দৌলতপুরে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক

দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহারুল ইসলাম একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে আহুত মিটিংয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় থেকে অভিযুক্তকে আটক করে দৌলতপুর থানা পুলিশ।

ভেড়ামারা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:৩৩ অপরাহ্ন, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শাখার সহকারী শিক্ষক নাহারুল ইসলামকে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গতকাল বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় থেকে আটক করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ।

আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর সহকারি শিক্ষক নাহারুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবত তার নিজ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করে আসছে বলে অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রী। অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ কমিটির জরুরী মিটিং ডাকা হয়। মিটিংয়ে লোকজন উপস্থিত হতে শুরু করলে, বিষয়টি বিদ্যালয় ছাড়িয়ে বাহিরেও চলে যায়। এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস থেকে বাইরে বের হয়ে আসে এবং আন্দোলন শুরু করে। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে দৌলতপুর থানা পুলিশকে জানানো হলে থানা পুলিশ এসে সহকারী শিক্ষক নাহারুলকে আটক করে নিয়ে যায়। বিষয়টা আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেছি। নাহারুল ইসলাম-পূর্বেও এরকম আরেকটি ঘটনাতে ৮ মাস বহিস্কৃত ছিলেন।

বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণীর ছাত্রীরা বলেন, নাহারুল স্যার বিভিন্ন সময়ে আমাদের তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে আমাদের আপত্তিকর স্থানে হাত দেয় ও জড়িয়ে ধরে কিস্ করার কথা বলেন এবং আমরা যারা তার কাছে প্রাইভেট পড়ি তাদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ভাবে যৌন হয়রানি করেন। আমরা এই শিক্ষকের বিচার চাই।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হুগোলবাড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা কমিটির লোকজন জরুরি মিটিং কল করি। বুধবার দুপুরে মিটিংয়ে বসি। পরে ছাত্রীদের বক্তব্যও শুনি। বক্তব্য শুনে আমরা ব্যথিত হয়েছি – বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছ থেকে এধরনের আচরণ আমরা আশা করিনি। তাই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যালয়ের পক্ষে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সরদার আবু সালেক বলেন, মোবাইল ফোনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে জানানোর সাথে সাথে আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছি। ছাত্রীদের বক্তব্য শুনে আমার কাছে মনে হয় নাহারুল ইসলাম এই কাজের সাথে জড়িত। তবে তদন্ত করে যদি জড়িত থাকার সত্যতা পাই তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।

এদিকে এক ছাত্রীর অভিভাবক বাদি হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ জাবীদ হাসান বলেন, নাহারুল নামে এক শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 


 আরও পড়ুনঃ

 আরও পড়ুনঃ


একই ধরনের খবর

মন্তব্য করুন

[gs-fb-comments]