ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশের জেলা উপোজেলা পর্যায়ে দৈনিক স্বতঃকণ্ঠে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে । আগ্রহী প্রার্থীগন জীবন বৃত্তান্ত ইমেইল করুন shatakantha.info@gmail.com // দৈনিক স্বতঃকণ্ঠ অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন ০১৭১১-৩৩৩৮১১, ০১৭৪৪-১২৪৮১৪

ঈশ্বরদীতে বিএনপির ইফতার মাহফিলে উপস্থিত তারেক রহমান

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত সময় ০৩:৪৬:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল ২০২৪
  • / 125



ঈশ্বরদীতে বিএনপির ইফতার মাহফিলে লন্ডন থেকে সরাসরি ভার্চুয়ালি যোগদান করেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার ৮ এপ্রিল বিকেলে ঈশ্বরদীর দরিনারিচা পশ্চিমপাড়া সুর্য প্রামানিকের ধান চাতাল মাঠে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে ভার্চুয়ালি যোগদান করেন তারেক রহমান।

পাবনা জেলা বিএনপির নেতৃত্বে ও মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর নির্দেশনায় ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সহযীতায় এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ইফতার মাহফিলে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খান ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী ও পাবনা জেলা বিএনপির সমন্বয়ক এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে তারেক রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যকালে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “ফেরাউন-নমরুদ টেকে নাই, হিটলার-মুসোলিনিও টিকে নাই, কোনো স্বৈরাচার, কোনো ফ্যাসিবাদ টিকে নাই, ইনশাআল্লাহ এরাও (আওয়ামীলীগও) টিকবে না। সত্যিকারের বিজয় আসবে এবং এই স্বৈরাচার সরকারও টিকবে না”।

তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষের ভাগ্য বদল করেছেন শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া। এখন তারেক রহমান করছেন। কারণ বাংলাদেশের সকল ইসলামী, বামদলসহ বিভিন্ন দল তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই ফ্যাসিবাদী আন্দোলনে শরিক হয়েছেন। একদিকে এই সরকারের সমস্ত প্রশাসন, আরেকদিকে সাধারণ নিরীহ ও নিপীড়িত জনগণ। দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকে তাঁর (তারেক রহমান) কথায় এ দেশের শতকরা ৯৫ শতাংশ মানুষ ডামি নির্বাচনের ভোট বর্জন করেছেন”।

বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, “আমি বলবো- আওয়ামী লীগের হাতে কসাইয়ের চাকু আর তারেক রহমানের হাতে মানবতার পতাকা। এ কারণে তিনি মানুষের খোঁজখবর নেন। ঈশ্বরদী ট্রেন বহরে হামলা এটা মিথ্যা ও জালিয়াতি, এটা শেখ হাসিনার নাটক। এটা জাতীয়তাবাদীদল বিএনপিকে শক্তিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র। কিন্তু বিএনপি হারিয়ে যাওয়া দল নয়”।

ইফতার মাহফিলে শেখ হাসিনার ট্রেন বহরে হামলা চালিয়ে হত্যা চেষ্টা মামলায় মৃত্যুদন্ড ও যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি থাকা ৪৭ নেতাকর্মীদের মধ্যে ৩৩ জনের পরিবারের মাঝে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা বিতরণ করা হয়।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সাবেক এমপি কেএম আনোয়ারুল ইসলাম, সেলিম রেজা হাবিব, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য জহুরুল ইসলাম বাবু, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মান্নান মাস্টার, যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল হক বাবু, আবু ওবায়দা শেখ তুহিন, নুর মোহাম্মদ মাসুম বগা, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার, সাবেক সহ-সভাপতি তৌফিক হাবিব, ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত জাকারিয়া পিন্টুর মা, সাবেক মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলুর স্ত্রী, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক দিনকালের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি আজিজুর রহমান শাহিনের স্ত্রী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় ২০১৯ সালের ৩ জুলাই স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আদালত বিএনপির নয়জন নেতাকর্মীকে মৃত্যুদন্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদন্ডের রায় দেন। এরপর থেকেই ৪৭ নেতাকর্মী কারাবন্দি রয়েছেন। এরমধ্যে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ৩ জন কারাগারে মারা গেছেন। দুইজন অসুস্থ্যজনিত কারণে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

