মীয়ভাবে উৎসাহিত করা আছে মন্তব্য করে হুমায়ূন বলেন, ‘মহাকাশ গবেষণা নিয়ে মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন শরীফে ৫/৬টি আয়াত আছে। আমাদের জগতের ওপরে রয়েছে অপার বিস্ময়। যে বিষয়ে জানতে আপনাকে দুটো বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমত প্রযুক্তির প্রয়োগ ছাড়া আপনি যেতে পারবেন না। আপনাকে সেখানে প্রযুক্তি ব্যবহার করেই যেতে হবে, তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। আর তথ্য সংগ্রহের জন্য আপনার স্যাটেলাইট লাগবে।

আমাদের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আছে। কিন্তু এ স্যাটেলাইট আমাদের নিজেদের তৈরি না মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো স্যাটেলাইট নির্মাণের কাজ চলছে। নাসার সহযোগিতায় আমাদের এটুআইয়ের ৪০/৫০ জনের একটি তরুণ টিম দিনরাত পরিশ্রম করে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য ভবিষ্যতে জাতিকে মহাকাশের উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া।

হুমায়ূন বলেন, এখন স্যাটেলাইটের ধারণা বদলাচ্ছে। ফেমটো স্যাটেলাইট সবচেয়ে আধুনিক ও ছোট সাইজের স্যাটেলাইট। মহাশূন্যে গবেষণা থেকে শুরু করে বাংলাদেশে তৈরি প্রথম স্যাটেলাইট। নাসার সঙ্গে কাজ করলেও এ স্যাটেলাইট তৈরির সকল কাজই বাংলাদেশে হচ্ছে। যা প্রায় শেষের পথে। বর্তমানে স্যাটেলাইটটি প্রোগ্রামিং ফেইজে আছে।


কবে নাগাদ স্যাটেলাইটটি চাঁদে অবতরণ করতে পারে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নাসার সঙ্গে আমাদের যে কথা হয়েছে তাতে এ বছরের শেষে অর্থাৎ ডিসেম্বরে কিংবা পরের বছরের শুরুতেই আমরা স্যাটেলাইটের সব কাজ শেষ করে নাসার কাছে পাঠাবো। পরে ওরা ওদের রকেট দিয়ে তা চাঁদে পাঠাবে।


হুমায়ূন বলেন, একই সঙ্গে আমরা আরেকটি কাজ করছি। স্যাটেলাইট পাঠানোর ক্ষেত্রে অনেক সময় রকেট লাগে। ভবিষ্যতে আমাদের তো রকেটও তৈরি করতে হবে। সেই জায়গাতে আমরা হাত দিয়েছি। ইতিমধ্যে রকেট তৈরির চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় আমরা দুইটি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ও পঞ্চাশ লক্ষ টাকা করে অনুদান দিয়েছি। তাছাড়া মহাকাশে এখন স্যাটেলাইটকেন্দ্রীক ব্যবসার পরিমাণ হচ্ছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার। সেই বিলিয়ন ডলারে আমরাও অংশগ্রহণ করতে চাই।


পরবর্তীতে ‘ফেমটো স্যাটেলাইট’ বিষয়ে কথা হয় টিম লিডার জাহিদ হাসান শোভনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে অনেকগুলো দল নাসার স্যাটেলাইটভিত্তিক প্রকল্পের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এতে নির্বাচিত হয় আমাদের প্রকল্প। যে প্রকল্পের আওতায় নাসা স্যাটেলাইটের ডিজাইন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠিয়েছে আমাদের কাছে। আমরা দেশে বসেই পরিপূর্ণ স্যাটেলাইট বানিয়ে তা নাসার কাছে পাঠাবো। পরে নাসা সেটি চাঁদে পাঠাবে।’


জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের স্যাটেলাইটটি অতি ক্ষুদ্র একটি স্যাটেলাইট। স্যাটেলাইটটির ওজন সর্বোচ্চ ২০ গ্রাম হবে বলে শর্ত দিয়েছে নাসা। সেভাবেই আমরা কাজ করছি। এই স্যাটেলাইটের কাজ হবে চাঁদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা। ২০২৪ সালের শুরুতেই এই স্যাটেলাইট চাঁদের উদ্দেশে পাঠানোর সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছে নাসা। আশা করি, বাংলাদেশে তৈরি প্রথম স্যাটেলাইট খুব শিগগিরই চাঁদে অবতরণ করবে।

এটুআই থেকে জানা যায়, স্যাটেলাইটের যাবতীয় কাঁচামাল ও রকেটের লঞ্চিং খরচ নাসার কলোরাডো স্পেস গ্র্যান্ট কন্সোর্শিয়াম বহন করছে। স্যাটেলাইটের মিশন প্ল্যানিং থেকে শুরু করে স্যাটেলাইট রি-ডিজাইনিং, অ্যাসেম্বলিং, টেস্টিং, রকেট লঞ্চিং এবং চাঁদে যাওয়ার পর মিশন কন্ট্রোল, ডাটা সংগ্রহ-পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে সার্বক্ষণিক সহায়তা বজায় রাখবে নাসা।


বিভিন্ন অ্যাডভান্স ডাটা সায়েন্স ও মেশিন লার্নিং এলগরিদম ব্যবহার করে চাঁদে স্থায়ী মানবসভ্যতা বিকাশের উপায় ও করণীয় খুঁজে বের করা হবে। এ ছাড়া চাঁদে কৃষিকাজ, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে স্যাটেলাইট ডাটা বিশ্লেষণ। এর আগে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি যন্ত্রাংশ পাঠিয়েছে নাসা। যা মাত্র ৩৬ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ও ৫ গ্রাম ওজনের হবে।  


ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ তিনটি ইতিহাস করতে চলেছে। প্রথমত, চাঁদের বুকে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের প্রথম গভীর মহাকাশ মিশন। তৃতীয়ত, প্রথম স্যাটেলাইট যা বাংলাদেশে অ্যাসেম্বলিং ও প্রোগ্রাম করা হবে।