ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞপ্তি :
সারাদেশের জেলা উপোজেলা পর্যায়ে দৈনিক স্বতঃকণ্ঠে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে । আগ্রহী প্রার্থীগন জীবন বৃত্তান্ত ইমেইল করুন shatakantha.info@gmail.com // দৈনিক স্বতঃকণ্ঠ অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন ০১৭১১-৩৩৩৮১১, ০১৭৪৪-১২৪৮১৪

ঈশ্বরদীতে মেস থেকে ট্রাঙ্কে লুকানো কিশোরের টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত সময় ০৯:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪
  • / 133

ক্রনন্দরত নিহত তপুর মা। ছবিঃ সৌরভ কুমার দেবনাথ।



পাবনার ঈশ্বরদীর একটি মেস থেকে তপু হোসেন (১৪) নামে ট্রাঙ্কে লুকানো অবস্থায় এক কিশোরের টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিখোঁজের ৭ দিন পর শনিবার ২২ জুন বিকালে ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের পেছনে মশুরিয়াপাড়ার অরণ্য ছাত্রাবাসের তিন তলার ৩০৫ নং কক্ষে তপুর মরদেহর সন্ধান পাওয়া গেছে।

নিহত তপু হোসেন সরকারী কলেজ সংলগ্ন খান মঞ্জিল এলাকার রিক্সা চালক আবুল কাশেমের ছেলে।

নিহত তপুর বড় ভাই অপু বলেন, এই মাসের ১৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১ টা থেকে তপুর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ওইদিন রাত ১০ টার দিকে তপুর ফোন নম্বর থেকে জানানো হয় আপনার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। বিকাশে ৩০ হাজার টাকা না দিলে তপুকে হত্যা করা হবে। তখন খরচসহ ৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তপুর ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপরদিন আমার মা বাদী হয়ে থানায় জিডি করেন। এরপর আজকে পুলিশ মরদেহের খোঁজ পান।

অপু আরও জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বন্ধুদের দিয়ে বাড়ির পাশের অরণ্য ছাত্রাবাসের তিন তলার ওই কক্ষে নিয়ে হত্যা করে। এরপর মরদেহ টুকরো টুকরো করে ট্রাঙ্কে ভরে রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়।

অরণ্য ছাত্রাবাসের ৩০৪ নং কক্ষে থাকা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ৩য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটিতে আমি গত ১১ জুন বাড়িতে চলে যায়। শনিবার দুপুরের দিকে ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষে ফিরি। দরজার কাছে আসলে ভিতর থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। পাশের ৩০৫ নং কক্ষের ভেতর থেকে দরজা দিয়ে বের হওয়া রক্ত দেখতে পেয়ে আমি মেসের আয়ার মাধ্যমে মেস মালিককে জানাই। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কক্ষের তালা খুলে ট্রাঙ্কের ভিতরে রাখা মরদেহের টুকরো দেখতে পান।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত তপু একই এলাকার কয়েকজন উঠতি বয়সী মাদকাসক্ত ছেলেদের সাথে চলাফেরা করতো। তারা সব সময় স্থানীয় হাসুর দোকানে বসে আড্ডা দিত। সম্প্রতি তপুও মাদক সেবন শুরু করেছিল। ঈদের আগে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করেই হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, নিহত তপুর মা বাদী হয়ে থানায় গত ১৬ জুন একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। আজকে মশুড়িয়া পাড়ার একটি মেসে ট্রাঙ্কের মধ্যে টুকরো টুকরো অবস্তায় অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া গেছে। এই সূত্র ধরেই তদন্ত করে সন্দেহজনক তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতদের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, আটককৃতরাসহ নিহত তপু মাদকসেবী ছিল। মাদক সেবনকে কেন্দ্র করেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ক্রাইম পেট্রোলে ক্রাইমসিন দেখে ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকান্ডের মত লাশ গুমের পরিকল্পনা করে। সেভাবে তারাও তপুকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে ট্রাঙ্কের মধ্যে রেখেছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। মরদেহ শনাক্তের লক্ষ্যে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাবনা পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) আকবর আলী মুন্সি বলেন, হত্যার রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অহেতুক যেন কাউকে হয়রানি না করা হয় সেদিকে লক্ষ রাখার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত হত্যাকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না।