এই রকম আরও টপিক

ঈশ্বরদীতে বিএনপির ইফতার মাহফিলে উপস্থিত তারেক রহমান

প্রকাশিত সময় ০৩:৪৬:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল ২০২৪



ঈশ্বরদীতে বিএনপির ইফতার মাহফিলে লন্ডন থেকে সরাসরি ভার্চুয়ালি যোগদান করেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার ৮ এপ্রিল বিকেলে ঈশ্বরদীর দরিনারিচা পশ্চিমপাড়া সুর্য প্রামানিকের ধান চাতাল মাঠে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে ভার্চুয়ালি যোগদান করেন তারেক রহমান।

পাবনা জেলা বিএনপির নেতৃত্বে ও মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর নির্দেশনায় ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সহযীতায় এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ইফতার মাহফিলে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম খান ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী ও পাবনা জেলা বিএনপির সমন্বয়ক এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে তারেক রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যকালে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “ফেরাউন-নমরুদ টেকে নাই, হিটলার-মুসোলিনিও টিকে নাই, কোনো স্বৈরাচার, কোনো ফ্যাসিবাদ টিকে নাই, ইনশাআল্লাহ এরাও (আওয়ামীলীগও) টিকবে না। সত্যিকারের বিজয় আসবে এবং এই স্বৈরাচার সরকারও টিকবে না”।

তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষের ভাগ্য বদল করেছেন শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া। এখন তারেক রহমান করছেন। কারণ বাংলাদেশের সকল ইসলামী, বামদলসহ বিভিন্ন দল তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই ফ্যাসিবাদী আন্দোলনে শরিক হয়েছেন। একদিকে এই সরকারের সমস্ত প্রশাসন, আরেকদিকে সাধারণ নিরীহ ও নিপীড়িত জনগণ। দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকে তাঁর (তারেক রহমান) কথায় এ দেশের শতকরা ৯৫ শতাংশ মানুষ ডামি নির্বাচনের ভোট বর্জন করেছেন”।

বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, “আমি বলবো- আওয়ামী লীগের হাতে কসাইয়ের চাকু আর তারেক রহমানের হাতে মানবতার পতাকা। এ কারণে তিনি মানুষের খোঁজখবর নেন। ঈশ্বরদী ট্রেন বহরে হামলা এটা মিথ্যা ও জালিয়াতি, এটা শেখ হাসিনার নাটক। এটা জাতীয়তাবাদীদল বিএনপিকে শক্তিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র। কিন্তু বিএনপি হারিয়ে যাওয়া দল নয়”।

ইফতার মাহফিলে শেখ হাসিনার ট্রেন বহরে হামলা চালিয়ে হত্যা চেষ্টা মামলায় মৃত্যুদন্ড ও যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবন্দি থাকা ৪৭ নেতাকর্মীদের মধ্যে ৩৩ জনের পরিবারের মাঝে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা বিতরণ করা হয়।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সাবেক এমপি কেএম আনোয়ারুল ইসলাম, সেলিম রেজা হাবিব, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য জহুরুল ইসলাম বাবু, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মান্নান মাস্টার, যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল হক বাবু, আবু ওবায়দা শেখ তুহিন, নুর মোহাম্মদ মাসুম বগা, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার, সাবেক সহ-সভাপতি তৌফিক হাবিব, ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত জাকারিয়া পিন্টুর মা, সাবেক মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলুর স্ত্রী, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক দিনকালের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি আজিজুর রহমান শাহিনের স্ত্রী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় ২০১৯ সালের ৩ জুলাই স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আদালত বিএনপির নয়জন নেতাকর্মীকে মৃত্যুদন্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদন্ডের রায় দেন। এরপর থেকেই ৪৭ নেতাকর্মী কারাবন্দি রয়েছেন। এরমধ্যে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত ৩ জন কারাগারে মারা গেছেন। দুইজন অসুস্থ্যজনিত কারণে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।