এই রকম আরও টপিক

ঈশ্বরদীতে মেস থেকে ট্রাঙ্কে লুকানো কিশোরের টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত সময় ০৯:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪



পাবনার ঈশ্বরদীর একটি মেস থেকে তপু হোসেন (১৪) নামে ট্রাঙ্কে লুকানো অবস্থায় এক কিশোরের টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিখোঁজের ৭ দিন পর শনিবার ২২ জুন বিকালে ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের পেছনে মশুরিয়াপাড়ার অরণ্য ছাত্রাবাসের তিন তলার ৩০৫ নং কক্ষে তপুর মরদেহর সন্ধান পাওয়া গেছে।

নিহত তপু হোসেন সরকারী কলেজ সংলগ্ন খান মঞ্জিল এলাকার রিক্সা চালক আবুল কাশেমের ছেলে।

নিহত তপুর বড় ভাই অপু বলেন, এই মাসের ১৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১ টা থেকে তপুর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ওইদিন রাত ১০ টার দিকে তপুর ফোন নম্বর থেকে জানানো হয় আপনার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। বিকাশে ৩০ হাজার টাকা না দিলে তপুকে হত্যা করা হবে। তখন খরচসহ ৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তপুর ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপরদিন আমার মা বাদী হয়ে থানায় জিডি করেন। এরপর আজকে পুলিশ মরদেহের খোঁজ পান।

অপু আরও জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বন্ধুদের দিয়ে বাড়ির পাশের অরণ্য ছাত্রাবাসের তিন তলার ওই কক্ষে নিয়ে হত্যা করে। এরপর মরদেহ টুকরো টুকরো করে ট্রাঙ্কে ভরে রেখে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়।

অরণ্য ছাত্রাবাসের ৩০৪ নং কক্ষে থাকা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ৩য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটিতে আমি গত ১১ জুন বাড়িতে চলে যায়। শনিবার দুপুরের দিকে ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষে ফিরি। দরজার কাছে আসলে ভিতর থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। পাশের ৩০৫ নং কক্ষের ভেতর থেকে দরজা দিয়ে বের হওয়া রক্ত দেখতে পেয়ে আমি মেসের আয়ার মাধ্যমে মেস মালিককে জানাই। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কক্ষের তালা খুলে ট্রাঙ্কের ভিতরে রাখা মরদেহের টুকরো দেখতে পান।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত তপু একই এলাকার কয়েকজন উঠতি বয়সী মাদকাসক্ত ছেলেদের সাথে চলাফেরা করতো। তারা সব সময় স্থানীয় হাসুর দোকানে বসে আড্ডা দিত। সম্প্রতি তপুও মাদক সেবন শুরু করেছিল। ঈদের আগে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করেই হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, নিহত তপুর মা বাদী হয়ে থানায় গত ১৬ জুন একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। আজকে মশুড়িয়া পাড়ার একটি মেসে ট্রাঙ্কের মধ্যে টুকরো টুকরো অবস্তায় অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া গেছে। এই সূত্র ধরেই তদন্ত করে সন্দেহজনক তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতদের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, আটককৃতরাসহ নিহত তপু মাদকসেবী ছিল। মাদক সেবনকে কেন্দ্র করেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ক্রাইম পেট্রোলে ক্রাইমসিন দেখে ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকান্ডের মত লাশ গুমের পরিকল্পনা করে। সেভাবে তারাও তপুকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে ট্রাঙ্কের মধ্যে রেখেছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। মরদেহ শনাক্তের লক্ষ্যে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাবনা পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) আকবর আলী মুন্সি বলেন, হত্যার রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অহেতুক যেন কাউকে হয়রানি না করা হয় সেদিকে লক্ষ রাখার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত হত্যাকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না।